প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী: ওরা মানুষের অন্তরাত্মায় আঘাত করেছে

দীপক চৌধুরী : দুর্নীতিবাজদের ধরা ও উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা হতে পারে আগামীর রাজনীতিতে এক নম্বর প্রাসঙ্গিক। গণমানুষের আস্থা বাড়তে পারে কেবল চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে নেওয়া কঠিন অ্যাকশনগুলো। এটাই কেবল মজবুত কোনো ইস্যু সরকারের। বিএনপির থলিতে কিছুই নেই। বাংলাদেশের মানুষ বুঝতে সক্ষম যে, শেয়ালের পেটে কুমির হয় না, শেয়ালই হয়। চক্রান্তকারীরা যতই চক্রান্ত করুক না কেন, দেশ-বিদেশে ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করেও সফল হতে পারবে না। বিবিসি বলেছে, আমেরিকা, আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, ইন্ডিয়া তথা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যমে এ সপ্তাহে বাংলাদেশের একটি খবরই বড় সংবাদ শিরোনাম হয়েছে, তা হচ্ছে– ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের গ্রেপ্তার। করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর বাংলাদেশ থেকে যত খবর এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে এসেছে, এর মতো কোনো সংবাদ এত বেশি গুরুত্ব পায়নি।

শোনা যায়, রিজেন্ট হাসপাতালের অনিয়ম উদঘাটন এবং প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সাহেদ করিমকে গ্রেপ্তারের পর নাকি সমালোচকদের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলটির উচ্চপর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে আলোচনায় জানা গেছে, রিজেন্ট গ্রুপ ও সাহেদ করিমের অনিয়ম-অপরাধ সরকারই খুঁজে বের করেছে। সরকারই তাকে এখন বিচারের মুখোমুখি করেছে। এ ক্ষেত্রে সাহেদ করিমের দলীয় পরিচয়ও দেখা হয়নি। অথচ রিজেন্টের অনিয়ম প্রকাশিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগ ও সরকারের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সাহেদ করিমের ঘনিষ্ঠতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, হচ্ছে এবং প্রচার করা হচ্ছে। এটা নাকি ক্ষুব্ধ করে তুলেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাধারণ মানুষ মনে করে, তিনি ক্ষুব্ধ হওয়াটাই স্বাভাবিক। কারণ, তাঁর সরলতা, বিশ^াস ও আস্থার ওপর অনেকে ছুরিকাঘাত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৯ জুলাই সংসদ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে বলেছিলেন, ‘দুর্নীতি, অনিয়মের সঙ্গে জড়িত আমরা যাকেই পাচ্ছি এবং যেখানেই পাচ্ছি তাকে ধরছি। ধরছি বলেই চোর ধরে যেন চোর হয়ে যাচ্ছি। আমরা ধরি আবার আমাদেরই দোষারোপ করা হয়। এটাই হচ্ছে দুর্ভাগ্য। এর আগে তো দুর্নীতিটাই নীতি ছিল। অনিয়মটাই নিয়ম ছিল। সেভাবেই রাষ্ট্র চলেছে। যতদূর পারি শুদ্ধ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এ অনিয়মগুলো আমরা নিশ্চয়ই মানব না।’

সাধারণ মানুষের বিশ^াস, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর নির্দেশে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী কঠোর হয়ে তাকে যেকোনা মূল্যে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে ও কৃতকার্য হয়। সাহেদ, আরিফুর, ডা. সাবরিনারা জাতির অন্তরাত্মায় আঘাত করেছে। কোভিড-১৯ পরীক্ষায় জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত মো. সাহেদকে ধরার কৃতিত্বের দাবিদার সরকার। প্রমাণ হয়ে গেছে, দুর্নীতি করেও কেউ ছাড় পাবে না, সবাইকে ধরা হবে। এটা এখন পরিষ্কার যে, আর কেউ নয়, সরকারই সাহেদ, আরিফুর, ডা. সাবরিনাদের জালিয়াতি ফাঁস করেছে। এর আগে পাপিয়াদের বেলায়ও কিন্তু এ রকম হয়েছিল। সাহেদের দুষ্কর্ম নিয়ে আরও কিছুদিন পাল্টাপাল্টি অভিযোগ চলবে। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ কম। কিন্তু, এখানে মূল সমস্যা আস্থার সংকট। মানুষ মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে, আমাদের র‌্যাব, গোয়েন্দা, কাউন্টার টেররিজম, সিআইডি, পুলিশ অনেক দক্ষ ও শক্তিশালী। যে কোনো সময় যে কোনো অপরাধীকে ধরে ফেলার সক্ষমতা বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রয়েছে। কিন্তু অনেকে সময় সেই নির্দেশ উচ্চপর্যায় থেকে যেতে দেরি হয়ে যায়। কিন্তু ততক্ষণে অপরাধী নাকি পালানোর সুযোগ পেয়ে যায়। এক্ষেত্রে কঠিন কিছু নির্দেশ দিতে হবে। নারায়নগঞ্জে সেভেন মার্ডার কিন্তু আমাদের র‌্যাবই বের করেছে। সেখানে এক মন্ত্রীর মেয়ের জমাইসহ কেউ ছাড় পায়নি। অসংখ্যবার প্রমাণ হয়েছে, শেখ হাসিনা কাউকে ছাড় দেন না। দলের ব্যবসায়ী, ডিসি-এসপি, র‌্যাব, এমপি, মন্ত্রী, রাজনীতিবিদ কেউই নয়।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন অপকর্ম ও পাপলু এমপিসহ নানান ঘটনার সরকারের ঘনিষ্ট কেউ কেউ নিজের দায় এড়াতে যা বলেছেন, তা হাস্যকর ও অক্ষমের আর্তনাদ বলেই মনে হয়। রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক সাহেদ, সাবরিনা ও আরিফুল গংয়ের দৌরাত্ম্য এবং সাম্প্রতিক কিছু বিষয়ের পর ধারণা করা যায়, এই চক্র মারাত্মক শক্তিশালী ছিল। বিস্ময়কর হলো : ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, হাসপাতালের মালিক কিংবা সংসদ সদস্য, যিনি যেখানেই ধরা পড়ুন না কেন, তারা সুযোগ নিতে ক্ষমতাসীন দলের ‘ছিলেন’ এটা বোঝাতে চাইছেন কিংবা প্রচার করেছেন।
রিজেন্ট হাসপাতাল ও চেয়ারম্যান সাহেদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের ‘হটলাইন’ ও ই- মেইলে প্রতারণার ১৪০ অভিযোগ জমা পড়েছে। তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। এছাড়া তার (শাহেদ) পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। রোববার দুপুরে র‌্যাব সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ ।

কোভিদেও মধ্যেই নানারকম দুঃসংবাদ চারদিকে। তবে এরমধ্যে একটি সুসংবাদ মানুষকে আশা জাগায়। কারণ, কৃষিই আমাদের মূল ভিত। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দুনিয়ায় যাই ঘটতে চলুক না কেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সামনের দিনগুলোতে আমাদের প্রয়োজন মেটানোর সক্ষমতা এ দেশের কৃষকের আছে। তবে আমাদের অবশ্যই তাদের পূর্ণ সহযোগিতা দিতে হবে।
বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক ভাগ্যবান যে আমাদের কঠোর পরিশ্রমী, সৃজনশীল ও শক্তিশালী এক কৃষকসমাজ রয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কৃষকেরা খাদ্য উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়িয়েছেন। অধ্যাপক রেহমান সোবহান সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান। তার মতে, কৃষকরা যে শুধু কয়েক গুণ খাদ্য উৎপাদন করে চলেছেন, তা নয়, বরং ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানো ও একই সঙ্গে কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা দেখিয়ে চলেছেন। গবাদিপশু ও মৎস্যজাত পণ্যের মান বাড়িয়েছেন।

কবে, কখন করোনার ভ্যাকসিনের একটি সুসংবাদ পাওয়া যাবে এই স্বপ্ন প্রতিনিয়ত দেখে মানুষ। কারণ, দেশের সকল অঙ্গনে অচলাবস্থা। মানুষের ঘুম ভাঙে দুঃস্বপ্নে। শিক্ষা নিয়ে ভীষণ সংকটে এদেশের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি মানুষের মন-প্রাণের কষ্ট অনুধাবন করেছেন। তিনি সংশ্লিষ্টদের পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে যেন সমস্যা না হয়, সেদিকে প্রতিষ্ঠানগুলিকে সতর্ক থাকতে হবে। তাঁর মতে, কোভিড-১৯-এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই হয়তো ভর্তির ফি একসঙ্গে দিতে পারবে না। সেক্ষেত্রে তারা যেন কিস্তিতে ভর্তি ফি দিতে পারে সে ব্যবস্থা রাখতে হবে।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি ও কথাসাহিত্যিক

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত