প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বাংলাদেশ-ভারতের নৌ বাণিজ্যে বড় বাধা নদীর নাব্য

মাছুম বিল্লাহ: [২] ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে নৌপথে পণ্য পরিবহন শুরু হওয়ার পর নৌপথের নাব্যতা সংকটের কারণে তা এখন বন্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই কারণে ভারত থেকে নৌপথে পাথর আমদানির কার্যক্রমও ধুকছে। এ সংকট নিরসনে দুই দেশের নৌপথের দ্রুত ড্রেজিং ছাড়া কোনো উপায় দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।

[৪] সম্প্রতি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার নৌ প্রটোকলের আওতায় নৌপথে পণ্য পরিবহণ উদ্বোধন করা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে গোমতি নদী দিয়ে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ত্রিপুরার সোনামুড়ায় গেছে পণ্যের প্রথম চালান। আর চলতি মাসের প্রথমে সিলেটের কুশিয়ারা নদী দিয়ে দ্বিতীয় চালান গেছে আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জে। কিন্তু এই দুই নৌপথেই নাব্যতা সংকটসহ রয়েছে কম উচ্চতার ব্রিজের সমস্যা। আশুগঞ্জ থেকে করিমগঞ্জের মাঝপথে কার্গো জাহাজ থেকে ট্রলারে করে পণ্য পরিবহণ করা হয়েছে। যার কারণে বাংলাদেশি পণ্যের জাহাজ গ্রহণের পূর্ব নির্ধারিত অনুষ্ঠান বাতিল করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

[৫] এ ছাড়া গত ৯ মাস আগে ভারতের আসামের ধুবরি ও কুড়িগ্রামের চিলমারী নৌবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি শুরু হলেও এখন নাব্যতা সংকেটে ধুকছে। দু’দেশের যৌথ উদ্যোগে এ নৌপথে ড্রেজিংয়ের কাজ চললেও তা কোনো কাজে আসছে না। ভারতীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দাবি, প্রতির্মহুর্তে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় ড্রেজিং স্থায়ী হচ্ছে না।

[৬] বিআইডাব্লিউটিএ-এর অতিরিক্ত পরিচালক সাইফুল ইসলাম আমাদের সময় ডটকমকে বলেছেন, নাব্যতা সংকটের কারণে দু’দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহণে কিছু সমস্যা হলেও আগামীতে তা থাকবে না। ব্রহ্মপুত্র নদের বাংলাদেশের চিলমারী ও ভারতের ধুবরী এবং সিলেটের জকিগঞ্জ ও ভারতের করিমগঞ্জ রুটের কুশিয়ারা নদীতে যৌথ উদ্যোগে ড্রেজিং চলছে। ড্রেজিং শেষ হলে আর নাব্যতার সংকট থাকবে না।

[৭] নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) ভোলানাথ দে আমাদের সময় ডটকমকে জানান, বাংলাদেশ-ভারত নৌপথে নাব্যতা সংকট আছে। সেগুলো ড্রেজিং করা হচ্ছে। ত্রিপুরার সঙ্গে নৌ রুটে গোমতী নদী ড্রেজিংয়ের জন্য একটি প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। সেটা খুব দ্রুত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) উঠবে।

[৮] তিনি বলেন, ধুরবী-চিলমারী রুটে দু’দেশের যৌথ উদ্যোগে ড্রেজিং চলছে। কিন্তু ড্রেজিং টিকছে না। কারণ নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে এই সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টা নিয়ে ভারতীয় ঠিকাদার বিআইডাব্লিউটিএ’র কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবে। এখন ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থ্যাৎ যেখানে নৌকা আটকে যাবে সেখানেই ড্রেজিং করে ক্লিয়ার করা হবে।

[৯] এ বিষয়ে ভারতের ধুবরীর পাথর রপ্তানিকারক আতাউর রহমান টেলিফোনে আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, নাব্যতা সংকটের কারণে ভেসেলগুলো আটকে যাচ্ছে। এখান থেকে আগে প্রতিদিন ভেসেল ছেড়ে যেত। কিন্তু এখন সপ্তাহে একটি পাথরবোঝাই ভেসেল যাচ্ছে।

[১০] গত ৯ মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টন পাথর রপ্তানি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভারতের ১২ থেকে ১৫ জন রপ্তানিকারক রয়েছে। কিন্তু নৌপথের সমস্যার কারণে অনেকের রপ্তানির আগ্রহ কমে যাচ্ছে।

 

সর্বাধিক পঠিত