প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হেলাল মহিউদ্দীন: জঙ্গিবাদ টানার কষ্টকল্পিত বালখিল্যতা প্রদর্শন আসলেই হাস্যকর!

হেলাল মহিউদ্দীন : ‘খোদা হাফেজ’ ইংরেজি ‘Take care’ অর্থাৎ ‘ Take care of yourself’ ফার্সি-ঊর্দূর মিশ্র ট্র্যাডিশনে ‘খোদা’ মানে ‘ংবষভ’, বাংলায় ‘নিজ’ বাংলায় ‘নিজের যত্ন নিও’ নিজেকে হেফাজতে রেখো নিজের হেফাজত করো। আর ‘আল্লাহ হাফেজ’ মানে ‘আল্লাহ তোমার হেফাজত করুন’। বিষয় আসলে এতোটাই সোজাসাপ্টা। এটা নিয়ে কিছুদিন আগের মহাতুলকালামে চুপ থাকাই সঙ্গত ভেবেছিলাম। কিন্তু আজ আবার এই সক্রান্ত একটি লেখা বেশ শেয়ার হচ্ছে দেখে মনে হলো আবারও না নতুন করে ঝামেলা বাঁধে।

এই উপমহাদেশে ‘খোদা হাফেজ’ বলা ছিলো ৪০০-৫০০ বছরের অভ্যস্ততার অংশ। সহজে বলার জন্য সহজ। বিদ্যাসাগর পরবর্তি চলিত বাংলা প্রতিষ্ঠা পাবার পর চিঠিপত্রের শেষে নিজের যত্ন নিও লেখা হতো। কিন্তু কথ্যভাষায় নিজের যত্ন নিও বাঙালি মুসলমানের মুখে আসতো না। যেমন, আমারই মুখে আসে না। আসবেও না। এটিই স্বাভাবিক। তাই ‘খোদা হাফেজই’ চলছিলো।

লেখক লিখেছেন মধ্যপ্রাচ্যের আরবীয়রা ‘ফি আমানিল্লাহ’ বলে, ‘খোদা হাফেজ’ বলে না। মধ্যপ্রাচ্যে যাইনি। কিন্তু ২০০২-২০০৩ সালের দিকে কানাডার ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ছাত্রদের আয়োজনে এক বিশাল উন্মুক্ত ইফতার পার্টিতে গিয়েছিলাম। বেরোবার পথে প্যাকেট ফুড সার্ভ করছিলেন পাঁচ-ছয়জন। প্রত্যেকের মুখে ‘আল্লাহ হাফেজ’ শুনেছি। যারা প্যাকেট নিচ্ছিলেন, তারাও যাজাকাল্লাহ, ‘আল্লাহ হাফেজ’ই বলছিলেন। আমিও সবার দেখাদেখি তাই বলেছি (যদিও অভ্যাস ‘খোদা হাফেজ’ বলা)। ৯০ এর দশকের পর হতে ব্যাপক সংখ্যায় বাঙালি শ্রমিকরা মধ্যপ্রাচ্যে ও মালয়েশিয়ায় গেলেন। তারা শিখে এসে ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলছেন নিজেই অনেককে দেখেছি। আরব দেশে প্রচিলত না হলে তারা কীভাবে শিখলেন? তারা র্চচাটি পরিবারে এবং সমাজে ছড়িয়েছেন। লোকমুখে ফিরে ফিরেই নতুন ভাষা দাঁড়িয়ে যায়।

মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ায় ‘খোদা হাফেজ’ নেই, অনন্তকালই ‘আল্লাহ হাফেজ’। গ্লোবালাইজেশনের কারণে এইসব দেশে যাওয়া-আসা, ভ্রমণনির্ভর তাবিলীগীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ইত্যাদির মাধ্যমেও ‘আল্লাহ হাফেজ’ প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। জরাথ্রুস্ট ধর্মানুযায়ী জ্ঞানের দেবতা ‘আহুরা-মাজদা’র আরেক নাম ‘খোদা’। সে সাকার, নিরাকার নয়। তার অসংখ্য মূর্তিও আছে। বিষয়টি ইসলামের নিরাকার ঈশ্বর ধারণার সঙ্গে অবশ্যই সাংঘর্ষিক। তাই চিন্তাশীল ধর্মাচারীরা হয়তো ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলতে শিখেছেন যাতে শিরক না হয়। ধর্মানুরাগীদের শুদ্ধ হতে চাওয়ার চেষ্টা খারাপ হতে যাবে কেন? সকল ভাষারই বিবর্তন গ্রহণ, বর্জন, সংস্কার এভাবেই হয়। বিশ্বায়নের প্রভাবযুক্ত এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মধ্যে অহেতুক ধর্ম বা জঙ্গিবাদ টানার কষ্ট কল্পিত বালখিল্যতা প্রদর্শন আসলেই হাস্যকর।

সর্বাধিক পঠিত