প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জ.ই. মামুন: বিকাশের মাধ্যমে আয়কর দেবার ক্ষেত্রে কেউ যেন প্রতারণার শিকার না হই

জ.ই. মামুন: আয়কর দিতে আমার ভালো লাগে। কর দিয়ে একধরনের আনন্দ পাই। এই যে দেশে রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজ, ব্রিজ, ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল হচ্ছে মনে হয় এগুলোতে আমারও মালিকানা আছে। এই যে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিরা, শিক্ষকেরা, পুলিশেরা, বিচারকরা বেতন পাচ্ছেন, আমারও টাকা সেখানে আছে। আবার ভাবি, যারা রাষ্ট্রের টাকা মেরে দিচ্ছেন তার মধ্যে আমার টাকাও আছে। মোটকথা আয়কর দিই বলে বঙ্গোপসাগরে এক ফোঁটা জলের পরিমাণ হলেও নিজেকে বাংলাদেশের মালিক মনে হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, আয়কর বিভাগ তাদের সঙ্গে নানা ধরনের কাজ করার অভিজ্ঞতাও আমার কম না। গতবারও তাদের একটা টিভিসিতে কাজ করলাম। কয়েক বছর আগে আরেকটা সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনচিত্রে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক, অভিনেতা আলী যাকেরের মতো গুণীজনের সাথে আমারও অভিনয় করার সুযোগ হয়েছিলো- সময়মতো কর পরিশোধ প্রসঙ্গে। আর আয়কর নিয়ে কতো যে রিপোর্ট আর টকশো করেছি তার ইয়ত্তা নেই। এসব কারণেও কর দেয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহ এবং কিছুটা বাধ্যবাধকতা বেশি কাজ করে।

কিন্তু এবার আয়কর দিতে গিয়ে বাঁধলো বিপত্তি। প্রতিবার অফিসার্স ক্লাবে কর মেলায় গিয়ে সহজে আয়কর দেওয়ার ঝামেলা শেষ করে ফেলা যেতো। কিন্তু এবার করোনার কারণে যেহেতু করমেলা হলো না তাই একটু অস্বস্তিতে ছিলাম। হঠাৎ কে যেন বললো বিকাশে আয়করও দেয়া যায়। বলে রাখা ভালো, করোনকালে আমি বিকাশের বিশেষ ভক্ত হয়েছি। কাগজের টাকা হাতে নিতে গেলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি বলে রোজকার কেনাকাটা, ফোন বিল, বাসার বিদ্যুৎ বিল সবই বিকাশে পরিশোধ করি। ডিজিটাল বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজেকে তখন বেশ স্মার্ট মনে হয়। আর বিকাশে আয়কর দিতে পারার খবর শুনে তো আমি মহা খুশি।

টেলিভিশনের প্রিয় মুখ শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম আমার একুশের আমলের সহকর্মী, বন্ধু। সে এখন বিকাশের কর্তা গোছের একজন। তাই বিকাশের যেকোনো বিষয় জানার হলে ডালিমই আমার ভরসা। তার কাছ থেকে জানা গেলো, বিকাশ অ্যাপে ঢুকে ‘ইনকাম ট্যাক্স পেমেন্ট’ ক্লিক করে নির্দেশনা অনুসারে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে কয়েক ধাপেই আয়কর পরিশোধ করা সম্ভব এবং ঘরে বসে ভিড় এড়িয়ে কতো সহজে যে কাজটি করে ফেলা যাচ্ছে!

মাঝে মাঝে ভাবি, প্রযুক্তি কতো সহজ করে দিয়েছে জীবনকে। আবার ভাবি এই প্রযুক্তির কারণে কতো রকম প্রতারকও তৈরি হয়েছে দেশে। বোকার মতো প্রতারকদের ফাঁদে পা দিয়ে মাঝেমধ্যেই শুনি নিজের বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন-ওটিপি শেয়ার করে বিপদে পড়েন অনেকে। টাকাপয়সা নিয়ে যায় প্রতারক। বিকাশের মাধ্যমে আয়কর দেবার ক্ষেত্রে কেউ যেন প্রতারণার শিকার না হই, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানাই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত