প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলায় নমুনার ফল পাচ্ছে না ২২৪৩ জন, করোনা ছড়াচ্ছে অজান্তেই

চট্টগ্রাম প্রতিদিন প্রতিবেদন : দিন যতো যাচ্ছে, মহানগরীর পাশাপাশি চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলায়ও ক্রমেই ভয়ংকর রূপ নিতে শুরু করেছে করোনাভাইরাস। সংক্রমণের দুই মাস শেষে চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত রোগী সাড়ে ছয় হাজার। এর মধ্যে উপজেলার রয়েছে দুই হাজার ৮৮ জন। যা মোট আক্রান্তের ৩২ শতাংশ। এর বাইরে চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলায় সন্দেহভাজন রোগীর কাছ থেকে সংগ্রহ করা নমুনার ফলাফলই পায়নি দুই হাজারেরও বেশি মানুষ। এর মধ্যেই প্রতিদিন নতুন করে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে অন্তত ৩০০ জনের। দেখা গেছে, সবমিলিয়ে ১৪ উপজেলায় এ পর্যন্ত সংগ্রহ করা ৯ হাজার ৫২২টি নমুনার মধ্যে পরীক্ষা হয়েছে ৭ হাজার ২৭৯টি নমুনা। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৮৮ জন। মৃত্যু হয়েছে ৩২ জনের। অন্যদিকে বেশ অনেকদিন ধরে জটে পড়ে নমুনার ফল জানা বাকি আছে ২ হাজার ২৪৩ জনের।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি নমুনা জমে আছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায়। সেখানে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৫৩৮টি, পরীক্ষা হয়েছে ২৮৮টি এবং নমুনা জমা রয়েছে আরও ২৫০টি। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৯৭ জনের। এরপরে বেশি নমুনা জমা রয়েছে বোয়ালখালী উপজেলার। এ পর্যন্ত সেখানকার ৭৮৫টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তার মধ্যেপরীক্ষা হয়েছে ৫৫৪টি এবং জমা রয়েছে আরও ২৩১টি। আর পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে ২১৩ জন। পটিয়া উপজেলায় এ পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৮২৫টি। তবে পরীক্ষা হয়েছে ৬০০টি। এখনো ২২৫টি নমুনা পরীক্ষা বাকি রয়েছে। ৬০০টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২৫৭ জন।

এদিকে সবচেয়ে বেশি নমুনা সংগ্রহ হয়েছে হাটহাজারী উপজেলায় এবং পরীক্ষাও হয়েছে সবচেয়ে বেশি। মহানগরীর পাশের এই উপজেলায় এ পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে এক হাজার ৩৫৮টি নমুনা এবং পরীক্ষা করা হয়েছে এক হাজার ১৪৬টি। পরীক্ষার জন্য এখনও জমে আছে ২১২টি নমুনা। সেই সঙ্গে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও সবচেয়ে বেশি এ উপজেলায়।

অন্যদিকে এরপরে রয়েছে চন্দনাইশ। সেখানে ৭৪৫টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পরীক্ষা করা হয়েছে ৫৪৪টি নমুনা। পরীক্ষার জন্য জমা রয়েছে আরও ২০১টি নমুনা। তবে পরীক্ষিত নমুনায় করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৫১ জন। সীতাকুণ্ড উপজেলায় এ পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে ৮৮৮টি নমুনা এবং পরীক্ষা করা হয়েছে ৭১০টি নমুনা। এখনও জমা রয়েছে ১৭৮টি। এর মধ্যে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২২৯ জন।

আনোয়ারা উপজেলায় এ পর্যন্ত ৫১৯ জন সন্দেহভাজন রোগী থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেখান থেকে পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৫২ জনের। এখনও পরীক্ষার জন্য বাকি রয়েছে ১৬৭টি নমুনা। পরীক্ষিত নমুনায় পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮৬ জন।

রাউজান উপজেলায় করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৬৮০ জনের এবং পরীক্ষা করা হয়েছে ৫২১টি নমুনা। তার মধ্যে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৫০ জন আর নমুনা পরীক্ষার জন্য জমে আছে ১৫৯টি নমুনা।

এরপরে নমুনা জমে আছে সাতকানিয়া উপজেলায়। সেখানে এ পর্যন্ত ৬৭৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তার মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ৫২২টি নমুনা এবং এখনও পরীক্ষার জন্য বাকি রয়েছে ১৫৫টি নমুনা। এর মধ্যে পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে ১১৪ জন।

লোহাগাড়া উপজেলায় এ পর্যন্ত ৬৭৫টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পরীক্ষা করা হয়েছে ৫২৪টি। তার মধ্যে পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে ১১০ জন। করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা জমে আছে আরও ১৫১টি। ফটিকছড়ি উপজেলায় এ পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৭৭৫টি এবং পরীক্ষা হয়েছে ৬৪৬টি নমুনা। এখনও পরীক্ষার জন্য জমে আছে ১২৯টি নমুনা এবং করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ১০২ জন।

এরপরে করোনার নমুনা জট রয়েছে বাঁশখালী উপজেলায়। সেখানে এ পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৫৯২টি নমুনা। পরীক্ষা হয়েছে ৫০১টি এবং জমে আছে আরও ৯১টি। পরীক্ষিত নমুনায় পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে ১২১ জন।

মিরসরাই উপজেলায় অপেক্ষাকৃত কম নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেখানে এ পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে মাত্র ২৩৪ জনের। নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৬৩ জনের। তার মধ্যে পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৪৬ জন। পরীক্ষার জন্য এখনও নমুনা জমে আছে ৭১টি।

অন্যদিকে সবচেয়ে কম নমুনা সংগ্রহ হয়েছে দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে। সেখানে সন্দেহভাজন ২৩১ জন থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তার মধ্যে পরীক্ষা হয়েছে ২০৮ জনের নমুনা। এখনও জমে আছে ২৩ জনের নমুনা আর করোনা পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৩৪ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপজেলাগুলোতে আক্রান্তের হার বাড়ছে ধীরে ধীরে। কিন্তু সেদিকে কর্তৃপক্ষের সেভাবে নজর নেই। রেডজোন ঘোষণা করে লকডাউন কিংবা কড়াকড়ি-নিষেধাজ্ঞারও কোনো বালাই নেই। তার ওপর নমুনা জটের কারণে বেড়ে চলেছে সংক্রমণের হার।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, নমুনা জট কমানোর পাশাপাশি নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। দ্রুত নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া অন্যদের সংক্রমিত করার সুযোগ কম থাকবে। সেইসাথে পজিটিভ রোগীও সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হতে পারবে।

সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমাদের সক্ষমতার চেয়েও বেশি কাজ হচ্ছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাব যদি দিনে পাঁচশো নমুনাও পরীক্ষা করে তাহলে এই সমস্যা আর থাকবে না। একদিকে আরটি-পিসিআর মেশিন কম, জনবল কম। সবমিলিয়ে যত নমুনা আমরা পরীক্ষা করতে পারবো, তার চেয়ে বেশি নমুনা সংগ্রহ হয়। চবি সাপোর্ট দিলে উপজেলার নমুনা জট আশা করি থাকবে না।’

প্রসঙ্গত, করোনা শনাক্তের প্রথম মাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ৮১ জন। তার মধ্যে মহানগরীর ৫০ জন এবং উপজেলার ৩১ জন। দ্বিতীয় মাসে সে সংখ্যা দাঁড়ায় ৩ হাজার ৩৯৭ জন। এর মধ্যে মহানগরের ২ হাজার ৫৮০ জন এবং উপজেলার ৮১৭ জন। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানে সে সংখ্যা এখন ছয় হাজার ৪৮০ জন, আর উপজেলারই রয়েছে দুই হাজারের বেশি।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত