প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মোস্তফা কামাল: বঙ্গবন্ধু বাসায় ফিরেই দরাজ গলায় রাসেলকে ডাকেন

মোস্তফা কামাল: রাসেল তার আব্বার খুব ন্যাওটা। সারাক্ষণ আব্বার সঙ্গে থাকতেই বেশি পছন্দ করে সে। আজ সারাদিন আব্বার সঙ্গে দেখা হয়নি বলে তার ভীষণ মন খারাপ। সে রাতে লেখাপড়া শেষ করে তার আব্বার জন্য অপেক্ষা করছে। সে তার মাকে বলে রেখেছে, আব্বাকে না দেখে ঘুমাতে যাবে না। ফজিলাতুন্নেছা তাকে কয়েকবার খেতে ডেকেছেন। কিন্তু সে যায়নি। ডাকাডাকির একপর্যায়ে সে বললো, আমি বললাম তো, ক্ষুধা নেই। খেতে ইচ্ছা করছে না। ফজিলাতুন্নেছা ছেলের পাকা পাকা কথা শুনে বিস্ময়ের সঙ্গে বলেন, ভালোই তো কথা শিখেছিস রে। ক্ষুধা নেই! তুই সেই দুপুরে খেয়েছিস। আর তো কিছুই খাসনি। আয় বাবা। আমি খাইয়ে দিব? রাসেল বললো, আম্মা, আব্বা আসার পর খাই। আব্বার সঙ্গে খাই। ফজিলাতুন্নেছা বললেন, তোর আব্বা কখন না কখন আসেন। তুই খেয়ে নে। আম্মা প্লিজ! ফজিলাতুন্নেছা রাসেলের দিকে একবার তাকালেন। তারপর নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই শেখ মুজিব বাসায় ফিরলেন।

বাসায় ফিরেই তিনি দরাজ গলায় রাসেলকে ডাকেন। রাসেল, রাসেল। আমার আব্বাটা কোথায়? রাসেল দৌড়ে তার আব্বার কাছে এগিয়ে যায়। এর মধ্যেই ফজিলাতুন্নেছাও তার কাছে যান। তিনি শেখ মুজিবকে উদ্দেশ করে বলেন, রাসেল তোমার জন্যই অপেক্ষা করছে। ও আজ তোমার সাথে খাবে। তাই! খুব ভালো কথা। আচ্ছা শোন, রাসেলের জন্য একটা সুখবর আছে। তাই নাকি? সুখবরটা কি? জাপান সরকারের একটা আমন্ত্রণ পেয়েছি। তারা শুধু আমাকে নয় রাসেল এবং রেহানাকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ওদের জন্য আলাদা কর্মসূচিও রেখেছে। বাহ! ওদেরও আমন্ত্রণ জানিয়েছে! নিশ্চয়ই ভালো খবর। হঠাৎ ওদের আমন্ত্রণ জানানোর কারণ? জানি না। তবে ছোটদের ব্যাপারে ওদের বিশেষ আগ্রহ আছে। ব্যাপারটা সত্যিই শিক্ষণীয়। (উপন্যাস ১৯৭৫) অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত হবে ১৬ ডিসেম্বর। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত