প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বঙ্গবন্ধুর সেই নৌ-রেস্টহাউসটি এখন করুন দশা

আসাদুজ্জামান বাবুল: [২] গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় চির নিদ্রায়-শায়িত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেই নৌ-রেস্টহাউসটি এখোন আর আগেরমত নাই। অযত্ন আর অবহেলায় নষ্ট হয়ে গেছে নৌ-রেষ্টহাউসের জৌলস। সঠিক সংরক্ষন আর রক্ষনা-বেক্ষনের অভাবে মরিচা পড়ে গেছে নৌ-রেস্টহাউসের প্রতিটি জানালা-দরজায়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মুতি বিজড়িত বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সিন্ধিয়াঘাট জরাজীর্ন নৌ-রেস্টহাউস ভবনটি সংস্কার করে সেই রুপে ফিরিয়ে নেয়া উচিত বলে মনে করেন বঙ্গবন্ধুর ভক্তরাসহ স্থানীয় লোকজন।

[৩] তারা মনে করেন, ভবনটির চারপাশে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণসহ নানান প্রকার শোভাবর্ধনকারী গাছ লাগিয়ে জাতির পিতার স্মুতি স্বযত্নে রাখবেন সরকার। গতকাল শুক্রবার সকালের দিকে মধুমতি নদী তীরবর্তী সিন্ধিয়াঘাট নৌ-রেস্টহাউজ পরিদর্শনকালে দেখা যায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত সিন্ধিয়াঘাট নৌ-রেস্টহাউজটি অযত্ন-আর অবহেলায় দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রক্ষনা-বেক্ষনের অভাবে মরিচা পড়ে গেছে নৌ-রেষ্টহাউসের প্রতিটি জানালা-দরজায়। দুরঘন্ধযুক্ত ময়লা আর আবজনা পড়ে আছে যেখানে সেখানে। গরু- ছাগল আর কুকুর বিড়ালের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ারমত।

[৪] বাতি বিহীন নৌ-রেস্টহাউসটি রাতের বেলা এক ভুতড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয় এমন অভিযোগ করে এলাকাবাসী বলেন, সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের চরম গাফিলতি ও দায়িত্ব পালনে অবহেলায় নৌ- রেস্টহাউসের ভেতরে-বাহিরে নানান ধরনের অসামাজিক কাজও হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা জানতে শুক্রবার বিকেল ৩ টা থেকে ৪ টা পযন্ত গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ বৈদ্যর সঙ্গে ফোনে কথা বলার জন্য যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার ফোন ব্যস্ত পাওয়া গেছে। ও সঠিকভাবে সংরক্ষন না করায় যথাযথভাবে সকল কাজকর্ম সম্পাদন করার জন্য জোর তাগিদ দেন।

[৫] এদিকে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মুতি বিজড়িত নৌ-রেস্টহাউসটির সবশেষ খবর জানতে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গোপালগঞ্জ ১ আসনের এমপি মুহাম্মদ ফারুক খাঁনের সঙ্গেঁ ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, চলতি আগস্ট মাসের ১৬ তারিখে রেস্টহাউসটি আমি পরিদর্শন করেছি। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর স্মুতি বিজড়িত বাংলাদেশ দেশ স্বাধীনের আগে ১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টুঙ্গিাপাড়া থেকে নৌপথে ফরিদপুর আদালতে হাজিরা দিতে এবং সাংগঠনিক সফরে ফরিদপুর যেতেন তখন পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিন্ধিয়াঘাট এই নৌ-রেস্টহাউজটিতে বিশ্রাম করতেন।

[৬] মামলার তারিখের আগের দিন বা সাংগঠনিক মিটিংয়ের আগের দিন জাতির পিতা টুঙ্গিপাড়া থেকে নৌপথে এমবিআর চ্যানেল হয়ে মুকসুদপুরের সিন্ধিয়াঘাট রেস্টহাউজে উঠতেন। সে সময়ে সিন্ধিয়াঘাট নৌফাড়ির পুলিশ ও স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সারারাত জাতির পিতার নিরাপত্তায় পাহারায় নিয়োজিত থাকতেন। রাত্রীযাপনকালে স্থানীয় লোকজনের সাথে নানান বিষয় নিয়ে বিভিন্ন দিক নির্দেশনাও দিতেন। এখানে রাত্রীযাপন শেষে পরদিন তিনি মামলার তারিখে হাজিরা এবং সাংগঠনিক সফরে ফরিদপুর যেতেন।

[৭] তিনি আরো বলেন, আগামী প্রজন্ম যাতে জাতির পিতা সম্পর্কে আরো জানতে পারে এবং তার আদর্শ বুকে ধারণ করে সামনে এগিয়ে যেতে পারে সেজন্য সিন্ধিয়াঘাট রেস্টহাউসটি সংস্কার করতে বলেছি। মুহাম্মদ ফারুক খাঁন আরো বলেন, প্রথমে সরকারী জায়গায় বাউন্ডারী দেওয়া হবে। এরপর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সেখানে বিভিন্ন ধরনের শোভাবর্ধনকারী গাছ লাগানো হবে। পাশেই নদীতীরে নির্মাণ করা হবে দৃষ্টি নন্দিত একটি ঘাটলা। আগামী এক মাসের মধ্যে এসব কাজ সম্পন্ন করার জন্য গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীকে আমি নির্দেশ দিয়েছি। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যে চেয়ারটিতে বসতেন বা যেসব জিনিস ব্যবহার করতেন সেসকল জিনিসপত্র আমাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। সংস্কারের পর ওই নৌ-রেস্টহাউসটিতে সেগুলো জাতির পিতার স্মৃতি হিসেবে রেখে দেওয়া হবে।

[৮] এ সময় গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ বৈদ্য, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মীর শাহিনুর রহমান, মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাড. আতিকুর রহমান মিয়া, সাধারন সম্পাদক রবিউল ইসলাম শিকদার, পাউবো উপ-সহকারী প্রকৌশলী অরুন কুমার চক্রবর্তী, শরিফুল ইসলাম, স্থানীয় গোহালা ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সম্পাদনা: সাদেক আলী

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত