প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ১১ বছর ধরে মুক্তিযোদ্ধার ভাতার টাকা আত্মসাৎ!

আল-হেলাল, সুনামগঞ্জ : [২] “আমি সহজ সরল মানুষ।পড়ালেখা জানিনা। জায়ফর মাস্টর সাব আমরার এইনের ভাতা আমার নামে লাগাইয়া দিয়া ১১ বছর ধরি তাইনের কাছে ভাতার বই টেকার বই রাখইন। ভাতা লাগাইবার লাগি ৮০ হাজার টেকা নিছইন তাইন আর কমান্ডার আব্দুল মজিদ সাব। সাফটিকেট দিবার লাগি তারা ৩০ হাজার টাকা ,লোন তোলার লাগি আরও ২৫ হাজার টাকা নিছইন। পরতিবার ভাতা তুইল্যা তারা অর্ধেক নেইনগি। আমি বই ছাইলে দেইননা। খইন, ইতা মাতলে নাম খাইট্যা দেলাইবা”। একথাগুলো সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নাঈমুল্লাহর অসহায় বিধবা স্ত্রী মোকসেদা বেগমের।

[৩] একই ইউনিয়নের পৈন্দা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা জায়ফর আলী ও সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুল মজিদ ২০০৯ সালে নাঈমুল্লার স্ত্রী মোকসেদা বেগমের নামে ভাতা অনুমোদনের পর থেকে ভাতার বই ও চেক বই (হিসাব নং ৫৯১০১০০৫০০৪৭৬) তাদের কাছে কুক্ষিগত করে রাখেন।
সম্প্রতি ঈদ বোনাসসহ মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর নামে সর্বমোট ৪৮ হাজার টাকা উত্তোলন করতে তাকে সুনামগঞ্জ সোনালি ব্যাংকে নিয়ে যান তারা। টাকা তোলার আগে বরাবরের মতো ভাতার বই ও চেক বুঝিয়ে লাইনে দাড় করিয়ে দিয়ে তারা অপেক্ষায় ছিলেন। ভাতা তোলার সাথে সাথেই আব্দুল মজিদ ও জায়ফর আলী আবারও ভাতার বই ও চেক বই হস্তগত করেন এবং টাকাও নিয়ে নেন। বাইরে এনে মোকসেদা বেগমকে ১৬ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা রেখে বিদায় করে দেন তারা।

[৪] আব্দুল মজিদ ও জায়ফর আলী তাদের বিরুদ্ধে উত্তাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা মা ও ঝি মিলে আমাদের কাছে ভাতারবই ও কাগজপত্র জমা রেখেছে।

[৫] সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসমিন নাহার রুমা বলেন, আমি আজই (বৃহস্পতিবার) যার ভাতাবই তার হাতে তুলে দিবো। এই নিন্দনীয় ঘটনার ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা কৃষি অফিসারকে আহবায়ক করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি কোন পদক্ষেপ নেয় সেদিকে দৃষ্টি এখন সকলের। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত