প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] প্রতিদিন সংগ্রহ করতে হবে ৯০৪ কোটি টাকা

ডেস্ক রিপোর্ট : [২] মহামারী করোনার মধ্যেই বিশাল অঙ্কের বাজেট দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ঘোষিত ২০২০-২১ অর্থবছরে বাজেটে বিশাল অঙ্কের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর)। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, করোনায় আমদানি-রপ্তানির গতি শ্লথ, দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্যে নেই গতি। মানুষের আয় কমে গেছে। প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা না থাকায় করপোরেট করহারেও থাকবে না গতি। ফলে এনবিআরের পক্ষে লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হবে। সব মিলিয়ে অর্থবছরে পুরো সময়ই রাজস্ব আহরণে চাপে থাকবে।

[৩] আগামী অর্থবছরে এনবিআরকে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করতে হবে। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৫০০ কোটি টাকা। হিসাব অনুসারে আগামী অর্থবছরে ২৯ হাজার ৫০০ কেটি টাকা বেশি আহরণ করতে হবে। করোনায় বিপর্যস্ত অর্থনীতিতে এ লক্ষ্যমাত্রা অনেকটা অসম্ভবই।

[৪] বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন এ বিষয়ে বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত কোনোভাবেই অর্থনীতি সচল হবে না। আর ব্যবসা-বাণিজ্য সচল না হলে রাজস্ব আহরণ হবে না। ফলে রাজস্ব আহরণের এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়।

[৫] হিসাব অনুসারে ১ জুলাই থেকে এনবিআরকে প্রতিদিন ৯০৪ কোটি ১০ লাখ টাকা আহরণ করতে হবে। তবে রাজস্ব আহরণের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা

[৬] পূরণের ব্যাপারে যে ধরনের পরিকল্পনা থাকার কথা তা উল্লেখ করেননি অর্থমন্ত্রী। অন্যদিকে রাজস্ব আহরণকারী সংস্থার চেয়ারম্যান আবু হেনা রহমাতুল মুনিব অর্থসচিবকে জানিয়েছেন, করোনা মহামারী এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি প্রকৃতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগামী অর্থবছরে আড়াই লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আহরিত হতে পারে। ফলে আগেই আশঙ্কা করা হয়েছে ৮০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি হওয়ার।

[৭] সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে যে ৩ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তা বাস্তবায়নযোগ্য নয়। এর মধ্যে এনবিআরের লক্ষ্য ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এনবিআর বলেছে তাদের পক্ষ থেকে এটি আদায় সম্ভব হবে না। ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস হওয়ার ভ্যাট আদায় হবে না। আমদানিতে ধসের ফলে শুল্ক কর আদায় হবে না। অনেকের আয় কমে গেছে। ফলে আয়কর আদায় কমে যাবে। করপোরেট ট্যাক্স আদায় কমবে। এর মধ্যে বেশকিছু করের মাত্রা কমানো হয়েছে। সব মিলিয়ে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য অর্জন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বাজেট বড় মাত্রায় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা।

[৮] জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ এ বিষয়ে বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য সচল না হলে রাজস্ব আহরণে গতি আসবে না। করোনার প্রভাব ও গতি-প্রকৃতি দেখে মনে হচ্ছে শিগগিরই করোনা যাচ্ছে না। ফলে বিশাল অঙ্কের রাজস্ব আহরণ অধরাই থেকে যাবে।

[৯] রাজস্ব আহরণে তিন খাতেই উচ্চাভিলাসী লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিশাল অঙ্কের রাজস্ব আহরণে সারাবছরই চাপ সইতে হবে ভোক্তাদের। বিশেষ করে মধ্যবিত্তদের ওপর চাপটা থাকবে বেশি। তবে এ চাপ এনবিআরের জন্যও কম নয়। ভ্যাট আইনে কয়েকটি বহু স্তর করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংস্কার ছাড়াই বিপুল রাজস্ব আদায় বরাবরের মতো এবারও চাপে থাকতে হবে এনবিআরকে। এ ছাড়া বিশাল অঙ্কের রাজস্ব আহরণের জন্য যে ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন, নীতি সংস্কার এবং অন্যান্য সক্ষমতা অনেক বেশি অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করেন তারা। ভ্যাট আইন চালু করার পরও সম্পূরক শুল্ক এবং নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কের ক্ষেত্রে সমন্বয়ের কথা ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি। ফলে ভ্যাটের পুরো চাপটা জনগণের ওপর আসবে।

[১০] গত বৃস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটরে চেয়ে ২৯ হাজার ৫০০ কেটি টাকা বেশি।

[১১] অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে এটি আদায় করা এনবিআরের জন্য মহাচাপের। গত কয়েক অর্থবছরের বাজেটে এনবিআরকে একটি উচ্চাভিলাসী লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়। কিন্তু তার কোনো নির্দেশনা থাকে না। এ ছাড়া নতুন করে কর ছাড় দিলে রাজস্ব আহরণে কী ধরনের প্রভাব পরে। এ ছাড়া নতুন করে মহামারী করোনাযুক্ত হয়েছে এবং নতুন করে করারোপের প্রভাব সম্পর্কে অর্থমন্ত্রীর কোনো দিকনির্দেশনা বাজেট বক্তৃতায় থাকে না।

[১২] জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে ভ্যাটকে রাজস্ব আহরণের প্রধান খাত হিসেবে ধরা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট থেকেই আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। যা চলতি সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা বেশি।

[১৩] আর আয়কর ১ লাখ ৩ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৫১ কোটি টাকা বেশি।

[১৪] সম্পূরক শুল্কের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৭ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৯ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা বেশি, আর সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১০ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা বেশি। আমদানি শুল্কের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৮০৭ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৪ হাজার ১২৩ কোটি টাকা বেশি। রপ্তানি শুল্ক থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৫ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছর সংশোধিত বাজেটের থেকে ৬ কোটি টাকা বেশি। আবগারি শুল্কের লক্ষ্যমাত্রা ৩ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা, চলতি অর্থবছরে এ খাতের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ২২৯ কোটি টাকা। এ ছাড়া অন্যান্য কর বাবদ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা, চলতি বছর এ খাতের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা।

[১৫] অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, রাজস্ব প্রশাসনের সক্ষমতা বৃদ্ধিও জন্য আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। এনবিআরের প্রশিক্ষণ একাডেমি আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। মূসক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে থেকে টট পদ্ধতিতে প্রশিক্ষক তৈরি করা হচ্ছে। রাজস্ব সংগ্রহের জন্য অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়াতে টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেবার মান উন্নয়ন এবং করের আওতা বৃদ্ধির জন্য রাজস্ব প্রসাশনের সম্প্রসারণ কার্যক্রম বিবেচনাধীন রয়েছে। আশা করা যায় এসব প্রযুক্তিনির্ভর যুগোপযোগী কার্যক্রমের ফলে মানুষ কর প্রদানে উৎসাহিত হবে, কর প্রদানকে গর্বের বিষয় মনে করবে, যা প্রকারান্তরে দেশের রাজস্ব প্রবাহ বৃদ্ধি করবে।বিডি প্রতিদিন, আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত