প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ‘বস্তুনিষ্ঠ তথ্য একটি দেশকে দুর্যোগ মোকাবিলা করতে সহায়তা করে’

ডেস্ক রিপোর্ট : [২] আওয়ামী লীগ আয়োজিত একটি অনলাইন আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, ‘তথ্যভ্রান্তির এই যুগে বস্তুনির্ভর তথ্যই আমাদের আলোর পথে নিয়ে যেতে পারে। সাধারণ মানুষ সঠিক তথ্য পেতে গণমাধ্যমের ওপর নির্ভর করে থাকে। এখানে তথ্যের উৎস থেকে যদি সরাসরি তথ্যটা গণমাধ্যমে প্রদান করা হয়, তাহলে ভথ্যবিভ্রান্তি কমে যায়। কেননা সঠিক তথ্যই পারে গুজবকে ঠেকাতে, দুর্যোগ মোকাবিলায় যথাযথ প্রস্তুতি নিতে এবং মানুষকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহযোগিতা করতে।’ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে করোনাকালীন সংকট নিয়ে বিশেষ ওয়েবিনার ‘বিয়ন্ড দ্য প্যানডেমিক’ এর একাদশ পর্বে তারা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে যুক্ত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এ. আরাফাত, একাত্তর টিভির কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এডিটর মিথিলা ফারজানা এবং ছাত্রলীগ-এর সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

[৩] বরাবরের মতোই পর্বটি সরাসরি প্রচারিত হয় আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ এবং অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে। একইসঙ্গে প্রচারিত হয় বিজয় টিভির পর্দায় ও ফেসবুক পেজে। এবারের পর্বের আলোচনার বিষয় ছিল ‘করোনা সংকট মোকাবেলায় সঠিক তথ্যপ্রবাহ’। এই সংকটে গণমাধ্যমে সঠিক তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত, করোনা বিষয়ে সঠিক তথ্য প্রচার ও সরবরাহ, দুর্যোগ মোকাবিলায় সঠিক তথ্য প্রচারে গণমাধ্যমগুলোর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে তথ্য মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ বলেন, ‘করোনা সংকট শুরুর পর থেকেই যখনই প্রবাসীরা দেশে আসছিল, তখন তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। মানুষের ঘনত্ব বিবেচনায় বাংলাদেশে অন্য দেশের তুলনায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কম। সব কিছু বন্ধ করে দেওয়ার পর খেটে খাওয়া মানুষের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছিলেন, যা এখনও চলমান আছে। প্রায় ৭ কোটি মানুষকে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রায় এক কোটি ২৫ লাখ পরিবারের কাছে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’

[৪] তিনি আরও বলেন, ‘“আমার সুরক্ষা আমার হাতে’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে আমাদের প্রচেষ্টা ছিল মানুষের কাছে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করা। সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের মাধ্যমে জনগণ যাতে নিজেদের সুরক্ষা রাখতে পারে, সচেতন রাখতে পারে, সেই তথ্যটা পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং গুজবের বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য প্রচার করা হয়েছে।’

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমদ পলক বলেন, ‘বিশ্বের সবাইকে এই সময়ে দুইটি মহামারির মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এর একটি করোনাভাইরাস মহামারি, অপরটি মিথ্যা অপপ্রচারের মহামারি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকারকে এই দুটি সংকটের সঙ্গে আম্পান নামের একটি ঘূর্ণিঝড়েরও মোকাবিলা করতে হয়েছে। আমরা সংকটের শুরুতেই একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছিলাম, যেখানে করোনা সংকট মোকাবিলায় জনগণকে সচেতন করতে এবং কোন এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ, পাবলিক প্রেসক্রিপশন, কোন এলাকায় হাপাতালের সংখ্যা কত এবং সেলফ টেস্ট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ছিল।’

[৫] তিনি আরও বলেন, ‘সারাদেশে মানুষের দোরগোড়ায় ইন্টারনেট পৌঁছে যাওয়ার ফলে অবাধ তথ্য প্রবাহের মাধ্যমে করোনা সংকট মোকাবিলা সহজ হয়েছে।’ অনিবন্ধিত কোনও ওয়েবসাইট বা নিউজ সাইটের কোনও তথ্য যেন মানুষ বিশ্বাস না করে, সে ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য শিক্ষাবিদ ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘সঠিক তথ্য সমাজে আলোর ভূমিকা পালন করে। এই করোনা সংকটের সময় সঠিক তথ্যই আমাদের পথ দেখাচ্ছে, তথ্যভ্রান্তির এই যুগে বস্তুনির্ভর তথ্যই আমাদের আলোর পথে নিয়ে যেতে পারে। সাধারণ মানুষ সঠিক তথ্য পেতে গণমাধ্যমের ওপর নির্ভর করে থাকে। এখানে তথ্যের উৎস থেকে যদি সরাসরি তথ্যটা গণমাধ্যমে প্রদান করা হয়, তাহলে তথ্যবিভ্রান্তিটা কমে যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘করোনা সংকটের সময় আমরা দেখেছি, কোনও কোনও অনিবন্ধিত সংবাদপত্র থেকে বা রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সরাসরি অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে।’ এই অপতথ্য যাতে মানুষের দোরগোড়ায় না পৌঁছায় সে ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যমকর্মীদের আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

[৬] সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এ. আরাফাত বলেন, ‘জনগণের মধ্যে গুজব তৈরি এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সবসময় স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিগুলোর একটা উপযোগিতা আছে। এখন নতুনভাবে তারা সোশাল মিডিয়া এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করার চেষ্টা করে। মূলধারার গণমাধ্যম গুজব ঠেকানোর জন্য এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে।’

একাত্তর টিভির কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এডিটর মিথিলা ফারজানা বলেন, ‘কিছু সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর বিষয়কে অনেক গণমাধ্যমে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, সেটা কাঙ্ক্ষিত ছিল না এবং এই ধারা বা প্রবণতা নতুন নয়। গণমাধ্যমকে সঠিক তথ্য দিয়ে একটি ঐক্যমতে রাখা বা বিভ্রান্ত হতে না দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করাটাও একধরনের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার পূর্বে, তথ্য যেন কোনোভাবে পাকানো না হয়, সেটির জন্যও আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। যেকোনও তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে এবং তা একযোগে সব গণমাধ্যমকে জানানোর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট উৎস থাকা প্রয়োজন।’

[৭] ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘নির্দিষ্ট কোনও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করার জন্য গুজবসন্ত্রাসের সৃষ্টি হয়। কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে এই গুজব মারাত্মক রূপ ধরণ করেছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘তথ্য প্রযুক্তির এই ব্যবহারের ফলে যে গুজবসন্ত্রাস কিংবা গুজব সমস্যা চলে আসছে, ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে সেগুলোকে প্রতিহত করা হয়েছে।’ বাংলা ট্রিবিউন, প্রিয়ডটকম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত