প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সুব্রত বিশ্বাস: ভারতীয় রাজনীতিবিদদের সংযত হওয়া উচিত

সুব্রত বিশ্বাস: মাথাপিছু জাতীয় আয়ের অংকে, এক বছরের জন্য হলেও ২০২০ তে ভারতকে টপকায়ে যাবার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি বিশেষ কৃতিত্বের কিন্তু এটিই শেষ কথা না। মাথাপিছু জিডিপির হিসেবে এই বৎসর ২০২০ সালে সম্ভবত ভারতকেও টপকায়ে যেতে পারে বাংলাদেশ, এই ভবিষ্যৎদ্বাণীটির মধ্যে একটি আশার ব্যঞ্জকতা আছে। বাংলাদেশের সরকারি, বেসরকারি অর্থনীতির কারিগরকর্তারা করোনার একটি বছর সামলাবে সে বিষয়ে সর্তক হতে হবে। নিশ্চয়ই বাংলাদেশ ডিমনিটাইজেশন গোত্রের কোনো আত্মঘাতী পথে হাঁটবেন না। অথবা অর্থব্যবস্থা পরিচালনায় এতোদিন বাংলাদেশ যতোখানি অপারদর্শিতার প্রমাণ দিয়েছেন, তার অধিক অপারদর্শী হয়ে উঠবেন না। পূর্বানুমানগুলো কতোখানি সঙ্গত, সেই প্রশ্ন আপাতত মুলতুবি থাকুক। এই কথাটিও স্মরণ করিয়ে দেওয়া উচিত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আয়বৃদ্ধির পশ্চাৎতে একটিমাত্র ক্ষেত্রের ভূমিকা প্রবলতার নাম বস্ত্র উৎপাদন ও রপ্তানি। এই একটি শিল্পে বাংলাদেশ সত্যই আন্তর্জাতিক উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠতে পেরেছে, এটাকে যেকোনো মূল্য ধরে রাখতে পারলে বাংলাদেশ অথনৈতিকভাবে আরও এগোবে। ‘আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়তে শিল্প উৎপাদনের আর কোনো ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ নিজেকে এমন মহাশক্তিধর করে তুলে ধরতে পারেননি।

এই অনস্বীকার্য সত্যটিকে মাথায় রেখেই বলতে হয়, একটি মাত্র ক্ষেত্রের ওপর নির্ভরশীল আর্থিক বৃদ্ধি কিন্তু বিপজ্জনকও বটে। বিশ^ব্যাপী করোনায় বস্ত আমদানিকারকরাও কিন্তু ২০২০-২১ ব্যবসা কমিয়ে ফেলতে পারেন। তাহলে সে অবস্থা বাংলাদেশ কীভাবে মোকাবেলা করবেন, সেসব সতর্কতা প্রস্তুতি নিতে হবে কঠোরভাবে। বাংলাদেশে রপ্তানিযোগ্য আরও খাত আছে চা, চামড়া, পাট, পাটজাত পন্য, ফল রকমারি পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি করতে পারে বাংলাদেশ চেষ্টাও করতে হবে সে সবও। জাতীয় আয়ের পরিসংখ্যান কিছু সংখ্যা মাত্র সেই সব বিভিন্ন আয় জনজীবনকে কীভাবে উন্নততর করে তুলতে পারে, তার মূল্যই বিবেচ্য। মানব উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশে পিছিয়ে, এ প্রকৃতই লজ্জার কারণ হয়। তা সত্ত্বেও এক দশকেরও বেশি সময় যাবত মানব উন্নয়নের প্রশ্নে বাংলাদেশ ভারতকে পেছনে ফেলে এগোচ্ছে এটা আশাব্যঞ্জক।

দক্ষিণ এশিয়ায় মানব উন্নয়নের প্রশ্নে বাংলাদেশকে আরও সমানে এগোতে হবে। বস্তুত কিছু সূচকে সাহারা মরুভূমির দক্ষিণবর্তী আফ্রিকা ব্যতীত গোটা দুনিয়াই ভারতের তুললনায় ভালো অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। জাতীয় আয়ের হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাশক্তি হিসেবে গণ্য হবার মতো কোনো অবস্থানে না থাকলেও, আর্থিক বৃদ্ধির সুফল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের নিকট পৌঁছায়ে সামান্য হলেও বাংলাদেশ পেরেছে এটা অনেকটা আশার কথা। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সাম্য, পুষ্টি কৃষি, রপ্তানি, মজবুত অর্থনীতির জন্য মানব উন্নয়নের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ দিকেরই বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ ভারতের তুলনায় মন্দ অবস্থানে নেই কিছু কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে। স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে যেমন ১২ হাজার ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিক গ্রামে গ্রামে একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন ও সেইগুলোর যথার্থ রক্ষণাবেক্ষণ নাগরিকদের জীবনের গুণগত মানবৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে অনেকটায়। গ্রামীণ শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকারি বেসরকারি সংস্থার সাথে যৌথ উদ্যোগে ‘পুষ্টি সচেতনতার বিভিন্ন প্রকল্প, শিশুদের টিকা কমসূচি এমন যথার্থই কাজ হয়েছে। মাথাপিছু জিডিপির হিসেবে বাংলাদেশ ফের ভারতের তুলনায় পিছিয়ে পড়লেও কিছু বৈশিষ্ট্য কর্মকাণ্ড হারায়ে যাবে না, তা সামনে এগোবে। ভারতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের তত্ত্ব খাঁড়া করে বাংলাদেশ ভারত সম্পর্কে বিষাক্ত রাজনীতির আবহাওয়া তৈরি করা ঠিক নয়। ভারতীয় রাজনীতিবিদদের সংযত হওয়া উচিত। উন্নততর জীবনের সম্ভাবনা তৈরি করতে বৈষম্য কিন্তু বড় বাঁধা। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত