শিরোনাম
◈ ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা: জাতিসংঘ কূটনীতিকের বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস ◈ আইএলও অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতি ৪৭ দেশের সমর্থন, শ্রম সংস্কারে অগ্রগতির প্রশংসা ◈ সংসদে ইলিয়াস আলীর খোঁজ চাইলেন স্ত্রী লুনা, গুমের বিচার দাবি ◈ ব‌কেয়া টাকা প‌রি‌শোধ না হওয়ায় টি- স্পোর্টসের সাথে চুক্তি বাতিল জিও স্টারের, দেখা যাবে না আইপিএল ◈ জ্বালানি মজুতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান, দেশজুড়ে উদ্ধার ২ লাখ লিটার তেল ◈ সাবেক সিএমপি কমিশনার জলিল গ্রেপ্তার ◈ রিজার্ভ ছাড়ালো ৩৪ বিলিয়ন ডলার ◈ নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস বাস্তবায়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্দেশনা  ◈ পুলিশ সদস্যদের হতাহতের ঘটনাকে ‘যুদ্ধের ময়দানে ফয়সালা’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  ◈ ট্যাগ অফিসার,তেল মজুত ধরতে পুরস্কার- কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থাপনা কতটা হচ্ছে

প্রকাশিত : ২৯ অক্টোবর, ২০২০, ০৮:৪৫ সকাল
আপডেট : ২৯ অক্টোবর, ২০২০, ০৮:৪৫ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ডা. জাকারিয়া চৌধুরী: মুসলিমস আন্ডার টেররিস্ট এ্যাটাক-২

ডা. জাকারিয়া চৌধুরী: তারপর কি হলো ? তারপর ফ্রান্সের অস্থায়ী সরকার প্রধানের নির্দেশে আশপাশের হাজার হাজার জনতাকে রাতের আঁধারে তুলে নিয়ে আসা হলো এবং বিচারবহির্ভুতভাবে দ্রুত বিচারের নামে হত্যা করা হলো। এই অরাজকতা চলল ২২ শে মে পর্যন্ত। ততদিনে কি হলো ? ততদিনে ৪৫ হাজার মুসলিমকে কচুকাঁটা করা হলো সারা আলজেরিয়া জুড়ে।জৈব সারের জন্য এটা একটা ভাল পদ্ধতি।খুনীর এই উল্লাসযজ্ঞ থেকে বাদ গেল না বারবনিতা থেকে শিশু, বৃদ্ধা কিংবা হসপিটালের বিছানায় কাতর আধমরা লাশেরা’ও। আজকে ফ্রান্স বাক স্বাধীনতার জন্য লড়ছে।শার্লে এবদো মুহমুদের কার্টুন এবারই প্রথম ছাপায়নি। তারা যখন-ই মুসলিম বিশ্বে বিশেষত মিডলইষ্ট কিংবা মিডলইষ্ট থেকে আফ্রিকার দিকে কোন অঘটনের জন্ম দিতে চায়,গত দুই দশক ধরে তারা একই কাজ বারবার করেছে। শার্লে এবদো পত্রিকাটি কি অন্য কারো কার্টুন ছাপিয়েছে ? হ্যাঁ ছাপিয়েছে। তারা খোদ বর্তমান প্রেসিডেন্টের ছবিও ছাপিয়েছে। তবে সেগুলো ছিল উৎসাহব্যাঞ্জক। তাদের বাক স্বাধীনতা হচ্ছে ম্যাক্রোন আর মুহম্মদের আলাদা পার্থক্য কি ? একজন আধুনিক ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট তো আরেকজন মেষপালক,অশিক্ষিত ধর্মযাজক।সুতরাং দেয়ার কিং ইজ নেভার রং। ঠিক একই অপরাধে তারা অন্য কাউকে কি শাস্তি দিয়েছে ? হ্যাঁ হ্যাঁ দিয়েছে। একজনকে দেড় বছরের জেল দিল।এরদোগান যখন ম্যাক্রনের চিকিৎসার পরামর্শ দিল তখন কিন্তু তাদের সহ্য হলো না। কেন ? ম্যাক্রন আর এরদো কি এক হল !!বাকস্বাধীনতা প্রকাশের দায়ে তারা টার্কি থেকে তাদের রাষ্ট্ দুতকে প্রত্যাহার করে নিল। কার বাক স্বাধীনতা প্রকাশের দায়ে তারা এমনটা করল ? এরদোগানের। এরদোগান কি অপরাধ করেছিলেন ? এরদোগান ম্যাক্রনের মানসিক চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। আগের কথায় ফিরে যাই। তারপর কি হল ? ৪৫ হাজার নিরপরাধ কৃষক, শ্রমিকের হত্যাকান্ডে সমগ্র আলজেরিয়ায় কাপন ধরে গেল। স্বাধীনতার দাবিতে শুরু হল গৃহযুদ্ধ। ১৯৬২ সালে স্বাধীন হবার আগ পর্যন্ত তারা হত্যা করলো ১.৫ মিলিওন বা ১৫ লক্ষ মুসলিমকে। হিসেবটা তাদের। বাংলাদেশীরা হিসাব করলে পাটি গনিত নিয়ে বসতে হবে। নয় মাসে যদি মরে তিরিশ লাখ তবে ১ মাসে মরে কত ? এক মাসে যদি মরে তিন লাখ তেত্রিশ হাজার তবে ১৭ বছরে মরে ১৩৩০০০*১২*১৭= ২৭১৩২০০০ দুই কুটি ৭১ লাখ ৩২ হাজার। হালার বাংগালী। মুখ দিয়া বেফাঁস কথা বাইরাইলেও ইতিহাস,হুক দিয়া বাইরাইলেও ইতিহাস । বর্তমান অচলাবস্থা কেন তৈরী হলো ? ফ্রান্স কি জেনেবুঝে-ই মুসলিম বনাম বাদ বাকি বিশ্বকে যুদ্ধে ঠেলে দিয়ে আবার কলোনী গড়তে চাইছে ? দেখি দুরবিনের বিশ্লেষন কি বলে- ফ্রান্সে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ইতিহাস পড়াতে গিয়ে মুহমমদের ব্যাঙ্গ চিত্র দেখিয়েছে, ক্লাসে ঠাট্রা বিদ্রুপ মসকরা করেছে।এতে সেই ক্লাসে থাকা মুসলিম শিক্ষার্থীরা চরম অপমানিত ও লাঞ্চিত বোধ করেছে। আমাকে কেউ বলুন,যদি আমি বলি দেবতা ব্রক্ষ্মা কিংবা যিশু’কে একটা ……… ছিল বলি, তখন স্ব স্ব ধর্মের মানুষদের কেমন লাগবে!! ভাবুন ত একবার। লিখতে গিয়েও লিখতে পারলাম না। এসব শব্দ আমাদের মুখে আসেনা। যা বলছিলাম, অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে-ই সে বা তারা যারা ওই সময় ক্লাসে উপস্থিত ছিলেন ক্ষুব্ধ হবেন। এর বিরুদ্ধে কিছু গার্ডিয়ান ও একজন ইমাম সরব হয়েছিলেন। বিচারের আশায় বিক্ষুব্ধ ব্যাক্তি কিংবা দল আদালতে যেতে পারত;বিচার হোক বা না হোক। কিন্তু একজন ছাত্র সেই শিক্ষককে গলা কেটে হত্যা করে। আমরা এই হত্যার নিন্দা জানাই। ফরাসী সরকার তৎক্ষণাৎ অভিযান শুরু করে এবং সেই ছাত্রকে গুলি করে হত্যা করে। প্রশ্ন হলো একজন লোক বা কোন গোত্র আইন লংঘন করলে তাঁর জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান আছে। ফরাসী সরকার যে তাঁকে গুলি করে হত্যা করলো, তাঁর জন্য কি আইন ছিল না ? একটা নির্বাচিত সভ্য সরকার কিভাবে এটা করে ? ওই ছেলের পরিচয় প্রকাশ করা হল না কেন ? আমরা তো আই এস কান্ড জানি। কারা এদের সৃষ্টি করেছে এবং কারা এদের নিধন করেছে তা-ও জানি।আই এস সদস্যদের ফান্ডিং থেকে চিকিৎসা কোথায় কিভাবে হয়েছে জানি। গুলি করে মেরে ফেলার পর আমি যদি প্রশ্ন তুলি কোনো মোসাদ সদস্যকে বাচাতে ফরাসিরা এই কাজ করেছে তা কি খুব বড় কোন ভুল হবে ? তাঁকে আইনের সুযোগ বঞ্চিত করে তারা এসছে বাক স্বাধীনতার ঝান্ডা নিয়ে। ধিক,শত ধিক তারে ওহে জলদলপতি ! আমরা তালেবান কান্ড জানি।যাই হোক, এর জেরে কি হল ? এর জেরে ফ্রান্সে অবস্থিত অন্তত পঞ্চাশটি মসজিদ সিলগালা করে দেয়া হল। ফরাসি মুসলিম নাগরিকদের বিচ্ছিন্নতাবাদী বলে উল্লেখ করলেন খোদ ফরাসী প্রেসিডেন্ট। মুসলিম কলোনী গুলোতে নজীরবিহিন দমন নিপিড়ন চালানো হল। চলুন শেষবারের মত পিছে ফিরে দেখি- অথচ ফরাসীরা এখনো টিকেই রয়েছে আফ্রিকাকে শোষন করার মধ্য দিয়ে। ফ্রান্স সব সময় এ সত্যকে অস্বীকার করেনা। ১৯৫৭ সালে ফরাসী প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোয়া মিতেরা ভবিষ্যতবানী করেছিলেন, আফ্রিকার উপর নিয়ন্ত্রন টিকিয়ে রাখতে না পারলে একবিংশ শতাব্দীর ইতিহাসে ফ্রান্সের কোনো জায়গা থাকবে না। এর পাচ দশক পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট জ্যাক শিরাক ২০০৮ সালে সেটা আবারও নিশ্চিত করে বলেছেন- আফ্রিকা না থাকলে ফ্রান্স তৃতীয় বিশ্বের তালিকায় ছিটকে পড়ত। তিনি পরিস্কারভাবে স্বীকার করেছিলেন, ফ্রান্সের ব্যাংকগুলোতে যে টাকা আছে তাঁর একটা বড় অংশ আসে আফ্রিকান দেশগুলোকে শোষন করার মধ্য দিয়ে।সহজ কথা হল,ফ্রান্সের কাছ থেকে যেসব দেশ স্বাধীন হয়েছে ফ্রান্স এখনো তাদের শোষনতন্ত্র অব্যাহত রেখেছে।এই শোষনটা হয় দুইভাবে। প্রথমত সেসব আফ্রিকান দেশের মোট আয়ের পঞ্চাশভাগ এখনো ফ্রান্সকে দিতে হয়।

লেখক:  ডেন্টাল সার্জন, কলাম লেখক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়