প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাসুদ রানা: ধর্ষণের দর্শন ও রাজনীতি, লীলাক্ষেত্রে বাংলাদেশ!

মাসুদ রানা: একপক্ষের সম্মতি ব্যতিরেকে অন্যপক্ষের বল প্রয়োগের মাধ্যমে সংঘটিত যৌনসঙ্গমকে ধর্ষণ বলা হয়। ধর্ষণে যে বল প্রয়োগ করা হয়, তা শুধু শারীরিক নয়, মনোবৃত্তিক ও সামাজিকও বটে। ধর্ষণের মধ্য ক্রিয়াশীল যে সামাজিক বল, তা হচ্ছে বল প্রয়োগকারীর প্রত্যক্ষিত বা বিশ্বাসিত ক্ষমতা। আর, সে-কারণে ধর্ষণের চরিত্র শেষপর্যন্ত দার্শনিক ও রাজনৈতিক হতে বাধ্য।
ধর্ষণের দর্শন হচ্ছে অসাম্য, যেখানে ধর্ষকের কাছে ধর্ষিত সাব-হিউম্যান বা মানবেতর ভোগ্য, যা ভোগ করতে সম্মতি নিষ্প্রয়োজন। প্রায় সব ধর্মই নারীকে পুরুষের চেয়ে হীন করে দেখে ও দেখায় বলে ধর্মবাদিতার সাথে ধর্ষণের একটি ইতিবাচাক সহ-সম্পর্ক রয়েছে।
ধর্ষকেরা সমাজ বা রাষ্ট্র ব্যবস্থায় কোনো-না-কোনোভাবে নিজেদেরকে শাসক প্রকার-ভুক্ত মনে করে। অর্থাৎ, সমাজ ও রাষ্ট্রের শাসন-ক্ষমতার ধারকদের সে লিঙ্গগতভাবে, শ্রেণীগতভাবে, সম্প্রদায়গতভাবে কিংবা আদর্শগতভাবে ‘ইনগ্রুপ’ বা নিজদল মনে করে।
মোটকথা, ধর্ষণের মূলে আছে, অন্যের ওপর শক্তি প্রয়োগ করার ক্ষমতা এবং অন্যের সম্মতি-অসম্মতির প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে তার ভাগ্য নিয়ন্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া। বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছ ধর্ষণের দর্শনের ভিত্তিতে। এর অর্থনীতি, বাণিজ্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা, আইন, বিচার, বিনোদন – সবকিছুর ভেতর ক্রিয়াশীল রয়েছে ধর্ষণের দর্শন।
বাংলাদেশে সর্বত্র ধর্ষণ মনোবৃত্তি যে আধিপত্য করছে, তার মূল রয়েছে একদিকে দেশটিকে রিপাবলিক ঘোষণা দিয়ে অন্যদিকে এর নাগরিকদের সাব-হিউম্যান মনে করে তাদের সম্মতি ব্যতিরেকে জোর করে ক্ষমতা দখল করে ভোগ করার প্রবৃত্তি।
সুতরাং, এতে আশ্চার্য্যান্বিত হওয়ার কিছু নেই যে, বাংলাদেশের অধিকাংশ ধর্ষক হয় ক্ষমতসীন দলের সদস্য ও সংখ্যাগুরু-ধর্মবাদী। আর, এরাই বাংলাদেশের মানুষের মনোজগত, সাংস্কৃতিক জগত ও বিশ্বাসের জগত শাসন করে বলে, দেশটি আজ লুণ্ঠন ও ধর্ষণ লীলাভূমি।
১২/০১০/২০২০ লণ্ডন, ইংল্যাণ্ড
ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত