প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বেড়াতে এসে চেয়ারম্যানের হাতুড়ি পেটায় জখম কুমিল্লার ২ যুবক!

নুরনবী সরকার, লালমনিরহাট প্রতিনিধি : [২] বেড়াতে এসে রংপুরের তারাগঞ্জের এক ইউপি চেয়ারম্যানের হাতুরী পেটায় গুরুতর জখম হয়ে লালমনিরহাটের আদিতমারী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন কুমিল্লার দুই যুবক।

[৩] শনিবার (২০ জুন) রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য আহত দুই যুবককে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে রেফার করেছেন চিকিৎসকরা।

[৪] আহতরা হলেন- কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার চরনল গ্রামের সুলতান খাঁনের ছেলে ইমন খাঁন (২৮) ও তার চাচাত ভাই মনু খাঁনের ছেলে সাগর খাঁন (২৫)।

[৫] আহতরা জানায়, রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার হারিয়ারকুটি ইউনিয়নের ঠাকুরপাড়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে মশিউর রহমান কাজের সন্ধানের কুমিল্লার চরনল গ্রামের ইমনের বাড়িতে যান। দীর্ঘ দিন কাজ করায় তাদের মাঝে বন্ধুত্ব হয়। এর সুবাদে বুধবার (১৭ জুন) মশিউর রহমানের সাথে তার বাড়িতে বেড়াতে আসেন ইমন ও তার চাচাত ভাই সাগর। খবর পেয়ে তাদের জোরপুর্বক নিজ বাড়িতে তুলে নিয়ে যান হারিয়ারকুটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন উর রশিদ বাবুল। সেখানে তাদের তিনজনকে একটি কক্ষে রশি দিয়ে বেঁধে মারপিট করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করেন।

[৬] টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাদেরকে মাদকবিক্রেতা বলে পুলিশে দেয়ার হুমকী দেয়া হয় এবং হাতুড়ি দিয়ে হাত ও পায়ের জয়েন্টের পিটাতে থাকেন ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল। থেমে থেমে দিনভর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। অবশেষে বাড়িতে ফোন করে ৫০ হাজার টাকা জোগার করে ইমন। সেই টাকা চেয়ারম্যান বাবুলের দেয়া তিনটি নম্বরে বিকাশ করে পাঠালে তাদের মুক্তি মিলে। অবশেষে মশিউরকে তার নিজ বাড়িতে এবং একটি অপরিচিত ভ্যান যোগে ওই দিন রাতে ইমন ও সাগরকে রংপুর বাস টার্মিনাল পাঠায়।

[৭] পথ খুঁজে না পেয়ে গুরুতর জখম শরীরে বাস টার্মিনালের পাশে রাস্তায় পড়ে থাকেন তারা। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ছোট কমলাবাড়ি গ্রামের বন্ধু সাদ্দামকে ফোনে অবগত করে তাদেরকে উদ্ধারের অনুরোধ করে ইমন। সাদ্দাম রংপুর বাস টার্মিনাল থেকে গুরুতর জখম ইমন ও সাগরকে উদ্ধার করে শনিবার(১৮ জুন) আদিতমারী হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে রাতে সাগর খাঁনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসকরা।

আহত ইমন খাঁন বলেন, রংপুর অঞ্চলের অনেক মানুষ আমাদের এলাকায় থেকে কাজ করেন। সেই সুবাদে রংপুরে বেড়াতে আসার খুব ইচ্ছা জাগে। তাই চাচাত ভাইসহ বেড়াতে এলে হারিয়াকুটি ইউপি চেয়ারম্যান হারুন উর রশিদ বাবুল আমাদের জোরপুর্ব তুলে নিয়ে বাড়িত আটকিয়ে রাখেন। ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। না দিলে মেঝেতে ফেলে বুকের উপর বসে শরীরের জয়েন্টে হাতুরী দিয়ে পেটায়। চেয়ারম্যানকে বাবা ডাকে জীবন ভিক্ষা চেয়েও রক্ষা পাইনি। পানি পর্যন্ত খাইতে দেয়নি। বিকাশে ৫০ হাজার টাকা নেয়ার পরে ছেড়ে দিয়েছে। সুস্থ্য হলে তারাগঞ্জ থানায় মামলা দেয়া হবে। তিনি চেয়ারম্যানে শাস্তি দাবি করেন।

[৮] উদ্ধারকারী সাদ্দাম বলেন, কুমিল্লায় কাজে যাওয়ার সুবাদে তাদের সাথে বন্ধুত্ব হয়। বন্ধুর বিপদের খবরে ছুটে গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করি। আমি দিনমজুর হলেও গরিবিহালে চিকিৎসা খরচ বহন করছি। তাদেরকে সুস্থ্য না করে বাড়িতেও পাঠাতে পারছি না। তিনিও ঘাতক চেয়ারম্যান বাবুলের শাস্তি দাবি করেন।

[৯] আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের দায়িত্ব থাকা উপ সহকারী মেডিক্যাল অফিসার আব্দুস সালাম শেখ বলেন, দুই যুবকের শরীরের হাড়ের জয়েন্টের মারাত্বক আঘাতে চিহ্ন রয়েছে। হাড়ের জয়েন্টে ভেঙ্গে বা চিঁড়ে যেতে পারে। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। সম্পাদনা : হ্যাপি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত