প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মানিকের নির্বাচনি ইশতেহারে ‘ভিশন-২০৩৩’

স্পোর্টস ডেস্ক : [২] অনাড়ম্বর আয়োজন। নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার মঞ্চে সভাপতি প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মানিকের পাশে দেখা গেলো কেবল সাবেক ফুটবলার রুম্মান বিন ওয়ালী সাব্বিরকে। সাদামাটা এই আয়োজনেই নিজের পরিকল্পনা মেলে ধরলেন মানিক, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচনে যিনি চালেঞ্জ জানিয়েছেন ১২ বছর দায়িত্বে থাকা কাজী সালাউদ্দিনকে। মানিকের ইশতেহারে আছে ‘ভিশন-২০৩৩’, যেখানে লক্ষ্য থাকবে অলিম্পিকের জন্য শক্তিশালী দল গড়ে তোলা।

[৩] আগামী ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে বাফুফের নির্বাচন। ১৩৯ জন কাউন্সিলর ওই দিন বেছে নেবেন, পরের চার বছরের জন্য দেশের ফুটবলের ভার কার কাঁধে থাকবে। সভাপতি পদের জন্য মানিক লড়বেন সালাউদ্দিনের সঙ্গে। ব্যালট পেপারে অবশ্য বাদল রায়ের নামও থাকবে, তবে শেষ মুহূর্তে সভাপতি পদের নির্বাচন থেকে তিনি সরে দাঁড়ানোয় লড়াই মূলত বাকি দুইজনের।

[৪] নির্বাচন উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে মঙ্গলবার ইশতেহার ঘোষণা করেছেন মানিক। তার ইশতেহার ২১ দফার, কারণ জানালেন, বাফুফের নির্বাচনে পদ ২১টি! এই ২১ জনকে নিয়ে ‘এক মন’ হয়ে কাজ করার প্রত্যয় জানিয়েছেন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের এই কোচ।

[৫] কাল্পনিক প্রতিশ্রুতি নেই তার ইশতেহারে। বাস্তবতা মেনে ভবিষ্যৎ ছক সাজিয়েছেন নানা সময়ে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, চট্টগ্রাম আবাহনী ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের কোচের দায়িত্ব পালন করা মানিক। ‘ভিশন-২০৩৩’ রূপরেখার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আগামী ১২ বছরের মধ্যে অলিম্পিকের জন্য শক্তিশালী একটি দল গড়ার লক্ষ্যের কথা বললেন তিনি।

[৬] বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা স্কুল ফুটবল থেকে বাছাই করা খেলোয়াড়দের নিয়ে ব্যাপক পরিকল্পনা সাজানো হবে। এই ১০ বছর বয়সী ছেলেমেয়েরাই ১২ বছর পর ২১-২২ বছর বয়সী হবে। তাদের যদি এখন থেকে পরিচর্যা করা হয়, তাদের নিয়ে সঠিক পরিকল্পনা করা হয়, তাহলে শক্তিশালী দল গড়া সম্ভব।

[৭] আমি কাল্পনিক কোনো প্রতিশ্রুতি দেব না। যে ইশতেহার দিয়েছি, তা বাস্তবায়নযোগ্য। জেলা ফুটবল, পাইওনিয়ার লিগ, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল ও কলেজের প্রতিযোগিতাগুলো নিয়মিত আয়োজন, জাতীয় পর্যায়ে অনুর্ধ্ব-১৭ বঙ্গবন্ধু কাপ, লেঃ শেখ জামালের নামে অনূর্ধ্ব-২১ ফুটবল প্রতিযোগিতা, সোহরাওয়ার্দী কাপ, শের-ই বাংলা কাপ, দুই বছর পর পর বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ, প্রতি বছর শেখ কামাল আন্তর্জাতিক গোল্ড কাপ, গ্রহণযোগ্য বর্ষপঞ্জি, জেলা ও বিভাগীয় ফুটবলকে উৎসাহ দিতে পুরস্কার দেওয়া, বাফুফের আর্থিক অনিয়ম ও পাতানো ম্যাচ দূর করতে নীতিমালা প্রণয়ন, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের খেলোয়াড় এবং সাবেক খেলোয়াড়দের ‘ভিআইপি মর্যাদা’ দেওয়ার উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে ইশতেহারে।

[৮] এছাড়া জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের (পুরুষ ও মহিলা) বেতন কাঠামোর মধ্যে নেওয়া, বীমার ব্যবস্থা, রেফারিদের সম্মানি ও মর্যাদা বৃদ্ধি, ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতির উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে ইশতেহারে। মানিকের মতে অবশ্য, এসব এমনিতেই হওয়া উচিত।

[৯] এগুলো আসলে আলাদা কোনো পরিকল্পনা নয়। রুটিনমাফিক কাজ। যেগুলো অতীতে ঠিকমতো করা হয়নি। আমার বিশ্বাস রুটিনমাফিক এই কাজগুলো নিয়মিত করলে ফুটবলের উন্নতি সম্ভব।

[১০] জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড় মানিক কোচিং পেশার সঙ্গে জড়িত ২৫ বছর ধরে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লু পাওয়া এই সাবেক ডিফেন্ডার ছিলেন ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদকও।- বিডিনিউজ

সর্বাধিক পঠিত