প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ৪৩ দিনে সরকারের নিট ব্যাংক ঋণ ৮ হাজার ৪২২ কোটি টাকা

সোহেল রহমান : [২] বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, আলোচ্য (১ জুলাই থেকে ১২ আগস্ট) সময়ে ব্যাংক খাত থেকে সরকার মোট ঋণ নিয়েছে ১০ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা। তবে এ সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ নেয়া হয়নি। বরং পূর্বে গৃহীত ঋণের ২ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। সে হিসাবে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ গ্রহণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৪২২ কোটি টাকা।

[৩] চলমান করোনা পরিস্থিতিতে রাজস্ব আদায় ব্যাপক কমে যাওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের পাশাপাশি করোনা মোকাবেলাসহ অন্যান্য ব্যয় সামাল দিতে অনেকটা বাধ্য হয়েই সরকারকে ব্যাংক ঋণ নিতে হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

[৪] এদিকে সমাপ্ত অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ বাজেটে ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি ছাড়িয়ে গেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট গৃহীতব্য ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। এর বিপরীতে নিট ঋণ নেয়া হয়েছে ৮২ হাজার ৪২১ কোটি টাকা। এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ছিল ৩৪ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা।

[৫] জানা যায়, চলতি বছরের ১২ আগস্ট পর্যন্ত সরকারের পুঞ্জিভ‚ত মোট অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা। গত অর্থবছর শেষে (৩০ জুন ২০২০) এর পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার ৭২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে গত অর্থবছর শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সরকারের মোট পুঞ্জিভ‚ত ঋণের পরিমাণ ছিল ৪৪ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা। সম্প্রতি ঋণ কিছুটা পরিশোধ করায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সরকারের মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা।

[৬] প্রসঙ্গত: চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সার্বিক ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে নিট ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৮৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা।

[৭] ব্যাংক খাত থেকে সরকারের এই বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণের ফলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমে যেতে পারে বলে বাজেট ঘোষণার পরপরই ব্যবসায়ী মহলের পক্ষ থেকে আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে।

[৮] এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত নতুন মুদ্রানীতিতে চলতি অর্থবছরের জন্য বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি আগের বছরের মতো অপরিবর্তিত রেখে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও গত অর্থবছরে ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। গত অর্থবছর বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির ছিল ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম। এছাড়া চলতি অর্থবছর সরকারের ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

 

 

সর্বাধিক পঠিত