প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাপেক্সের দেনা তিন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে

শাহীন চৌধুরী: রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কোম্পানি বাপেক্সের দেনার পরিমান দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রতিষ্ঠানটি গত আট বছরে ১৯ প্রকল্পের বিপরীতে বাপেক্স ঋণ নিয়েছে তিন হাজার এক কোটি ৮০ লাখ টাকা। কিন্তু এর মাত্র ২৫ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে তারা। বাকি টাকা ফেরত দিতে পারবে কিনা তাও অনিশ্চিত। এভাবে দেনার পরিমান বাড়তে থাকলে প্রতিষ্ঠানটির স্ভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়েে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাঙ্কা করছেন।

সূত্র জানায়, বাপেক্সে তিন হাজার এক কোটি ৮০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে। এই টাকায় হাতে নেওয়া হয়েছে ১৯টি প্রকল্প। নতুন করে আরও সাতটি প্রকল্পের জন্য তারা ঋণের আবেদন করতে যাচ্ছে। মাত্র দুই ভাগ সার্ভিস চার্জ দিয়েই এই ঋণ পরিশোধ করা যায়। ঋণ পরিশোধের সময় নির্ধারিত রয়েছে ১০ বছর। এরপর আরও দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড থাকে। অথচ এ পর্যন্ত মাত্র ২৫ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

দেশের গ্যাসের অনুসন্ধান-উত্তোলনে সহায়তা করার জন্য গ্রাহকের অর্থে ২০০৯ সালে গ্যাস উন্নয়ন তহবিল গড়ে তোলা হয়। নীতিমালা তৈরির পর এই তহবিল থেকে ২০১২ সাল থেকে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। গ্যাসের উন্নয়ন অনুসন্ধানে আগে সরকার ও বিদেশি সংস্থার ঋণের দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো, এখন সেখানে গ্যাস উন্নয়ন তহবিল থেকে ঋণ নিয়েই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু একবার নিলে আর ফেরত না দেওয়ার মানসিকতা তৈরি হচ্ছে কোম্পানিগুলোর মধ্যে। তাই গ্যাস উন্নয়ন তহবিল নীতিমালাতে সুদসহ এই অর্থ ১০ বছরের মধ্যে ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

সূত্রমতে, এই বাধ্যবাধকতার পরও বাপেক্স যে ঋণ নিচ্ছে তা ফেরত দিতে পারছে না। সম্প্রতি এক অনলাইন সেমিনারে বাপেক্সকে এই অর্থ অনুদান হিসেবে দেওয়ার দাবি জানান বিশেষজ্ঞরা। তবে সরাসরি এই দাবি নাকচ করে দেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, অনন্তকাল কোনও কোম্পানি এভাবে অনুদান নিয়ে চলতে পারে না। তাদের স্বাবলম্বী হতে হবে। তিনি এ সময় বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন কোম্পানির কথা উল্লেখ করে বলেন, তারা তো বিদেশ থেকে ঋণ নিয়ে আসছে। পরিশোধও করছে। কিন্তু বাপেক্স তার পারবেনা কেন?

একই সেমিনারে বাপেক্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মর্তুজা আহমেদ ফারুক বলেন, বাপেক্সকে দিয়ে এমন সব জায়গায় তহবিলের টাকা দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে যেখান থেকে আগামী দশ বছরের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে আসবে না। যেমন ভোলার গ্যাস খনন কাজ আবার শুরু হয়েছে। এই খননের পর গ্যাস হয়তো পাওয়া যাবে। তখন এই গ্যাস কী করা হবে? পাইপলাইনই তো হয়নি। পাইপলাইন স্থাপন করে গ্রিডে গ্যাস আনতে কমপক্ষে দশ বছর সময় লাগবে। সে পর্যন্ত গ্যাসক্ষেত্র নিয়ে বসে থাকতে হবে বাপেক্সকে। তিনি মনে করেন, তহবিলের টাকা ঋণ হিসেবে নিলে বাপেক্সের উচিত এমন জায়গায় কাজ করা যেখানে গ্যাস পাওয়ার সত্যিই সম্ভাবনা আছে। আর বিদেশি কোম্পানি যখন বাপেক্সের সঙ্গে এই তহবিলের টাকা নিয়েই কাজ করবে তাহলে তাদের পুরনো আবিষ্কৃত ক্ষেত্র না দিয়ে নতুন ক্ষেত্র দেওয়া উচিত।

এ প্রসঙ্গে বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এই কাজের জন্য তহবিল থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে, আবার ফেরতও দেওয়া হচ্ছে। এটি একটি ধারাবাহিক বিষয়। আমাদের তহবিলের সব টাকাই ফেরত দিতে হবে। আশাকরি সময় মতই আমরা সেই টাকা ফেরৎ দিতে পারবো।

 

সর্বাধিক পঠিত