প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আরিফুজ্জামান তুহিন: বেলারুশে কী হচ্ছে?

আরিফুজ্জামান তুহিন: বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর বিরুদ্ধে লাখো মানুষ ভোট চুরির অভিযোগে রাজধানী মিনস্কে জড়ো হয়েছে। গত সপ্তাহে প্রকাশিলত ফল অনুযায়ী হেরে যাওয়া প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সভেৎলানা তিখানোভস্কায়া দেশ ছেড়েছেন। ২৬ বছর এক নাগাড়ে ক্ষমতায় থাকা ‘বামপন্থী’ এই পার্টির নেতা লুকাশেঙ্কোকে এবার বিদায় নিতে হবে এমনটি দাবি পশ্চিমা মিডিয়ার। বেলারুশের অর্থনীতি এমনিতে খারাপ ছিলো, তার মধ্যে কোভিড দেশটিকে ধসিয়ে দিয়েছে। যখন মানুষ তার অধিকারের জন্য লড়াই করে সেই দৃশ্য আমার কাছে অদ্ভুত সুন্দর লাগে। বেলারুশের এই লাখো মানুষ জড়ো হওয়ার দৃশ্যও সুন্দর। বুর্জোয়া মালিকশ্রেণির গণতন্ত্রে রাষ্ট্রে জনগণের অংশগ্রহণ ও তার ক্ষমতা শাসনকার্যে জারি রাখার জন্য প্রশ্নে ভোট একটি বৈধ ও কার্যকরি ব্যবস্থা। ফলে পৃথিবীতে যেখানে মানুষ তার অধিকারের প্রশ্নে লড়াই করে সেটাতে সমর্থন থাকে শুভবোধ সম্পন্ন মানুষের। বেলারুশের নামের প্রথম অক্ষরের সঙ্গে মিল এমন একটি দেশেও রাতের বেলায় ভোট হয়, তবে সেখানে মানুষ কাজকর্ম ফেলে দিয়ে এভাবে রাস্তায় নামে না। কারণ তারা এসব শাসনকার্যে নিজেদের জড়াতে চান না। কিন্তু হুট করে লুকাশেঙ্কো বিরোধী? লুকাশেঙ্কো গোড়া সোভিয়েতপন্থি লোক। এক সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন।

সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাবার সময় বেলারুশ যখন সোভিয়েত থেকে স্বাধীন হয় তখন একমাত্র লুকাশেঙ্কো এর বিরোধিতা করে ভোট দিয়েছিলেন। তিনি ক্ষমতায় আসার সোভিয়েত যুগের বহু কিছু ফিরিয়ে এনেছেন। তার মধ্যে অন্যতম হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা না রাখা। তবে বড় বড় প্রতিষ্ঠানের রাষ্ট্রায়ত্বকরণ করে করপোরেটদের সাইজ করেছেন এটাও সত্য। পুতিন ক্ষমতায় আসার পর থেকে গলায় গলায় পিরিত রেখে চলছিল। কিন্তু গত নির্বাচনের আগে লুকাশেঙ্কো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনলো খোদ পুতিন ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে। সেটি হলো, বেলারুশকে অস্থিতিশীল করতে রাশিয়া ভাড়াটিয়া খুনি পাঠিয়েছে। ৩৩ জন রাশান ভাড়াটিয়া খুনিকে বেলারুশ থেকে আটক করে রাশিয়াতেও পাঠানো হলো। যদিও রীতিমতো রাশিয়া সেটি অস্বীকার করেছে। কিন্তু এখানে বড় একটি প্রশ্ন রয়েই গেছে। সেটি হলো যে ভাড়াটিয়া প্রতিষ্ঠানের ৩৩ জুন মার্সেনারি বা ভাড়াটিয়া খুনিকে লুকাশেঙ্কো সরকার আটক করেছিল তারা ছিলো রাশিয়ার বেসরকারি কোম্পানি ওয়াগনার গ্রুপের। ওই ওয়াগনার গ্রুপের মালিক হলেন Yevgeny Prigozhin। তিনি পুতিনের খুব কাছের বন্ধু হিসেবে পরিচিত।

Yevgeny Prigozhin কোম্পানি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কারণ ২০১৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে Yevgeny Prigozhin-এর হাত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নানান কিসিমের অদ্ভুত সব ব্যবসা তার। তবে ওয়াগনার গ্রুপের বিরুদ্ধে অন্যতম অভিযোগ হলো সিরিয়াতে প্রেসিডেন্ট বাশারের পক্ষ হয়ে ভাড়াটিয়া খুন করেছে বিরোধীদের। ইউক্রেন যে ভেঙে গেলো তা এই ওয়াগনার গ্রুপের মার্সেনারিরা মিলিটারি অ্যাকশান নিয়েছিল বলে। সুদানের গৃহযুদ্ধে তাদের ভাড়াটিয়া বাহিনী কাজ করেছে, তারা সক্রিয় আছে লিবিয়াতে।

মোদ্দাকথা, রাশিয়ার স্বার্থ যেখানে সেখানে ওয়াগনার গ্রুপের ভাড়াটিয়া বাহিনী গিয়ে বিরোধীদের খুন করে। বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো এবারের ধাক্কাতে পড়ে যাবে না। আমার ধারণা মধ্যবিত্তের এই আন্দোলন দমন করবে লুকাশেঙ্কো। তবে দেশটিতে রাশিয়ার প্রভাব আরও বাড়বে। কারণ এই আন্দোলন দমন করতে হলে বেলারুশের পুতিনের সাহায্য তাকে নিতে হবে। আর পুতিনও চাইবে না ঘরের মধ্যে পশ্চিমাদের আরেকটা প্রেসিডেন্ট ঢুকে পড়ুক। এই আন্দোলনের এখন পর্যন্ত কোনো নেতা নেই। মূলত ব্লগাররা এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছাড়া সরকার পতন হতে পারে, সেটা দেখা গেছে আরব বসন্তের সময়। কিন্তু তার ফল আরও খারাপ হয়েছে। বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোকে বিদায় নিতে হলে দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশের বিরোধী দল এমন একটা চান্সের অপেক্ষায় থাকে, কখন মানুষ রাস্তায় নেমে সরকার ফেলে দেবে আর তারা ক্ষমতায় গিয়ে বসবে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত