প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢাকা উপনির্বাচন: কী ভাবছে বিএনপি?

ডেস্ক রিপোর্ট : আসন্ন ঢাকা-৫ ও ঢাকা-১৮ উপনির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কি না এবিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি দলটি। তবে নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়ন পেতে ইতিমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। আর মনোনয়ন প্রত্যাশার পাশাপাশি প্রার্থীরা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণাও শুরু করেছেন।

গত ৬ মে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান মোল্লা এবং ১০ জুলাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মরহুম সাহারা খাতুনের মৃত্যুর পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি নির্বাচনী এলাকা আসন এখন খালি। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে, ঢাকা-৫ ও ঢাকা-১৮ উপনির্বাচন নিয়ে বিএনপি সম্ভাব্য প্রার্থী ও স্থানীয় নেতাদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। তারা এই প্রতিবেদককে বলেন, ঢাকায় এই দুটি আসন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে ছেড়ে দেয়া বিএনপির উচিত হবে না। আর যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না ছেড়ে দেয় তাহলে সেটা হবে সবচেয়ে বড় বোকামি। তাই আমাদের প্রত্যাশা দল ও দেশের স্বার্থে এই নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেবে।

তবে সর্বশেষ করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে গত ১৪ জুলাই বগুড়া-১ এবং যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচনে যায়নি বিএনপি। এবিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশে করোনাভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিবেশ নেই বলেই তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অন্যদিকে, ঢাকা-৫ আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের চিঠি পেয়েছিলেন মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ সভাপতি নবীউল্লাহ নবী এবং দলের কেন্দ্রীয় গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সেলিম ভূঁইয়া। পরে ঢাকা-৫ আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন পান নবীউল্লাহ নবী। যদিও ঢাকা-৪ এবং ঢাকা-৫ আসনটি আগে একটি আসন ছিল। ওই সময় এই আসনের আধিপত্য ছিল বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহম্মেদের। কিন্তু একাদশ নির্বাচনে ঢাকা-৪ আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন সালাহউদ্দিন আহম্মেদ। তবে এবার সালাহউদ্দিন আহম্মেদ কিংবা তার ছেলে তানভীর আহম্মেদ রবিন ঢাকা-৫ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ সভাপতি নবীউল্লাহ নবী এবং দলের কেন্দ্রীয় গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সেলিম ভূঁইয়াও এই আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী।

মনোনয়নের বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা-৫ আসনের বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেন, যদি যোগ্যতা, ত্যাগ এবং দলীয় স্বার্থ বিবেচনা করে দেয়া হয় তাহলে ঢাকা-৫ আসন থেকে সালাহউদ্দিন আহম্মেদ মনোনয়ন পাবেন। তবে একাদশ নির্বাচনে ঢাকা-৫ আসনে নবীউল্লাহ নবী ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন বলেও মানছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

জানতে চাইলে নবীউল্লাহ নবী বলেন, নির্বাচনের যাওয়ার বিষয়ে আমাদের দল সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তাই দল যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই আমার সিদ্ধান্ত। তবে নির্বাচনে অংশ্রগহণের সকল ধরণের প্রস্তুত আমাদের রয়েছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহম্মেদের ছেলে তানভীর আহম্মেদ রবিন বলেন, দল যদি চায় তাহলে আমার বাবা আবার এই আসন থেকে নির্বাচন করবেন। বাবার প্রস্তুতিও রয়েছে। আর এটাতো তারই আসন ছিল। তিনি এখানের প্রতিষ্ঠাকালীন এমপি। তাই দল যদি আবার তাকে প্রয়োজন মনে করেন তাহলে তিনি নির্বাচন করবেন।

এদিকে ঢাকা-১৮ আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের চিঠি পেয়েছিলেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর আলম ও বিএনপি ব্যবসায়ী নেতা বাহাউদ্দিন সাদী। যদিও পরে আসনটি শরীকদেরকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। ওই নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন ভোট করেন। কিন্তু এবার ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী দেবে বলে জানা গেছে।

এবার উপনির্বাচনে এই আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী যুবদলের মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর আলম ও বিএনপি নেতা বাহাউদ্দিন সাদী।

তবে বিএনপির স্থানীয় নেতারা নির্বাচনে বাহাউদ্দিন সাদীকে এগিয়ে রাখছেন। তারা বলেছেন, বাহাউদ্দিন সাদী বিএনপির একজন পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা। আর সুখে ও দুঃখে বাহাউদ্দিন সাদীকে সব সময় এলাকায় জনগণ ও দলীয় নেতাকর্মীরা পাশে পান। তাই যদি এই আসন থেকে বাহাউদ্দিন সাদীকে মনোনয়ন দেয়া হয় তাহলে তিনিই একমাত্র প্রার্থী যিনি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে লড়াই করে বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে বাহাউদ্দিন সাদী বলেন, দল যদি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে পিছানোর জন্য সুযোগ নেই। তবে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং মানুষের সংকটকালীন অবস্থার কথা বিবেচনা করেই নির্বাচনে যাওয়া থেকে জনগণ ও কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিকেই বেশী প্রাধান্য দিচ্ছেন। এজন্য বগুড়া ও যশোর উপনির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। তবে দল যদি নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে সেই পরিস্থিতিতে আমরা পূর্ণশক্তিতে প্রচার-প্রচারণা চালাবার মতো সাধ্য এবং সামর্থ্যে আমাদের আছে।

উপনির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এবিষয় নিয়ে এখনো কোন আলোচনা হয়নি। আর আলোচনা হলে তো আপনারাই (সাংবাদিক) আগে জানতে পারবেন।বাংলাদেশ জার্নাল, যুগান্তর

সর্বাধিক পঠিত