শিরোনাম
◈ এসএসসির ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করবেন যেভাবে ◈ সৌদিতে নিহতদের মরদেহ দেশে ফেরাতে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার ◈ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কর্নেল অলি আহমদ প্রার্থী, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করল ১১ দলীয় ঐক্য ◈ পরীক্ষায় ফেল বা খারাপ মানেই শেষ নয়, ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ এখনই ◈ পরীক্ষায় ফেল করেও যেভাবে বিশ্বজয় করলেন তারা! ◈ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক ◈ চলতি বছর এসএসসি ফলে ইংরেজি-গণিতে বেশি ফেল, আইসিটিতে সর্বোচ্চ পাস ◈ রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম প্রায়  চূড়ান্ত, বিএনপির নতুন মহাসচিব কে? ◈ সে‌প্টেম্ব‌রে ভারতীয় দল বাংলা‌দে‌শ সফর করতে মো‌দির কা‌ছে অনু‌মো‌তি চাইবে বি‌সি‌সিআই ◈ এক বছরে ৩০ বার বন্ধ রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, দেশে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি

প্রকাশিত : ১৭ জুন, ২০২০, ১২:৪৩ দুপুর
আপডেট : ১৭ জুন, ২০২০, ১২:৪৩ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হাসিনা আকতার নিগার : দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা কি অন্যায়?

হাসিনা আকতার নিগার : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার। তাই তিনি তার শেষ ভাষণে দুর্নীতি দমন জনগনকে সজাগ হতে বলতে গিয়ে বড় আপসোস করে বলেছিলেন - " .... এত চোরের চোর, এই চোর যে কোথা থেকে পয়দা হয়েছে তা জানি না। পাকিস্তান সব নিয়ে গিয়েছে কিন্তু এই চোর তারা নিয়ে গেলে বাঁচতাম। এই চোর রেখে গিয়েছে। কিছু দালাল গিয়েছে, চোর গেলে বেঁচে যেতাম।"

দুঃখজনক হলো, দুর্নীতি মুক্ত সোনার বাংলার এ স্বপ্ন দ্রষ্টাকে হত্যা করে অংকুরে বিনাশ করেছে তার দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে। আর বহাল তবিয়তে দেশের মাটিতে বেঁচে আছে দুর্নীতিবাজ অন্যায়কারীরা। কালের প্রবাহে এসব দুর্নীতিবাজদের রাজনৈতিক, সামাজিক প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বাহিক্য রং বদল হয় কেবল। মুখোশের আড়ালে এদের একটাই পরিচয় ও নাম 'দুর্নীতিবাজ।' এরা জনগনের হক মেরে দিয়ে জনগণের সাথে অন্যায় করছে নানাভাবে দিনের পর দিন। তবে এদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের লড়াই করার সাহস পায় না। কারন ক্ষমতা আর প্রভাবপত্তির কারনে তাদের কাছে জিম্মি 'গনতান্ত্রিক' শব্দটি।

বর্তমান বাংলাদেশ অবকাঠামোগত ভাবে উন্নয়নশীল দেশ। কিন্তু এখনো মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো ন্যায্য ভাবে পূরণ হচ্ছে না। সামাজিক নিরাপত্তা পদে পদে হোঁচট খাচ্ছে দুর্নীতির কারনে। যা করোনা কালে দৃশ্যমান। মুখ বুজে সয়ে যাওয়া মানুষরা এখন এ দুর্নীতি মানতে নারাজ। তারা চায় একটা দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশে৷ তাই প্রতিবাদ করছে সরকারের কোটি কোটি টাকা লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে। তবে সাধারণ জনগনের চেয়ে দুর্নীতিবাজরা অনেক বেশি শক্তিশালি। এর অন্তরালের কারন মানুষের কাছে কেবল প্রশ্নবোধক চিহ্ন।

আওয়ামী সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির যথাযথ প্রয়োগ নেই। আর সে কারনে দুর্নীতিবাজরা জনগনের টাকা লুটপাট করতে সাহস পায়। দেশের টাকায় বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলা দুর্নীতিবাজরা প্রতিবাদকারীদের নিশ্চিহ্ন করে দিতে দ্বিধাবোধ করে না। তবে তাদের এ উদ্যত দেখে মনে হয়, এ কি আমাদের সোনার বাংলার ছবি? নাকি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা অন্যায়। রাষ্ট্রযন্ত্র মুষ্টিমেয় মানুষের জন্য নয়। জনগনের সার্বিক জীবন ব্যবস্থাকে সুনিশ্চিত করা সরকারের মূল দায়িত্ব। যা করতে আওয়ামী সরকার সদা সচেষ্ট। কিন্তু এর মাঝেও কোভিড১৯ বাংলাদেশের এক ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।

স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম দুর্নীতির কারণে মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছে না। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অনিয়মে ত্রান হচ্ছে নয় ছয়। মানুষের মৃত্যু ভয় আর অনাগত অন্ধকার ভবিষ্যৎকে বিশ্লেষণ করলে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হচ্ছে উপায়ন্তে। হয়তো এখন প্রতিবাদের ধরন পাল্টে গেছে। ডিজিটাল যুগ বলে নিজের লেখনীতে প্রকাশ হচ্ছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ। সেখানে সমাজের বুদ্ধিজীবীরা জনগন ও সরকারের মংগল প্রত্যাশা করে সামাজিক ও গনমাধ্যমে দুর্নীতি অভিযোগ তুলে ধরছে। কারণ বংগবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা নিজেই দুর্নীতিবাজদের হুশিয়ার করে বলেছিলেন, " কাফনের কাপড়ে পকেট নাই। " অথচ তার সরকার আমলে সাংবাদিকরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কলম ধরলে রোষানলে পড়তে হচ্ছে। এটা বাক স্বাধীনতাকে স্তদ্ধ করে দেয়। জনগন আতংকিত হয়।

অন্যায়কে মুখ বন্ধ করে মেনে নিয়ে ভাল থাকার অভিনয় করে ও অন্যায়। কারন এটা দেশের প্রকৃত চিত্র নয়। করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত হয়ে মানুষ একটা নতুন জীবন পাবার স্বপ্ন  দেখছিল । তবে সে প্রত্যাশাটা দিবা স্বপ্নতে পরিনত হচ্ছে ক্রমশ। কারণে কোভিড ১৯ মানুষের রিপুকে ধবংস করতে পারছে না। নিজের দুর্নীতিবাজ মানসিকতার পরিবর্তন আনতে পারিনি। আর সে কারনে সাংবাদিক নঈম নিজাম,পীর হাবিবের কলম ধরাকে রুদ্ধ করতে চায়। যদি আইন অনুযায়ী কারো ব্যাংক হিসাব চাওয়া হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন করাটা বাহুল্যমাত্র। তবে কোন প্রেক্ষিতে ঘটনা ঘটছে তা উপলদ্ধি করার ক্ষমতা জনগনের আছে। সুতরাং সকলের মনে রাখা উচিত - "অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে তবে ঘৃণা তারে যেন তৃণসম দহে। ”

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়