প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রাজশাহীর খাদ্যগুদামগুলোতে কমেছে খাদ্যশস্য মজুদের পরিমাণ

মঈন উদ্দীন: [৩] প্রতিবছর এ সময় যে পরিমাণ খাদ্যশস্য মজুদ থাকে তার তুলনায় ১৩ হাজার ১৪০ দশমিক ৪৬৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য কম রয়েছে। অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে এবার আমনের আবাদ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অনেক কৃষক। আবাদ নষ্টসহ কমেছে ফলন। এতে আমনের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর সরকারি মজুদ কম থাকা ও আমন উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে তৈরি হওয়া শঙ্কাকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে সিন্ডিকেট তৈরি করে বাজারে অস্থিতিশীল করতে পারে অসাধু ব্যবসায়ীরা। তাই আগে থেকেই সতর্ক থাকতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

[৩] রাজশাহী খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের তথ্যমতে, ২৭ অক্টোবরের হিসাব অনুযায়ী, খাদ্য গুদামে এখন পর্যন্ত মজুদ রয়েছে ১০ হাজার ৭০৫ দশমিক ৪৫৫ মেট্রিক খাদ্যশস্য। এরমধ্যে চাল ৭ হাজার ৯৯১ দশমিক ৪৪৬ মেট্রিক টন এবং ২ হাজার ৬৭৬ দশমিক ৮৩৬ মেট্রিক টন গম। ধানের মজুদ ৩৭ দশমিক ১৭৩ মেট্রিক টন।

[৪] গত বছরের একই সময়ে গুদামে খাদ্যশস্য মজুদ ছিল ২৩ হাজার ৮৪৫ দশমিক ৯১২ মেট্রিক টন। যেখানে ধানের মজুদ ছিলো ৫৪ দশমিক ০৬০ মেট্রিক টন। চালের মজুদ ২১ হাজার ৩৩৪ দশমিক ৬৯৪ মেট্রিক টন ও গম ২ হাজার ৪৫৭ দশমিক ৫৬৪ মেট্রিক টন।

[৫] অন্যদিকে, রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার রাজশাহীতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ৭৬ হাজার ৫০০ হেক্টর। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৪৯ মেট্রিক টন। তবে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭৭ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ করা হয়েছে। কিন্তু আমনের আবাদে বন্যা ও জলাবদ্ধতায় রাজশাহীর চারটি উপজেলাতেই প্রায় ৪০ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া প্রতিকূল আবহওয়ার প্রভাবেও উৎপাদন কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে আমনের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

[৬] কৃষকরা বলছেন, এ বছর দাম ভালো থাকায় ধানের আবাদে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। কিন্তু এ বছর ধানের দাম ভালো থাকলেও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখিন হতে হয়েছে। বন্যার প্রভাব ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক কৃষক জলাবদ্ধতার কারণে ধান লাগাতেও পারেনি। ধান লাগানোর পরে পোঁকা ও ইঁদুরের আক্রমণসহ বিরূপ আবহওয়ার কারণে এবার ফলন কম হবে এমন শঙ্কা প্রকাশ করছেন চাষীরা।

[৭] রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামছুল হক জানান, এবার তারা আমন আবাদের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিলেন, তারচেয়ে বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে। এ বছর ধানের আবাদ করে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর প্রভাব কিছুটা তো পড়বেই। আর যেহেতু অতিরিক্ত কিছু জমিতে আমনের আবাদ করা হয়েছে, তাই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় খুব বেশি প্রভাব পড়বে না। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছু কম হতে পারে।

[৮] এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিদার রহমান জানান, রাজশাহীতে গত বছরের তুলনায় এবার মজুদ কম আছে। মূলত করোনা পরিস্থিতির কারণেই এ সময় মজুদটা কম। তবে মজুদ কম থাকার কারণে বাজারে তেমন প্রভাব পড়বে না। সম্পাদনা: জেরিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত