প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাসুদ রানা : হার্ড ইমিউনিটির সাইকোলজিক্যাল ফ্যাক্টর : একটি থিওরি ও হাইপোথেসিস

মাসুদ রানা : [This is for those who can walk an extra mile beyond their known territory. Are you one of them? Then, go ahead!] করোনাভাইরাসের গণ-সংক্রমণে (Mass Infection) কিংবা পাল-প্রতিষেধে (Herd Immunity) কিছু মনোবৈজ্ঞানিক উপদান (Psychological Factors) ক্রিয়াশীল থাকতে পারে। যদি থাকে, আমার ধারণা সে-উপদানগুলো হবে আবেগিক (Affective)।
করোনাভাইরাসে বিশ্বের সর্বাধিক সংক্রমিত লোকসংখ্যার দেশ আমেরিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গত কয়েকদিন ধরে যে-আবেগোদ্দীপ্ত গণ-অমান্যতায় বিশাল সমাবেশ হচ্ছে, তাতে সংক্রমণ-বিজ্ঞানের হিসেব-মতে কিছু দিনের মধ্যেই সংক্রমণের হার উচ্চে লাফ দেওয়ার কথা। কিন্তু আমরা কি নিশ্চিত? আমরা বলতে পারি : হয়তো দেবে, হয়তো না। তবে, আমার হাইপোথেসিস হচ্ছে : যদি দেখা যায় গণ-অমান্যতার সমাবেশোত্তর কালে সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি, বুঝতে হবে নিরোধক বা প্রতিষেধক হিসেবে উপরে প্রকল্পিত মনোবৈজ্ঞানিক উপাদান কাজ করেছে।
এভাবে তত্ত্বায়ন করা সম্ভব যে, মানুষ যখন নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার চিন্তা না করে আপন প্রজাতির স্বার্থে কোনো মহৎ বোধ থেকে আবেগে উদ্দীপ্ত হয়ে বিপুল সমাবেশে পরস্পরের সান্নিধ্যে ও সংস্পর্শে আসে, তখন তাদের মধ্যে এক ধরণের জনহিতৈষিক পাল-প্রতিষেধের (Altruistic Herd Immunity) উদ্ভব হয়।
আমি আশ্চর্য্যান্বিত হবো না, যদি ভবিষ্যত গবেষণায় দেখা যায় যে, মানব প্রজাতির বিবর্তনের ধারায় টিকে থাকার স্বার্থে এটি তাদের জীনের মধ্যে কৌডেড হয়ে থেকে থাকে, যা কেবল একটি ঐতিহাসিক সামাজিক পরিস্থিতিতিতে তীব্র জনহিতৈষিক আবেগের মধ্য দিয়ে অবমুক্ত হয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে। আমি উপরে অত্যন্ত স্পেকুলেটিভ তত্ত্ব হাজির করলাম, যার পক্ষে বা বিপক্ষে উপাত্ত পাওয়া যাবে আগামী দিনগুলোতে আমেরিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। আমার ধারণা, চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা ও মনোবিজ্ঞানীরা এখনও পর্যন্ত কিছু বলে না থাকলেও (বলেছেন বলে চোখে পড়েনি)। তবে, ফল ইতিবাচক হলেই, তাঁরা বলতে শুরু করবেন এবং কেউ-কেউ হয়তো চ্যাম্পিয়ান হয়েও যাবেন।
যাহোক, আমি উন্মুক্ত আছি উপরে বর্ণিত হাইপোথেসিসের বিপরীতে নাল-হাইপোথেসিস গ্রহণে। তবে, নাল-হাইপোথেসিস প্রত্যাখ্যাত হলে নিশ্চয় আমি আনন্দিত হবো বিশ্বের সকল মানুষের সাথে। মনোবিজ্ঞান এখনও একটি তরুণ বিজ্ঞান, যার অসীম সম্ভাবনার দিগন্ত হয়তো এখনও পর্যন্ত আমাদের কল্পনার অতীত। তাই, বিজ্ঞানের নিয়ম মেনে আমরা পরীক্ষণযগ্য তত্ত্ব নির্মাণের মাধ্যমে শুধু সত্যের সম্ভাবনার হিসেব করতে পারি – নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারি না। আর, এখানেই বিজ্ঞানের সৌন্দর্য্য ও অসীমতা। ০৩/০৬/২০২০। ল-ন, ইংল্যা-

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত