প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মনোনায়ন গ্রহণের ভাষণে ন্যাটো, সীমান্ত ও করোনা নিয়ে মিথ্যে দাবী ট্রাম্পের, বাইডেনকে ব্যক্তিগত আক্রমণ

লিহান লিমা: [২] করোনা ভাইরাস, হ্যারিকেন লরা ও বর্ণবাদী হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে চলমান বিক্ষোভে কঠিন সময় পার করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যেই স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ বাগান থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনায়ন গ্রহণের ভাষণ দেন ট্রাম্প। মহামারীতে জনসমাগমের বিষয়ে বিধি-নিষেধ থাকলেও এই সময় উপস্থিত ছিলেন দেড় হাজারের বেশি অতিথি। যদিও নিজের ভাষণে ট্রাম্প দাবী করেছেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করতে তার প্রশাসন সত্য এবং সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করছে। এই বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র টিকা হাতে পেয়ে যাবে। এপি/সিএনএন

[৩]মার্কিন গণমাধ্যম এপি বলছে, অতিথিদের কেউই সামাজিক দুরুত্ব ও মাস্কের বিধান মানেন নি। সম্মেলনে নিজ প্রশাসনের করোনা ভাইরাস জনিত নিষেধাজ্ঞাই অমান্য করেছেন ট্রাম্প। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্য অনুসারে কোনো প্রেসিডেন্টই রাজনৈতিক কাজের জন্য হোয়াইট হাউসকে ব্যবহার করে নি। কিন্তু ট্রাম্প ঐতিহ্যের লঙ্ঘন করেছেন। সিএনএন এর ফ্যাক্ট চেক বলছে, মনোনায়নের ভাষণে ২০টিরও বেশি মিথ্যে দাবী করেছেন ট্রাম্প। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, ন্যাটো, সীমান্ত দেয়াল ও করোনা ভাইরাসসহ অন্যান্য ইস্যুতে স্পষ্টতই মিথ্যে দাবী করে গেছেন ট্রাম্প।

[৪] এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দেয়া ভাষণে ডেমোক্রেট দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেনকে আক্রমণ করে ট্রাম্প বলেন, ‘জো আপনাদের স্বাস্থ্যসেবার ডলার অবৈধ অভিবাসীদের দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জো আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বকে বিনষ্ট করবেন। আমেরিকান স্বপ্নকে ভাঙচুর করবেন। চাকরি খাতগুলোকে ধ্বংস করবেন। বাইডেন ও তার দলের যুক্তরাষ্ট্র হবে বর্ণবাদ, অর্থনীতি ও সামাজিক অবিচারের দেশ।’ ট্রাম্প দাবী করেন, ‘গত ৪৭ বছরে জো যুক্তরাষ্ট্রের যে ক্ষতি করেছে তা কাটাতে আমরা গত ৪ বছর কাজ করেছি। আমরা দেশের সুরক্ষায় সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ করেছি।’

[৫]এপি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এই জাতীয় অনিশ্চয়তার মধ্যেও ঐক্যের ডাক দেন নি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। উপরুন্তু উদারপন্থী বাইডেনকে ‘বাম চরমপন্থী, সমাজতান্ত্রিক ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি’ বলে আক্রমণ করেছেন, বলেছেন,‘বাইডেন আমেরিকাকে ভালোবাসেন না।’ ট্রাম্প আরো বলেন, ‘ডেমোক্রেটরা বলছে বাইডেন শালীন ও সহানুভূতিশীল। কিন্তু মার্কিন জনগণের এমন চরিত্রের মানুষ প্রয়োজন নেই। মিশিগান, ওহাইও, পেনসেলভেনিয়ার মতো রাজ্যগুলো সহানুভূতি নয় তারা তাদের চাকরি ফেরত চায়।’

[৬]যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভের জন্য ডেমোক্রেট গর্ভনর ও মেয়রদের দোষারোপ করেন ট্রাম্প । ট্রাম্প বলেন, ‘কেনোসা, মিনেপোলিস, পোর্টল্যান্ড, শিকাগো ও নিউইয়র্কসহ ডেমোক্রেট শাসিত অন্যান্য শহরগুলোতে দাঙ্গা, সহিংসতা, লুটপাট এবং ভাঙচুর চলছে। জো বাইডেনের আমেরিকায় কেউ নিরাপদ নয়। এমনটি হলে যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল ও অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়বে।’

[৭] নিজের ভাষণে অবসরপ্রাপ্তদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচী চালু করা নিয়ে মিথ্যে দাবী করেন ট্রাম্প । প্রসঙ্গত, ট্রাম্প বিষয়টি নিয়ে এ পর্যন্ত ১৫০ বারেরও বেশি মিথ্যে বলেছেন। কারণ ২০১৪ সালে এই প্রোগ্রামটি প্রথমবারের মতো স্বাক্ষর করেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ট্রাম্প বলেন, ‘আব্রাহাম লিংকনের সময় থেকে অন্য যে কোনো প্রেসিডেন্টের চেয়ে আফ্রো-আমেরিকান সম্প্রদায়ের জন্য অনেক বেশি কিছু করেছেন তিনি। গত ২০ বছরের ইতিহাসে ন্যাটো সদস্য দেশগুলো তাদের ব্যয় বাড়িয়ে বছরে ১৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি তহবিল দিতে রাজি হয়েছে।’ যদিও ২০১৫ ও ২০১৬ সালে কানাডা এবং ন্যাটো ইউরোপ তাদের ব্যয় বাড়ায়।

[৭] এই ভাষণে নিজের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থাপন করেছি, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করেছি ও অন্যায্য এবং ব্যয়বহুল প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বের হয়েছি। মধ্যপ্রাচ্যে আইএস পরাজিত হয়েছে ও ইরানের জেনারেল শীর্ষ সন্ত্রাসী কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়েছে এবং সম্প্রতি ঐতিহাসিক ইসরায়েল-আমিরাত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যদিও প্যারিস চুক্তি প্রত্যাহার ও জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থাপনের ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক নিন্দা ও সমালোচনার শিকার হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত