প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কামরুল হাসান মামুন: আমরা কেউ সামান্য একটু গবেষণা করলেই মনে হয় বিশাল বিজ্ঞানী বা পদার্থবিদ হয়ে গেছি

কামরুল হাসান মামুন: আমরা প্রায়ই বিজ্ঞাপন দেখি ১৫ দিনে কোরান শিক্ষা, ১ মাসে ইংরেজি শিক্ষা, ২ মাসের কোচিংয়ে জিপিএ-৫ গ্যারান্টি ইত্যাদি। এছাড়াও দেখি ১ বছরে বিনিয়োগের টাকা দ্বিগুন হওয়ার বিজ্ঞাপন। আরও দেখি বিভিন্ন জটিল রোগের গ্যারান্টিসহ এমন চিকিৎসা যে ৩ মাসে সেরে যাবে। এইরকম স্টান্টবাজি মার্কা চটকদার বিজ্ঞাপন প্রায়ই আমরা আমাদের মেইনস্ট্রিম পত্রিকাতেই দেখি। কিছুদিন আগে দেখলাম সরকারের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গ্যারান্টি দিয়ে বলেছেন, ৩ মাসের মধ্যে দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করতে পারবেন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১০ জন সৎ কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি উইং গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন রেলের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুব কবির মিলন। এই উইং তিন মাসের মধ্যে দেশের সব খাতের দুর্নীতি দূর করবে আর না পারলে যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেবেন বলেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তিনি। একজন সরকারি কর্মকর্তা কি এইভাবে প্রকাশ্যে স্টান্টবাজি করতে পারে? কাজটি যতো মহৎই হোক আর তিনি যতো সৎই হোন এমন কাজ একদম ঠিক হয়নি। প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সময় চেয়ে উনার সাথে আলোচনাকালে এইরকম একটি প্রস্তাব দিতে পারতেন এবং তাও একান্ত আলাপে। এইভাবে জনসমক্ষে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া সরকারের জন্যও বিব্রতকর হতে পারে। জ্ঞানবুদ্ধি ঠিকঠাক মতো থাকলে এইরকম বোকামি করতেন না। কারণ উনার জানা উচিত গল্প সিনেমায় এমন হতে পারে কিন্তু বাস্তবে নয়। উনি বাংলাদেশের দুর্নীতির মাত্রাই বুঝতে পারেননি। বুঝতে পারলে তিনি আমি কী হনুরে ভাব দেখাতেন না। উনার চ্যালেঞ্জ আসলে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ছিলো। দেখুন আপনি ১০ বছরেও যেই কাজ পারেননি বরং খারাপ হয়েছে আমি তা ৩ মাসে করে দেখিয়ে দেবো।

শুনেছি উনি সৎ কর্মকর্তা। শুনে ভালো লেগেছে। এও শুনেছি রেলে উনি কিছু ভালো কাজ করেছেন। এটাও ভালো। আসলে এই দেশে এখন ভালোর সংখ্যা এতো কম যে একটু আধটু ভালো কাজ করলেই অনেক খারাপের মাঝে নিজেকে অনেক বেশি ভালো মনে হয়। এটা সর্বক্ষেত্রেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক গবেষকদের ক্ষেত্রেও এটা সত্যি। যেমন বাংলাদেশে গবেষণা হয়ই না। আমরা কেউ সামান্য একটু গবেষণা করলেই মনে হয় বিশাল বিজ্ঞানী বা পদার্থবিদ হয়ে গেছি। প্রতিবেশী দেশ ভারতের সীমান্তের ওপারে কলকাতাতেই একেকজনের শত শত ভালো ভালো মানের গবেষণা পত্র আছে এমন গবেষকের সংখ্যা অনেক। তাদের মধ্যে আমি কী হনুরে ভাব আসে না। কারণ তারা পৃথিবীর স্ট্যান্ডার্ড জানে। আমাদের পত্রিকাগুলো অনেককে বড় বড় বিজ্ঞানী হিসেবে তুলে ধরে অথচ তাদের ২০টি গবেষণা আর্টিকেলও নেই। আমরা এমনই। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত