প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] চীনের থেকে বাংলাদেশকে দূরে রাখতে প্রতিরক্ষা কূটনীতি চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

লিহান লিমা: [২] চীন যখন দক্ষিণ এশিয়ার তার অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছে ঠিক তখনই এই অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য মিত্র হয়ে উঠতে প্রয়াস চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তাব দিয়েছে। গত মাসে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে করা ফোনে ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীকে আধুনিকায়ন করার প্রস্তাব দেন। নিক্কি এশিয়ান রিভিউ

[৩]দুই দেশ অ্যাপাচি হেলিকাপ্টার ও ক্ষেপণাস্ত্রের মতো উন্নত প্রযুক্তির সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় নিয়ে গত বছর আলোচনা করেছে। ধারণা করা হচ্ছে এ বিষয়ে যে কোনো সময় চুক্তি হতে পারে, যদিও বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয় নি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ডেপুটি অ্যাসিস্টেন্ট সেক্রেটারি ও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিভাগের দায়িত্বের থাকা লরা স্টোন বলেছেন, ‘কংগ্রেসকে এই বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয় নি।’ তবে বলার অপেক্ষা রাখে না এই মুহুর্তে অপেক্ষাকৃত স্বল্পমূল্যে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ চীনকে এই চুক্তি বড় ধরণের ধাক্কা দেবে।

[৪]নিক্কি এশিয়ান রিভিউকে এক মেইলে লরা স্টোন বলেন, ‘বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং দুই পক্ষের পারস্পরিক স্বার্থ বজায় রেখে আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের নিরাপত্তা সহযোগিতা গভীর করতে চাই।’

[৫]স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিচ রিসার্চ ইনস্টিটিউট বলছে, ১৯৯০ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কেনা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৯ সাল পর্যন্ত ওয়াশিংটন থেকে মোট ১১০ মিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম কিনেছে ঢাকা। যদিও ২০১০ সালের পর থেকে চীনের কাছ থেকে কিনেছে ২.৫৯ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম। ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশের নৌ নিরাপত্তা ও অন্যান্য খাতে যুক্তরাষ্ট্র ৬০ মিলিয়ন ডলারের বেশি সহযোগিতা দিয়েছে। ২০১৯ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বাংলাদেশকে ‘উদীয়মান সহযোগী’ দেশ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

[৬]অন্যদিকে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও অবকাঠামোগত খাতে চীনের প্রভাব বেড়েছে। বাংলাদেশ চীনের বেল্ট এন্ড রোড প্রকল্পের অন্যতম সহযোগী দেশ। কোভিড-১৯ মহামারীকালে চীন বাংলাদেশে মাস্ক, গাউন মেডিক্যাল সদস্য বোর্ড পাঠিয়েছে। এছাড়াও চীনা টিকার তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা বাংলাদেশে চলছে। ভারত সীমান্তবর্তী সিলেটে ২৫০ মিলিয়ন ডলারে এয়ারপোর্ট টার্মিনাল নির্মাণের কাজ পাওয়ার পর বেইজিং সম্প্রতি বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ওপর ৯৭ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

[৭]যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন কবির বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করা বাংলাদেশের জন্য কঠিন হবে।’

[৮]যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক আলি রিয়াজ বলেন, ‘বেইজিংয়ের সঙ্গে ঢাকার উষ্ণ সম্পর্কের এই সময়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ফোন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে বাংলাদেশ সরকারকে দেশের স্বার্থকে প্রাথমিক অগ্রাধিকারে রেখে সম্পর্কের সমন্বয় করতে হবে।’ আলী রিয়াজ মনে করেন, ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী জো বাইডেন নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া নীতি আরো সম্প্রসারিত হবে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত