প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্রিকস সম্মেলনে মুখোমুখি হচ্ছেন মোদি-জিনপিং

ডেস্ক রিপোর্ট: নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় ভার্চুয়াল ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। লাদাখ সীমান্তের লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) নিয়ে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে গালওয়ান উপত্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর এ সম্মেলনেই প্রথম মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন পরস্পর বৈরী অবস্থানে থাকা দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। খবর জি নিউজ।

ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত ফোরাম ব্রিকসের ভার্চুয়াল সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৭ নভেম্বর। নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৮ বার পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছেন দুই নেতা।

নরেন্দ্র মোদি ২০১৯ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর কিরগিজস্তানের বিশকেকে আয়োজিত এসসিও সামিটের সাইডলাইনে উভয় নেতার মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর পর পরই ভারত সফরে আসেন শি জিনপিং। এছাড়া ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্যও উভয় নেতাই পরস্পরের দেশ সফর করেছেন বেশ কয়েকবার। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০১৭ সালে নরেন্দ্র মোদির শিয়ামেন ও ২০১৬ সালে শি জিনপিংয়ের গোয়া সফরের কথা।

এক বিবৃতিতে ব্রিকস জানিয়েছে, এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘ব্রিকস অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা, অংশগ্রহণমূলক নিরাপত্তা ও উদ্ভাবনী প্রবৃদ্ধি’। চলতি বছরের সম্মেলনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিবৃতিতে বলা হয়, ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বহুমুখী সহযোগিতা তৈরির মাধ্যমে দেশগুলোর জনগণের জীবনমান বাড়ানোর তাগিদে এটি আয়োজন করা হচ্ছে।

রুশ প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা অ্যান্টোন কোবিয়াকভ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে আরো বলা হয়, নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন সত্ত্বেও চলতি বছর রাশিয়ার চেয়ারম্যানশিপে ব্রিকস ধারাবাহিকভাবে বেশকিছু কার্যক্রম চালিয়ে গিয়েছে। জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ভিডিও কনফারেন্সিংসহ ৬০টিরও বেশি ইভেন্টের আয়োজন করেছে ব্রিকস। সহযোগিতামূলক অবস্থানকে আরো উজ্জীবিত করার মাধ্যমে জোটভুক্ত দেশগুলোর কল্যাণ নিশ্চিতের জন্যই আসন্ন সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যে সম্ভাব্য যেকোনো হুমকি মোকাবেলার জন্য লাদাখের উচ্চভূমিতে কয়েক হাজার সৈন্য ও ভারী অস্ত্র মোতায়েন করেছে দেশটি। ভারতীয় বিমানবাহিনীর (আইএএফ) মালিকানাধীন সুখোই ৩০ এমকেআই, জাগুয়ার ও মিরেজ ২০০০ মডেলের প্রায় সব জঙ্গি বিমান এরই মধ্যে পূর্ব লাদাখ সীমান্তবর্তী ও অন্যান্য এলএসি-সংলগ্ন বিমান ঘাঁটিগুলোয় মোতায়েন করা হয়েছে।

এছাড়া দেশটির জঙ্গি বিমানবহরে সদ্য যুক্ত হওয়া পাঁচটি রাফাল জেটও বর্তমানে পূর্ব লাদাখ অঞ্চলে টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে। এছাড়া সেখানে রাত্রিকালীন যুদ্ধ টহলও জোরদার করেছে আইএএফ। পার্বত্য অঞ্চলটিতে যেকোনো ঘটনা মোকাবেলার জন্য নিজ প্রস্তুতি সম্পর্কে চীনকে বার্তা দিতেই আইএএফ সেখানে নিজের অবস্থান জোরদার করেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোয় উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে আইএএফ-প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আরকেএস ভাদুড়িয়া জানিয়েছেন, সীমান্তে যেকোনো হুমকি মোকাবেলার জন্য ভারতীয় বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজগুলো বেশ সুবিধাজনক স্থানে মোতায়েন করা রয়েছে। সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তামূলক চিত্রপট বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোয় জঙ্গি বিমানগুলোকে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে মোতায়েন করা রয়েছে।

তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই) জানিয়েছে, গোটা বিষয়টি নির্ভর করছে উভয় দেশের মধ্যে আলোচনার কতটুকু অগ্রগতি হচ্ছে তার ওপর। বর্তমানে সৈন্য সরিয়ে নেয়া ও এর ধারাবাহিকতায় উত্তেজনা প্রশমন নিয়ে কথা চলছে। আশা করা হচ্ছে, আলোচনার মধ্য দিয়েই প্রত্যাশিত ফল বেরিয়ে আসবে।

তবে তিনি এ-ও বলেছেন, বর্তমানে এ পরিস্থিতির উন্নয়ন হচ্ছে ধীরগতিতে। আসন্ন শীতকালকে সামনে রেখে এ মুহূর্তে স্থলভাগে সৈন্য ও কাছাকাছি এয়ারফিল্ডগুলোয় জঙ্গি বিমান মোতায়েনের সংখ্যা বাড়ছে। আমাদের পরবর্তী কার্যক্রম বাস্তবতার ওপরেই নির্ভর করবে। এখানে চীন স্কারদু (গিলগিট-বালতিস্তানের একটি এয়ারফিল্ড) ব্যবহার করবে কিনা, সেটি একটি প্রশ্ন। কিন্তু চীনের যদি আমাদের মোকাবেলায় পাকিস্তানের সহযোগিতা নিতে হয়, আমার কিছু বলার নেই। যদি স্কারদু ব্যবহার করে তাহলে তা হুমকি হয়ে উঠতে পারে এবং আমরা তা সেভাবেই মোকাবেলা করব।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে আইএএফ-প্রধান বলেন, চীনের বিমানশক্তি ভারতের সামর্থ্যকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। কিন্তু প্রতিপক্ষকে খাটো করে দেখারও কিছু নেই। যদি পরিস্থিতির উদ্ভব হয়, তাহলে আইএএফ উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তের দুই ফ্রন্টেই যুদ্ধ চালাতে প্রস্তুত।

পূর্ব লাদাখের পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, একটি বিষয়ে নিশ্চিত থাকা যায়, আমরা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য বেশ শক্তিশালীভাবেই সৈন্য ও সম্পদ মোতায়েন রেখেছি। সংশ্লিষ্ট সব অঞ্চলেই আমাদের সৈন্য মোতায়েন করা রয়েছে। লাদাখ এর মধ্যে একটি ছোট অংশ মাত্র। বণিক বার্তা

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত