প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মারুফ কামাল খান: কেউ কী সীমিত ও সহনীয় মাত্রা মেনে দুর্নীতি করে!

মারুফ কামাল খান: একটা সমাজে দুর্নীতি, অনাচার, লুটের প্রবণতা, অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রতিযোগিতা বাড়তে থাকে যখন ভোগবাদ হয়ে উঠে বল্গাহীন। সবুর এবং অল্পে তুষ্টি ও তৃপ্তি তখন উঠে যায়। সীমিত ও নির্দিষ্ট আয়ে জীবন-যাপন অসম্ভব হয়ে ওঠে। অনাড়ম্বর জীবন হয়ে দাঁড়ায় লজ্জার বিষয়। দেখুন এই সমাজটাকে আমারা কী করেছি। এ দেশেই বাজারে গিয়ে একসময় মানুষ অবলীলায় এক পোয়া গোশত কিনতে পারতো। সেই গোশতে আলু দিয়ে ঝোল করে ৪ বা ৫ জনের পরিবার আনন্দ করে একবেলা গোশত খাবার সাধ মেটাতে পারতো। এখন এক পোয়া দূরে থাক আধা কেজি গোশতও দোকানে গিয়ে চাইতে লজ্জায় পড়ে যায় সকলে। দাম জিজ্ঞেস করলে দোকানদার প্রথমেই ধমকের সুরে জিজ্ঞেস করে, কয় কেজি? বাজারে মাছ কেটে ছোট ছোট ভাগা দিয়ে বিক্রি করা প্রায় উঠে গিয়েছে। এক পোয়া বা আধা কেজি সব্জি চাইলে দোকানি তাচ্ছিল্যের সুরে বলে দেয়, এক পোয়া বেচি-না। আপনার পরিবার যতো ছোট হোক আপনাকে বাজারের বাস্তবতার কারণে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি জিনিস কিনতে হবে। সে জিনিসগুলো পচনশীল হলে সেগুলো রাখার জন্য ফ্রিজ লাগবে আপনার। এদেশে আগে কটা বাড়িতে ফ্রিজ ছিলো? আর এখন।
এভাবে এই সমাজের বাজারগুলো পর্যন্ত আপনাকে ডিক্টেট করছে, হয় ভালো কিছু ভোগের ইচ্ছে ছেড়ে দাও, না হলে যেমন করে পারো টাকা কামাও। এই যে ব্যবস্থা আমরা চালু করেছি এবং মেনে নিচ্ছি, মানিয়ে নিচ্ছি, সহ্য করছি। সেই ব্যবস্থাই আমাদের অন্যায়, দুর্নীতি, চুরিতে উৎসাহিত করছে। ক্ষমতাসীনেরাও এই ব্যবস্থাকেই লালন করছে। কারণ তারাও ভোগবাদী এবং চুরি, দুর্নীতি, লুটে খাবার তরিকা তাদেরও। তাই এই কর্তা-কর্ত্রীরা রাশ আলগা করে বসে থাকে দুর্নীতির সুযোগ দিয়ে। চুরি-দুর্নীতির সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের নীতি হচ্ছে। তোমরা খেয়ো খুঁদ-কুঁড়ো, আর আমরা খাবো মাছের মুড়ো’। কিন্তু সুযোগ পেলে দুর্নীতির এই অলিখিত গাইড লাইন কেউ কী মেনে চলে? কেউ কী সীমিত ও সহনীয় মাত্রা মেনে দুর্নীতি করে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত