প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] লেবাননে বিস্ফোরণের নিহতদের মরদেহ দ্রুত সময়ে দেশে আনার দাবি

এএইচ রাফি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: [২] লেবাননের বৈরুতে বিস্ফোরনের ঘটনায় মারা গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার রাসেল মিয়া (২৩) ও সদর উপজেলা মাছিহাতার মেহেদী হাসান রনি (২৮) নামের দুই রেমিট্যান্স যোদ্ধা। তাদের নিহতের খবর এসে পৌছলে পরিবারগুলোতে চলছে শোকের মাতম। এ ঘটনায় নিহত কসবার কাইমপুরের রাসেলের বড় ভাই মো.সাদেক মিয়াও আহত হয়েছেন।

[৩] কসবা উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের জাজিসার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছেলের জন্য বিলাপ করে কিছুক্ষন পর পর জ্ঞান হারাচ্ছেন রাসেলের মা পারুল বেগম। নির্বাক হয়ে গেছেন তার বাবা। নিহত রাসেল ওই গ্রামের মো.মুর্শিদ মিয়ার ছেলে। রাসেলের মা বাবাকে সমবেদনা জানাতে ছুটে গেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ উল আলম। উপজেলার সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ রাসেলের বাড়িতে গিয়ে তার মা-বাবাকে সমবেদনা জানিয়েছে।
লেবাননে বিস্ফোরণের পর হাসপাতালে প্রায় ৭/৮ ঘন্টা পর জ্ঞান ফিরে পায় রাসেলের বড় ভাই সাদেক মিয়া। গত ৫ আগষ্ট বিকেলে একটি হাসপাতালের মর্গে খুঁজে পায় রাসেলের মরদেহ ।

[৪] নিহত রাসেলের মা পারুল বেগম কান্নাজড়িত গলায় বলেন, সরকার যেন তার মৃত সন্তানের লাশ ও আহত সন্তানকে দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করে তার বুকে ফিরিয়ে দেয়।

[৫] কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ উল আলম বলেন, নিহতের পরিবারের লোকজনকে সান্তনা দেয়া ছাড়া আর কিছুই করার নেই। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন নিহত ও আহতদের দেশে আনার ব্যাপারে সব ধরনের সহযোগিতা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হবে।

[৬] এদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের ভাদেশ্বরা গ্রামে একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে মেহেদী হাসান রনিকে হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বাবা তাজুল ইসলাম আর মা ইনরা বেগম। মা ইনরা বেগম বাকরুদ্ধ প্রায়। সুদে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ২০১৪ সালের ৯ মার্চ লেবাননে পাড়ি জমান রনি। এর মধ্যে বাবা তাজুল ইসলামও বাহরাইন থেকে দেশে ফেরত আসেন। এর ফলে পরিবারের পুরো চাপ পড়ে রনির ওপর। তবে পরিবারের জন্য হাসিমুখেই কাজ করে যাচ্ছিলেন রনি।

[৭] রনির বাবা তাজুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাতে রনির এক সহকর্মী ফোন করে জানান তিনি অসুস্থ্য, তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরপর বুধবার (৫ আগস্ট) ভোরে আবার ফোন করে জানান রনি মারা গেছেন। এখন আমার সন্তানকে শেষ দেখা দিতে দেশে তার মরদেহ দ্রুত ফিরিয়ে আনা হোক।

[৮] সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। আমরা নিহতের পরিবারকে প্রাথমিক অবস্থায় ২০হাজার টাকা সহায়তা দিব। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত