প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কামরুল হাসান মামুন: প্রতিবাদী মানুষের সংখ্যা যতো কমবে, প্রতিবাদী মানুষের ঝুঁকি ততোই বাড়বে

কামরুল হাসান মামুন: প্রতিদিন কোনো না কোনো বিষয় নিয়ে আমি লিখি। মাঝে মাঝে নিজেকে প্রশ্ন করি, লাভ কি হচ্ছে তাতে কিছু? আমার অধিকাংশ লেখাই শিক্ষা, শিক্ষকতা ও গবেষণা বিষয়ে। এর বাইরেও সমসাময়িক সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়েও আমি কী ভাবি বা মনে করি তা নিয়ে লিখি। তাই ঘটে যাওয়া প্রায় প্রতিটি বিষয়েই লিখি। আমি লক্ষ্য করেছি, অনেকেই আমার লেখা ততোদিন পর্যন্ত খুব পছন্দ করে ঠিক যতোদিন পর্যন্ত আমার কোনো লেখা তার স্বার্থে আঘাত না লাগে।

ইনফ্যাক্ট, আমার প্রায় প্রতিটি লেখাই কারো না কারোর চিন্তার বিরুদ্ধে যায়, কারো না কারো স্বার্থে আঘাত দেয়। যারা এক সময় আমার লেখা খুব পছন্দ করতো হঠাৎ করে দল বা তার প্রফেশন বা তার প্রিয় কোনো কিছুর সমালোচনা করে ফেলেছি আর সাথে সাথেই আমি অপছন্দের মানুষ হয়ে যাই। এরপর থেকে আমার কোনো লেখাই আর তার ভালো লাগে না। আমার তাতে কিছু যায় আসে না আমি যেমন বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ, প্রমোশনসহ অনেক বিষয়েই কড়া সমালোচনা করি। তেমনি কড়া সমালোচনা করি আমাদের রাজনীতি ও আমলাতন্ত্র নিয়ে। আমার কোনো লেখাই কোনো ব্যক্তিকে উদ্যেশ্য করে নয়। সব লেখাই লিখি সিস্টেমের বিরুদ্ধে। সিস্টেমের সমস্যাগুলোকে ডাইসেক্ট করে মানুষের সামনে উম্মোচিত করাই উদ্যেশ্য যেন পরিবর্তনের জন্য সামাজিক একটা চাপ সৃষ্টি হয়। যেমন বাংলা ট্রিবিউনে ‘গবেষণা না করেও ভাতা পান ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা’ এই শিরোনামে একটি আর্টিকেলের উপর আমি ইতোমধ্যেই দুটো লেখা পোস্ট করে ফেলেছি। আর্টিকেলটি প্রকাশের পরপরই দেখি অনেক শিক্ষক নানাভাবে ইনিয়েবিনিয়ে বলার চেষ্টা করছে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সব শিক্ষকরা গবেষণা না করে ভাতা নিচ্ছেন, এটা সত্যি না। মূল বিষয়টা হলো গবেষণা ভাতা নামে কিছু থাকতে পারে না। এই নিয়ে আমি গত বছরের ডিসেম্বর মাসেই বিস্তারিত লিখেছিলাম। এছাড়া আমি শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষকদের প্রমোশননীতিমালা কড়া সমালোচনা করে অনেক লেখা লিখেছি। সুসংবাদ হলো এইসব লেখার কারণে আমার সহকর্মীরা কিন্তু আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়েননি। আমি কিন্তু আমলা এবং অন্যান্য সেক্টর নিয়েও সমালোচনা করি। বিশেষ করে আমলাদের নানা দুর্নীতি, ব্যর্থতা নিয়ে যখনি কিছু লিখি তারা সহজভাবে নিতে পারেন না। তারা নিজেরা তো নিজেদের ভুল-ত্রুটি নিয়ে কখনো সোচ্চার হয় না তার উপর অন্যরা লিখলে পারলে দলে দলে ঝাঁপিয়ে পরে। প্রফেশন হিসেবে কোনো উন্নত মানের এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়।

এমনিতেই দেশের দুর্নীতি, চুরি, ডাকাতি, অপরাজনীতি ভরপুর তথাপি এইসবের বিরুদ্ধে শক্তিশালী কোনো প্রতিবাদ নেই। সব দেশেই এসবের প্রতিবাদের দায়িত্ব বর্তায় বুদ্ধিজীবীদের উপর। দুঃখের বিষয় হলো আমাদের দেশে যে বুদ্ধিজীবী নেই, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো কোনো অন্যায়ের তেমন কোনো প্রতিবাদ নেই। শুধু প্রতিবাদ নেই কেবল সেখানেই শেষ না। উল্টো অন্যায়কারীর পক্ষে সাফাইকারীর সংখ্যা এক্সপোনেনশিয়াললি বেড়ে যাচ্ছে। প্রতিবাদী কণ্ঠ এখন কমতে কমতে নগন্য সংখ্যায় পরিণত হয়েছে। এই অল্পসংখ্যক প্রতিবাদী মানুষকেও অনেকের সহ্য হয় না। প্রতিবাদী মানুষের সংখ্যা যতো কমবে, প্রতিবাদী মানুষের রিস্ক ততোই বাড়বে। যাহোক দেশকে ভালোবাসলে দেশের মঙ্গলের কথা ভেবে প্রতিবাদ করে যেতে হবে। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত