প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

১৮ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির নিট মুনাফা দেড় হাজার কোটি টাকা

শাহীন চৌধুরী: দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুতায়ন সমিতির (আরইবি) বেশির ভাগই লোকসানি। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ি গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৮টি সমিতি মুনাফা করেছে। এসব সমিতির নিট মুনাফার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৪৪০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। একই সময়ে ৬২ লোকসানি সমিতির নিট ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৮১৭ কোটি ২২ লাখ টাকা। ক্রস সাবসিডির মাধ্যমে সমিতির কার্যক্রমকে গতিশীল রাখা হয়েছে বলে আরইবি’র একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।

সম্প্রতি আরইবি টাস্কফোর্সের এক বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পের পরামর্শক আরভি শাহীর পরামর্শে এ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে লাভজনক সমিতির সংখ্যা বৃদ্ধির কৌশল চূড়ান্ত করা। টাস্কফোর্স মনে করছে, একটু আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করা গেলে চলতি বছরের মধ্যে আরও ১৩টি সমিতিকে লাভজনক করা সম্ভব। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে আরও ২৩টি সমিতি মুনাফায় আসতে পারে পরামর্শক কমিটির ধারণা।

তথ্য মতে, ঘাটতি কাটিয়ে মুনাফা আনতে হলে প্রথমেই ওঅ্যান্ডএম ব্যয় হ্রাস, সিস্টেম লস কমানো এবং অপ্রয়োজনীয় জনবল সরিয়ে ফেলতে হবে। সমিতিগুলোতে ৪টি পদের বিপরীতে ৫ হাজার অতিরিক্ত জনবল রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উদ্বৃত্ত জনবল রয়েছে মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জার পদে। এ পদে ১০ হাজার ৫শ লোকবল রয়েছে।

টাস্কফোর্স মনে করে, এখানে ৫ হাজার লোকবল হলেই যথেষ্ট। এ পদে লোকবল কমিয়ে বছরে ৭৮ কোটি টাকা বেতন সাশ্রয় করা সম্ভব। দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে ক্যাশিয়ার ও সহকারী ক্যাশিয়ার পদে। এ পদে লোকবলের প্রয়োজন ৫৬৪ জন। এ পদে বর্তমানে লোকবল রয়েছে ৮১৮ জন। বাড়তি লোকবল কমিয়ে বছরে ১৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। ওয়ারিং পরিদর্শক পদে লোকবল প্রয়োজন ৬৪৪ জন, এ পদে বর্তমানে লোকবল রয়েছে ৭৫৬ জন। সহকারী হিসাবরক্ষক পদে বাড়তি লোকবল রয়েছে ২৫৮ জন। অন্যদিকে সিস্টেম লস ৫০ শতাংশ কমিয়ে বছরে ১শ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। সামগ্রিক ওঅ্যান্ডএম ব্যয় কমলেও আরও কমানোর সুযোগ ও প্রয়োজনীয়তা দেখছে টাস্কফোর্স। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ওঅ্যান্ডএম ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৯৭২ কোটি টাকা। যা ইউনিট প্রতি দাঁড়ায় ৯৬ পয়সা। আর চলতি অর্থ বছরের প্রথম ৬ মাসে ৭২ পয়সায় এসে ঠেকেছে। মোট ওঅ্যান্ডএম ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা।

টাস্কফোর্স মনে করে, আরইবির নিজস্ব কেন্দ্রীয় ডেটা সার্ভারে সব সমিতিকে অন্তর্ভুক্ত করে কেন্দ্রীয় বিলিয় সিস্টেমের মাধ্যমে সহজেই বিলিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায়। এতে পবিসের ক্যাশ শাখায় কাজের চাপ কমবে, নতুন করে জনবল নিয়োগ করার প্রয়োজন পড়বে না। আরইবির সম্ভাবনা হিসেবে দেখানো হয়েছে বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল, নতুন শিল্প ও বাণিজ্যিক সংযোগ এবং গ্রামের মানুষের বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়ে যাওয়াকে। অন্যদিকে ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে প্রতিকূল মূল্যবৃদ্ধি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অনলাইনে বিল আদায়ের ঝুঁকি ও দুর্ঘটনা জনিত ঝুঁকি। দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সদিচ্ছার অভাব, দুর্নীতি ও দালালদের উপস্থিতি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া এবং উচ্চ সিস্টেম লস।

পল্লীবিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, লোডশেডিং মুক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে তাদের বিক্রির পরিমাণ বাড়বে। এর মাধ্যমে তাদের আয় বেড়ে যাবে। পাশাপাশি অনেক সমিতির এলাকায় শিল্পায়ন হচ্ছে। শিল্পে বেশি দরে বিদ্যুৎ বিক্রি করেও মুনাফা করতে পারবে আরইবি।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত