এনএম মেহেদীর ফেইসবুক থেকে : আমার স্ত্রী গত ৬ জুন বিকেল থেকে কিছু ঘণ্টার ব্যবধানে জ্বর, সর্দি, শরীর, গলা এবং মাথা ব্যাথা, কিছুটা শ্বাসকষ্ট উপলব্ধি করতে থাকে। আমাকে জানানোর সাথে সাথে বাসার একটি রুম সম্পূর্ণ আলাদা করে দেই তার জন্য। সাথে খাওয়া দাওয়ার উপকরণ এবং ব্যবহার্য সব কিছু তার কাছাকাছি দিয়ে আমাদের মেয়ে ইনারাকে নিয়ে আমাদের বেড রুমে আমি ইনারা আলাদা হয়ে যাই। আমি কিছুটা চিন্তায় পরে যাই কারণ সে যদি পজেটিভ হয়ে থাকে তাহলে আমাদেরও পজেটিভ হওয়ার ঝুঁকি অধিক। সব চিন্তা বাদ দিয়ে তাকে ভরসা এবং সাহস দিতে থাকি যেন তার মনোবলটা বৃদ্ধি পায়। আমি মেয়েকে একা এক রুমে টিভিতে কার্টুনও লেখাপড়ার উপকরণ দিয়ে প্রয়োজনীয় ঔষধ আনতে যাই, এসে শুনি মেয়ে কয়েকবার তার মাকে জড়িয়ে ধরতে চেয়েছে।
সাড়ে তিন বছরের মেয়েকে যতটুকু পারলাম বোঝালাম এখন কিছুদিন মায়ের কাছে যাওয়া যাবে না তাকে ধরা যাবেনা !! স্বভাবতই মেয়ের প্রশ্ন বাবা কেন ?
সব কিছু সহজ করে বলে তাকে বুঝাতে অনেকটা সমর্থ হই। আর তার মায়ের রুমের ১৫ ফিট দূরত্বে একটা দাগ একে দেই, আর ভালো করে বুঝিয়ে দেই মা কোন কারনে এই দাগ অতিক্রম করা যাবে না। জবাবে মেয়ে সব সময় বলতে থাকে বাবা আচ্ছা। এবং লক্ষী মেয়ের মতো মানতেও থাকে। কিন্তু মা সন্তান বলে কথা মেয়ে যে কোন বায়না বা অজুহাতে মায়ের কাছে চলে আসতো যখন আমি ঔষধ বা প্রয়োজনীয় কিছু আনতে বাহিরে যেতাম।
রাত যতো গভীর হতে থাকে তার শারীরিক যন্ত্রণা গুলো আরো প্রকট হতে থাকে বিছানা থেকে মুভ করাটা তার জন্য অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে পরে। শুধু ওয়াশরুমে যাওয়া ছাড়া বাকি সব আবশ্যকীয় উপকরণ এবং খাবার নিয়ে আসা এবং সময় মতো এগুলো নিয়ে আবার জীবাণুমুক্ত করা সব কিছু একাই করতে থাকি পাশাপাশি মেয়ের সব দায়িত্ব কর্তব্য পালন করা। আর মেয়েটার প্রচন্ড দৌরাত্ম্য সহ্য করা আর প্রায়শই মিনিট পাঁচেক পরপর এটা দাও সেটা দাও এবং রাতজাগা পাখি আমার মেয়ে। যা আগে তার মা আমি দুজন মিলে মানিয়ে নিতাম। কিন্তু এই সময়টায় আমি একা একা হিমশিম খেতে থাকি। আর করোনার কারণে বাসায় হোম সার্ভেন্ট বা কোন হেল্পিং হ্যান্ডের সাপোর্ট নেই অনেক দিন। আর এই মুহূর্তমধ্যে কাউকে এসে কাজে সাহায্য করতে বলাটাও ঠিক হবে না।
যাক আমি মনোবল সাহস হারাইনি একা একা সব দায়িত্ব সুন্দর করে পালন করতে থাকি। তার পাশাপাশি আমি বুঝে গেছি খুব শীঘ্রই আমিও Covid-19 পজেটিভ হতে যাচ্ছি। কিন্তু কিছুই করার ছিলোনা পরিবারকে সুরক্ষিত রাখাটাই ছিলো তখন আমার মূল মন্ত্র।
দ্বিতীয় দিন স্ত্রীর অবস্থা অত্যন্ত খারাপের দিকে যেতে থাকে প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট, জ্বর ১০৩°, খাবারে সম্পূর্ণ স্বাদ এবং নাকে কোন ঘ্রাণ না পাওয়া। আমি একজন Covid-19 আক্রান্ত রোগীকে যা যা ঘরোয়া চিকিৎসা করা প্রয়োজন সবই করাতে থাকি। যেমন পুষ্টিকর খাবার, ভিটামিন-সি আছে এমন ফল, চার থেকে পাঁচ বার অন্তত ১০ মিনিট গরম পানির ভাপ এবং গার্গল করাও প্রয়োজনীয় ঔà