প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সিরাজগঞ্জে যমুনায় ব্যাপক ভাঙ্গনে শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন

সোহাগ হাসান: [২] উজানের ঢল ও মৌসুমী বায়ূর প্রভাবে অতিবৃষ্টি হওয়ায় যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে ব্যাপক নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এর ফলে নিম্নাঞ্চল পানিতে প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি নদী ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে প্রতিদিনই নদী গর্ভে বিলিন হচ্ছে বসত-ভিটা, ফসলী জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। স্থানীয়রা নদী ভাঙ্গন আতংকে বাঁধ ও অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

[৩] হুমকীতে রয়েছে খাঁজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, এনায়েতপুর কাপড়ের হাট, মসজিদ, মাদ্রসা, স্কুল সহ অসংখ্য স্থাপনা। ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা পেতে নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষ বসত-বাড়ি ভেঙ্গে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।

[৪] পানি উন্নয়ন বোড জানায়, নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষার জন্য এনায়েতপুরে স্থায়ী বাঁধ নির্মানের জন্য ৬শ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। প্রকল্প বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করা হবে।

[৫] স্থানীয়রা জানায়, চলতি বছরে চার দফা বন্যার পর যমুনা নদীতে পানি কমতে শুরুকরে। হঠাৎ করে গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে যমুনায় পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে এনায়েতপুরে শুরু হয় ব্যাপক নদী ভাঙ্গন। গত দুই দিনে শতাধিক বসতবাড়ি, ফসলী জমি, মসজিদ, মাদ্রসা নদী গর্ভে বিলী হয়ে যায়। অনেকে কিছুই সরাতে পারেনি। মুহুর্তের মধ্যে নদীতে ধসে পড়ে তাদের বসতবাড়ি। আতংকে দিন কাটাচ্ছে যমুনা পারের মানুষ।

[৬] সহায় সম্বল হারিয়ে নি:শ্ব এসব মানুষ এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এসব মানুষ দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

[৭] পাকুরতলা গ্রামের বাসিন্দা কামরুজ্জামান বলেন, গত কয়েকদিনে প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত কাজ করা না হলে অস্তিত্ব বিলীন হবে বৃহত্তম একটি জনপদের। স্থানীয় ইয়াসিন প্রামানিক বলেন, ৮০ বছরের জিন্দিগিতে ৭ বার নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়েছি। ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে সব কিছু শেষ হয়ে গেছে। ভাঙ্গরোধে স্থায়ী বাঁধ চাই।

[৮] সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, কাজীপুরের পাটাগ্রাম এবং এনায়েতপুরের ব্রাক্ষণগ্রাম থেকে কৈজুড়ী পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এলাকা অরক্ষিত। এই দুটি স্থানে ভাঙ্গন রয়েছে। ভাঙ্গন রোধে সাড়ে ১১শ কোটি টাকার দুটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সম্পাদনা: সাদেক আলী

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত