প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বারবার চেয়েও মেলেনি ছুটি, মারা গেলো অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট : [২] খাগড়াছড়িতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পদক্ষেপ থেকে ছুটি না পাওয়ায় অসুস্থ অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে বাঁচাতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন নবরতন চাকমা নামের এক মাঠকর্মী। এজন্য এনজিওটির মানিকছড়ি এরিয়া ম্যানেজার ইকবাল বিন তৈয়বকে দায়ী করেছেন তিনি।

[৩] তার অভিযোগ, শারীরিকভাবে দুর্বল ও বাড়িতে একা থাকা অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পাশে থাকার জন্য দুইদিন ছুটি চাইলেও তা দেননি এরিয়া ম্যানেজার। অসুস্থতার বিষয়টি জানানোর পরও মন গলেনি ম্যানেজারের। এ কারণে সুচিকিৎসার সুযোগ না পেয়ে মৃত্যু হয় মাঠকর্মী নবরতন চাকমার স্ত্রী বিপাশী চাকমার।

[৪] খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় গত বুধবার এই ঘটনা ঘটে। নবরতন ফেসবুকে ইকবালকে দায়ী করে পোস্ট দিলে বিষয়টি আলোচনায় আসে।

[৫] মাঠকর্মী নবরতন চাকমা জানান,‘রামগড়ে পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন সংস্থার মাঠকর্মী হিসেবে আট মাস আগে যোগ দিই। স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতাম। গত সোমবার আমাকে প্রশাসনিক কারণে রামগড় থেকে মানিকছড়িতে বদলি করা হয় । আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রামগড়ের ভাড়া বাসায় রেখে মানিকছড়িতে যোগ দেই। যোগদানের পর অসুস্থ স্ত্রী আমাকে ফোন করে তার অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ার কথা জানায়। স্ত্রীর পাশে থাকার জন্য আমি একাধিকবার ম্যানেজারের কাছে ছুটি চাই । কিন্তু, স্ত্রী অসুস্থ জেনেও তিনি আমাকে ছুটি দেননি। ছুটি না পাওয়ায় বাড়ি যেতে পারেনি।

[৫] তিনি আরও বলেন, ‘বুধবার আমার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়। এসময় সহকর্মীরা আমাকে দ্রুত রামগড় হাসপাতালে চলে আসতে বলে। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর জানতে পারলাম আমার স্ত্রী মারা গেছে। তার সাথে শেষ দেখাও হয়নি, কোনও কথা বলার সুযোগও পাইনি।’

[৬] নবরতন চাকমা এ প্রতিবেদককে আরও জানান,‘‘ম্যানেজার আমার স্ত্রীর অসুস্থতার কথা জানার পর ছুটি দেয়নি। আমার স্ত্রীর অসুস্থতার কথা রামগড়ের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার এরিয়া ম্যানেজারকে ফোনে জানালে তিনি ব্রাঞ্চ ম্যানেজারকে ‘গালিগালাজ’ করেছেন।’’

[৭] ‘উনার কারণে আমার স্ত্রী মারা গেছে। আমার স্ত্রী অসুস্থ ছিল। এটি স্যারকে বারবার বলার পরও তিনি আমাকে ছুটি দেননি। স্ত্রীর পাশে থাকলে তার কখনও মৃত্যু হতো না। আমি ম্যানেজারের শাস্তি চাই।’

[৮] বিষয়টি নিয়ে মাঠকর্মী নবরতন চাকমা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবেগঘন পোস্ট দেওয়ার পর সমালোচনার ঝড় উঠে। করোনার মতো মহামারির ভেতরে এমন অমানবিক কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান অনেকে।

[৯] বিপাশী চাকমার মৃত্যুর জন্য এরিয়া ম্যানেজারকে দায়ী করে বিচার দাবি করেছেন নবরতন চাকমার স্বজনরাও। তারা বলেন, এরিয়া ম্যানেজারের গাফিলতি কারণে বিপাশী চাকমার মৃত্যু হলো। তার গর্ভের সন্তানও মারা গেছে। এরকম যাতে আর কারও ক্ষেত্রে না ঘটে সেজন্য আমরা এর বিচার চাই।

[১০] তবে এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র মানিকছড়ির এরিয়া ম্যানেজার ইকবাল বিন তৈয়ব। বরং এ ঘটনাই নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় তিনি খুব চটেছেন নবরতন চাকমার ওপরে। তিনি বলেন,‘পদক্ষেপের একজন কর্মী হয়ে নবরতন এভাবে ফেসবুকে লিখতে পারে না। তার অভিযোগ মিথ্যা। তিনি আমার কাছে সেভাবে ছুটি চাননি। তার স্ত্রী স্ট্রোক করে মারা গেছে । তিনি (নব রতন চাকমা) সেখানে থাকলেও মারা যেতো, না থাকলেও মারা যেতো।’

[১১] তবে ‘সেভাবে ছুটি চাওয়া বলতে তিনি কী বুঝিয়েছেন তা স্পষ্ট করেননি।

[১২] এদিকে, এরিয়া ম্যানেজার ইকবাল বিন তৈয়বের এমন মন্তব্যে নবরতন বলেছেন, ‘ছুটি পেলে দ্রুততম সময়ে স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতাম, আমার স্ত্রী স্ট্রোক না করে সুস্থও তো হতে পারতো।’বাংলা ট্রিবিউন, প্রিয়ডটকম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত