প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মানিকগঞ্জে যমুনার পানি না বাড়লেও প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল

সোহেল হোসাইন, মানিকগঞ্জ : [২] মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরিচা পয়েন্টে ২৪ ঘন্টায় যমুনার পানি কমেছে ৬ সেন্টিমিটার। তবে যমুনার পানি কমলেও জেলার বিভিন্ন নদ-নদী ও খাল-বিলের পানি ঢুকে পড়ায় জেলার পাঁচটি উপজেলার নিম্নাঞ্চাল প্লাবিত হচ্ছে।

[৩] জেলার দৌলতপুর, শিবালয়, ঘিওর, হরিরামপুর ও সাটুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে ফসলি জমিসহ রাস্তাঘাট। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্য সামগীর সংকট দেখা দিয়েছে।

[৪] জেলা প্রশাসসের তথ্যমতে, পদ্মা ও যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে পাঁচটি উপজেলায় বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে ২৩১ বর্গ কিলোমিটার এলাকা। এতে তলিয়ে গেছে ১৩ হাজার ৫৩৯ হেক্টর ফসলি জমি আর নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৯২৪ টি পরিবার। এছাড়া পানিবন্দি রয়েছে সাত হাজার ২৮৬ জন মানুষ।
তবে সরেজমিনে বন্যার চিত্র আরও ভয়াবহ বলে দাবি স্থানীয়দের। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দৌলতপুর, হরিরামপুর এবং শিবালয় উপজেলার চরাঞ্চলের কয়েক হাজার বাসিন্দা। এসব এলাকার বেশির ভাগ রাস্তাঘাট ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি রয়েছে কয়েক হাজার মানুষ।

[৫] দৌলতপুরের জিয়নপুর ইউনিয়নের জহিরুল বলেন, বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ইউনিয়নের বেশ কিছু রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসলি জমি। সড়কপথে অনেকটাই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। এসব এলাকায় রয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্য সংকট।

[৬] হরিরামপুর উপজেলার চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমান বলেন, পদ্মার পানিতে ডুবে গেছে উপজেলা পরিষদে যাতায়াতের প্রধান রাস্তা। উপজেলা পরিষদ চত্বর থইথই করছে বন্যার পানিতে। চরাঞ্চলের অবস্থা আরও ভয়াবহ। ঘর থেকে বেরুলেই প্রয়োজন নৌকার। এসব এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

[৭] সোমবার সকাল ৯ টার দিকে পর্যন্ত যমুনা নদীতে ১০ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। যেখানে পানির বিপৎসীমা হচ্ছে ৯ দশামিক ৪০ সেন্টিমিটার। রোববার সকাল ৯ টায় যমুনা নদীতে পানি ছিল ১০ দশমিক ১১ সেন্টিম অর্থাৎ, গেলো ২৪ ঘণ্টায় ৬ সেন্টিমিটার পানি কমেছে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীর আরিচা পয়েন্টে। তবে এখনো বিপৎসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে যমুনা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান মানিকগঞ্জ পানি বিজ্ঞান শাখা পানির পরিমাপক মো. ফারুক আহম্মেদ।

[৮] মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌস বলেন, বন্যা কবলিত এলাকার জন্য ১৩০ মেট্রিক টন চাল ও এক হাজার ৭০০ শুকনা খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও শিশুখাদ্য এবং গো-খাদ্যের জন্যও নগদ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

[৯] উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রান সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সবশেষ তথ্যানুযায়ী বন্যা কবলিত এলাকায় এখনো কোন প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি।

সর্বাধিক পঠিত