প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৬৮৭ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট: চলতি বছরের মার্চে বৈশ্বিক মহামারী কভিড-১৯-এর বড় ধাক্কা লাগে বাংলাদেশ থেকে পণ্য রফতানিতে। এপ্রিলে গিয়ে ব্যাপক হারে কমে যায় রফতানি। তবে মে মাস থেকে রফতানি পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হয়। জুনের পর অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই-আগস্টেও যা অব্যাহত ছিল।

করোনার প্রভাবে চলতি বছরের মার্চে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে পণ্য রফতানি কমে ১৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। এরপর এপ্রিলে কমে ৮২ দশমিক ৮৫ শতাংশ। আর মে মাসে কমে ৬১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। জুনেও রফতানি কমার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলেও ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধির হার আগের তুলনায় কম, ২ দশমিক ৫ শতাংশ। জুলাইয়ে রফতানি বেড়েছে অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি ছিল ধনাত্মক। প্রবৃদ্ধির হার শূন্য দশমিক ৫৯ শতাংশ। সর্বশেষ আগস্টে রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৩২ শতাংশ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রভিশনাল প্রতিবেদন বলছে, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রফতানি হয়েছে ৩৯১ কোটি ৯ লাখ ২০ হাজার ডলারের। গত অর্থবছরের জুলাইয়ে রফতানির পরিমাণ ছিল ৩৮৮ কোটি ৭৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এ হিসেবে রফতানি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫৯ শতাংশ।

আগস্টে বাংলাদেশ থেকে রফতানি হয়েছে ২৯৬ কোটি ৭১ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পণ্য। গত অর্থবছরের আগস্টে রফতানি হয়েছিল ২৮৪ কোটি ৪৩ লাখ ডলারের পণ্য। এ হিসেবে রফতানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৩২ শতাংশ।

ইপিবির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের শুধু জুলাইয়ে রফতানি প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক ছিল। ডিসেম্বর ছাড়া আগস্ট থেকে জুন সব মাসেই রফতানি নেতিবাচক ছিল। এরপর চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাইয়ে অর্থাৎ টানা ছয় মাস পর রফতানি বেড়েছে বা ধনাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়, যা আগস্টেও অব্যাহত রয়েছে।

ইপিবির হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই-আগস্টে ৬৮৭ কোটি ৮০ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে বাংলাদেশ থেকে। গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছিল ৬৭৩ কোটি ২১ লাখ ডলারের পণ্য। এ হিসেবে প্রথম দুই মাসে রফতানি বেড়েছে ২ দশমিক ১৭ শতাংশ।

বরাবরের মতো মোট রফতানির সিংহভাগই ছিল তৈরি পোশাক। জুলাইয়ে মোট রফতানিতে তৈরি পোশাকের অংশ ছিল প্রায় ৮৩ শতাংশ। পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ কর্তৃক এনবিআর থেকে সংগৃহীত পরিসংখ্যানের সঙ্গে ইপিবির পরিসংখ্যানের পার্থক্য আছে বলে সংগঠন সূত্রে জানা গেছে। এনবিআর থেকে বিজিএমইএ সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী আগস্টে পোশাক রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৫ শতাংশ। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী আগস্টে পোশাক রফতানি প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, আগস্টে মোট রফতানি ২৯৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার হলে এর মধ্যে পোশাক রফতানি ২৪৬ কোটি ৭০ লাখ ডলারের, যা এনবিআর পোর্টালের তথ্য-উপাত্তের সঙ্গে বেশ সাংঘর্ষিক। ইপিবি ও এনবিআরের তথ্যে ৯০ কোটি ১০ লাখ ডলারের পার্থক্য; যা অ্যাবসার্ড। আমার মনে হয়, এনবিআরের তথ্যভাণ্ডারে কোনো ইস্যু আছে অথবা ইপিবির তথ্য ত্রুটিপূর্ণ।

তিনি বলেন, এনবিআরের তথ্য যাচাই করে পণ্যভিত্তিক রফতানি ও প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তথ্যের এমন কারসাজি অসম্ভব। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং তথ্য এনবিআরের বড় প্রবৃদ্ধির সঙ্গে মিলছে না। তাই কোনটি সত্য তা নিয়ে আমরা বিভ্রান্ত। কিন্তু আমাদের কাছে প্রমাণ হিসেবে এনবিআরের র-ফরম্যাট তথ্য-উপাত্ত আছে।

সদ্যসমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষ ছয় মাস কেটেছে বৈশ্বিক মহামারী কভিড-১৯-এ। জানুয়ারি থেকে জুন এর মধ্যে এক মাস রফতানিমুখী শিল্প-কারখানা ছিল প্রায় নিষ্ক্রিয়।

বিদেশী মুদ্রা আয়ের সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র পোশাকের বিপুল পরিমাণ ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিতের পর রফতানির নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে দুই অংকের। রফতানি পতন হয়েছে আয়ের অন্যতম বৃহৎ উৎস চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যেরও। কিন্তু বৈশ্বিক এ সংকটের মধ্যেও ভালো করছে সোনালি আঁশখ্যাত পাট। রফতানির লক্ষ্যও পূরণ করেছে শুধু এ পণ্যটিই।

রফতানি খাতের শীর্ষ তিন পণ্য হলো পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত এবং পাট ও পাটজাত পণ্য। বরাবরের মতো গত অর্থবছরেও রফতানি সবচেয়ে বেশি হয়েছে পোশাকের। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পোশাকের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রফতানি হয় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের, তৃতীয় সর্বোচ্চ রফতানি ছিল পাট ও পাটজাত পণ্যের। তবে ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ চিত্রে পরিবর্তন এসেছে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রফতানি হয়েছে পাট ও পাটজাত পণ্যের। পোশাক ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানি কমলেও বেড়েছে পাট ও পাটজাত পণ্যের।

চীনের উহানে কভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় গত ডিসেম্বরের শেষে। ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে তা বিশ্বের অধিকাংশ দেশে ছড়িয়ে পড়ে। করোনার প্রভাবে দেশের তৈরি পোশাক খাত প্রথমে কাঁচামালের সরবরাহ সংকটে পড়ে। কারণ দেশে তৈরি পোশাক খাতের ওভেন পণ্যের আনুমানিক ৬০ শতাংশ কাপড় আমদানি হয় চীন থেকে। দেশটি থেকে নিট পণ্যের কাঁচামাল আমদানি হয় ১৫-২০ শতাংশ। পরবর্তী সময়ে ধীরগতিতে হলেও কাঁচামাল সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও রফতানি গন্তব্যগুলোয় চাহিদার সংকট তৈরি হয়।বণিক বার্তা

 

সর্বাধিক পঠিত