প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] আইপিএল জুয়ায় টাকা হারিয়ে মিথ্যা অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে, যুবক আটক

রাজু চৌধুরী: [২] চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজারের বাসা থেকে মাছ কিনতে ফিশারিঘাট যাওয়ার পথে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা ও নিজের মোবাইল ফোন পুলিশ সদস্যকর্তৃক ছিনতাই হয়েছে। এমন মিথ্যা অভিযোগ করায় বাবলা দাশ (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।

[৩] শনিবার রাতে উক্ত ব্যক্তির পুলিশের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় তাকে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

[৪] ওসি মোহাম্মদ মহসীন জানান, আইনুদ্দীন প্রকাশ মালু নামের এক ব্যবসায়ীর সরকার ফিশ ট্রেডিং নামের প্রতিষ্ঠান থেকে বাকীতে ক্রয়কৃত মাছের পাওনা টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ার পর কৌশলের আশ্রয় নিয়ে ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বাবলা দাশ গত ৯ অক্টোবর থানায় হাজির হয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেছিলেন। এর পর পলাশ কান্তি নাথ, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ), সিএমপি, চট্টগ্রাম , নোবেল চাকমা সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালী জোন), সিএমপি, চট্টগ্রামদ্বয় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিদের্শক্রমে বিষয়টি তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

[৫] রোববার (১১ অক্টোবর) এ ব্যাপারে নগর পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) কার্যালয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং করেন এডিসি পলাশ কান্তি নাথ। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত বাবলা দাশ নগরীর লালখান বাজার এলাকার ধনঞ্জয় দাশের ছেলে। আসামি বাবলা দাশ (৩০) গত ৯ অক্টোবর রাত অনুমান ১১টার সময় তার লালখান বাজারস্থ বাসা হতে ফিশারীঘাট আড়তে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা নিয়ে মাছ কিনতে সিএনজি যোগে যাওয়ার পথে ডিসি হিলের সামনে একটি নীল রংয়ের পুলিশের গাড়ীতে ৫ জন পুলিশ তাহাকে উঠিয়ে তার সাথে থাকা টাকা ও তার ব্যবহৃত ১টি মোবাইল ফোন নিয়ে নেয় এবং তার এক হাতে কিছু ইয়াবা ও অন্য হাতে টাকা দিয়ে ছবি তুলে। দুই ঘণ্টার মতো বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরিয়ে নিউমার্কেট এর পাশে মিউনিসিপাল মডেল হাই স্কুলের সামনে নামিয়ে দেয়। উক্ত ঘটনার বিষয়টি আসামি বাবলা দাশ (৩০) মাছ আড়ত ব্যবসায়ী আমিনুল হক বাবুল সরকার (৬৩) ও মোঃ আইনুদ্দীন প্রকাশ মালুকে (৩৫) জানালে আমিনুল হক বাবলু বিষয়টি অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করেন। আসামিরা বাবলা দাশকে (৩০) নিয়ে ডিসি হিল ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন রাস্তার সিসি টিভি ক্যামেরা ফুটেজ পর্র্যালোচনা করে এবং তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামির ব্যহৃত মোবাইল ফোনের অবস্থান নির্ণয় করার চেষ্টা করেন। বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও বাবলা দাশ (৩০) পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে থাকেন। বিষয়টি সন্দেহ জনক মনে হলে তদন্ত করে দেখা হয়। এমনকি লালখান বাজার থেকে ডিসি হিল হয়ে ফিশারিঘাট পর্যন্ত সড়কের আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে দেখা হয়। যেখানে পুলিশ সদস্য কর্তৃক ডাকাতি হয়েছে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি তা প্রমাণিত হয়।

[৬] তিনি আরো বলেন, একপর্যায়ে বাবলা দাশ নামের ওই যুবককে গ্রেপ্তাতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, আইপিএল এর জুয়ায় টাকা হারানোর পর টাকা পাওনাদারকে ফেরত দেওয়ার কোনো উপায় না দেখে এই মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে। ব্যাপক তদন্তকালে জানা যায় যে, আসামি বাবলা দাশ ইলিশ মাছের মৌসুম শুরু হওয়ার পর গত ১ অক্টোবর তারিখ হতে পাইকারী ভাবে মোঃ আইনুদ্দীন মালু (৩৫) এর কাছ থেকে নগদ ও বাকীতে মাছ ক্রয় করে। একপর্যায়ে হিসাব নিকাশ শেষে মোঃ আইনুদ্দীন মালু (৩৫) এর প্রতিষ্ঠান সরকার ফিস ট্রেডিং আসামীর কাছ থেকে সর্বমোট ১,৭০,০০০/-টাকা পাওনা টাকা চাইলে উক্ত টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা ঘটনা সাজানোর কথা ও আইপিএল এর জুয়ার বাজি ধরে টাকা খোয়ানোর কথা পুলিশের নিকট স্বীকার করে। পরবর্তীতে উপস্থিত ১) আমিনুল হক বাবুল সরকার (৬৩), আমাদের পার্শ্ববর্তী আড়তের মালিক ২) মোঃ আজিজুল হক (৬২) ৩) মোহাম্মদ ইসমাইল ৪) মোঃ আওলাদ (২৬), ৫) ড্রাইভার মোঃ সেন্টু (৩২) দের সম্মুখে স্বীকার করে।

[৭] এসি নোবেল চাকমা বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে, আসামি একজন প্রতারক। সে মোঃ আইনুদ্দীন প্রকাশ মালু (৩৫) এর প্রতিষ্ঠান তথা সরকার ফিস ট্রেডিং এর কাছ থেকে বাকিতে ক্রয়কৃত মাছের পাওনা টাকা বাবদ ১,৭০,০০০/-টাকা জুয়ায় হারিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ প্রদান করেছে। মোঃ আইনুদ্দীন মালু (৩৫) আসামির বিরুদ্ধে তাদের প্রতিষ্ঠানের টাকা আত্মসাৎ করার অপরাধে এজাহার দায়ের করিলে কোতোয়ালী থানার মামলা রুজু হয় বলে জানান ওসি মহসীন। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার একটি মামলা দিয়ে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। সম্পাদনা: হ্যাপি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত