শিরোনাম
◈ এবারের নির্বাচন লাইনচ্যুত রেলকে লাইনে ফেরানোর চেষ্টা: নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ ◈ রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গুলি করে হত্যা ◈ ইসিতে বৈঠক শেষে ডা: তাহের: আগামীর নির্বাচন যদি ‘সাজানো’ হয়, বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে ◈ ইসি’তে আপিল আবেদনের ভিড় বাড়ছে: তৃতীয়দিন ১৩১টি জমা ◈ উচ্চপর্যায়ের পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে ইইউ, প্রধান উপদেষ্টাকে পাওলা পাম্পালোনি ◈ জকসু নির্বাচন: ২৬ কেন্দ্রের ফলাফলে ভিপি পদে ৩৫১ ভোটে এগিয়ে শিবিরের রিয়াজুল ◈ ইসিতে যেসব অভিযোগ জানাল জামায়াত ◈ সংগীত বিভাগে শিবির সমর্থিত জিএস-এজিএস প্রার্থীর ঝুলিতে শূন্য ভোট ◈ নিজ দেশের নাগরিক হত্যা, তাদের গণকবর—সভ্য রাষ্ট্রে কল্পনাও করা যায় না: প্রধান উপদেষ্টা ◈ গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ কেন? দ্বীপটি কতটা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ

প্রকাশিত : ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ০৯:৪৯ সকাল
আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ০৯:৪৯ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

প্রিয়াংকা আচার্য্য: আপনার হাসির শব্দ কানে ভীষণ বাজছে

প্রিয়াংকা আচার্য্য: আপনার সঙ্গে আমার বেশ কিছু ছবি আছে। এটা সবচেয়ে সুন্দর। আমার খুব প্রিয়। তবে ছবিকে ঘিরে এমন অপ্রিয় এক শোক আঙুল নিঙড়ে যে এতো অসময়ে বের হবে তা কে জানতো!

আপনি ছিলেন আমার কৈশোরের 'রিয়েল হিরো'- মুক্তির গান ছবির মোটা ফ্রেমের আড়ালে তীক্ষ্ণ দৃষ্টির সেই তেজদীপ্ত ছেলেটি।

পরিচয় হওয়ার অনেক পরে জেনেছি যে আপনিই সেজন। তা জানার আগেই আপনার অসাম্প্রদায়িক, আপোষহীন, দৃঢ়চেতা সত্তার কাছে নত হয়েছি।

আপনিই শিখিয়েছেন- এ দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হলেও নিজের অস্তিত্ব কীভাবে টিকিয়ে রাখতে হয়। দিদাকে বাসার বাইরে গেলে নানী, পিসিকে ফুপি, মাসিকে খালা না বলতে।

চিন্তার অনেক জটিলতায় আপনি সহজেই পথ বলে দিতেন। হয়তো এজন্যই আমি পেশাগত জীবনে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাজ করতে আগ্রহী হয়েছি।

নারীর মর্যাদা, অধিকার, আন্দোলন নিয়ে আপনি ছিলেন সচেতন। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ওপর ডকুমেন্টারির কাজ শুরু করতে আপনি নানাভাবে পরামর্শ দিয়েছেন। কল্পনা দত্তকে নিয়ে কাজ করার কথা আমার ওয়ালে আপনার করা শেষ কমেন্টে জানিয়েওছেন।

এই গোটা লক ডাউনে যখন চারিদিক থেকে আসা হতাশায় ডুবে যাচ্ছিলাম, তখন আপনি সাহস জুগিয়েছেন। পাশে থেকেছেন।

শেষ দেখায় আপনি স্থপতি-কবি রবিউল হুসাইন ভাইয়ের হঠাৎ চলে যাওয়া নিয়ে আফসোস করেছিলেন। আপনি বলেছিলেন- এরপর দেয়ালে কার ছবি উঠবে কে জানে!

আসলেই কে জানতো!! মানে কী করে মেনে নেয়া যায় এমন করে চলে যাওয়া!!!

গত কিছু আলাপে আমাদের কথা হয় দেশভাগ নিয়ে। আপনি বই পড়তে খুব ভালোবাসেন। তাই এ বিষয়ের ওপরই একটা বই আপনাকে দেয়ার জন্য কিনেছিলাম। দুই দিন আপনার সঙ্গে দেখা করে বইটা দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হয়নি। আপনি অপেক্ষা করেছেন আমি পৌঁছাতে পারিনি।

এবার আমার অপেক্ষার পালা। দিনতো একদিন ফুরাবেই। অনেক অনেক অনেক কথা জমা আছে, আরও থাকবে। অভিমান, চোখের জল, সব থাকবে। সেগুলো বলবো। জ্বালাবো সেখানেও।

শেষ ফোনকথায় আপনাকে বলেছিলাম- আপনার চেহারার সঙ্গে গুলজার সাহাবের দারুণ মিল। আপনি হেসেছিলেন। আপনার হাসির শব্দ কানে ভীষণ বাজছে!

আপনি আমার পোস্টগুলো সব পড়তেন। নিশ্চয়ই এটাও পড়বেন। তাই বলছি- আপনাকে ভালোবাসি, বড্ড বেশিই ভালোবাসি। আর ভালোবাসবোও... সে যেখানেই থাকেন!

মরণ রে তুহুঁ মম শ্যাম সম...

ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়