প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

করোনা প্রতিরোধে অফিস, বাসায় যা করবেন

ডা. অমৃত লাল হালদার : করোনা বেড়েই চলেছে। সাধারণ ছুটি আর বাড়ছে না। গণপরিবহনও চলছে। এই যখন সিদ্ধান্ত, তখন নিজেকেই সাবধান হতে হবে, যাতে নিজে আক্রান্ত না হন, আর পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সবাই নিজ দায়িত্বে অন্যদের কাছ থেকে অন্তত দুই মিটার দূরত্ব বজায় রাখুন। মাস্ক পরলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার দরকার নেই, তা নয়। ক্যান্টিন, হোটেল এবং যে কোনো ধরনের লোকসমাগম এড়িয়ে চলুন।

বাসা থেকে তৈরি করা খাবার খাবেন এবং পানি পান করবেন। ঘরে বানানো সাধারণ বাঙালি খাবার খান। মাছ, মাংস-ডিম প্রয়োজনমতো খান। সবজি ও ফল খাবেন বেশি বেশি। অফিসে নিজস্ব কাপ রেখে দিন। সাবান-জলে ধুয়ে সেই কাপে চা বা কফি খাবেন। পুষ্টিকর সুষম খাবার, অল্প ব্যায়াম ও ভালো ঘুম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিকঠাক রাখে। গায়ে কিছুক্ষণ হালকা রোদ লাগালে ভিটামিন-ডি-এর অভাব হবে না। ঘরের বাইরে যতক্ষণ থাকবেন, মাস্ক (সার্জিক্যাল মাস্ক বা পপলিন কাপড়ের তিন স্তরবিশিষ্ট মাস্ক) পরে থাকুন। মাস্ক যেন যথেষ্ট বড় হয়, যাতে এটা নাকের উপর থেকে চিবুকের নিচ ও কান পর্যন্ত গালের পুরোটাই ঢেকে রাখে। মাস্কের সামনের অংশ হাত দিয়ে ধরবেন না।

যদি কোনো কারণে মাস্ক খুলতে হয়, প্রথমে সাবান পানি দিয়ে হাত কনুই পর্যন্ত কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন। প্রতিবার হাত ধোয়ার সময় এভাবেই সাবান পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুতে হবে। এরপর কানের পেছন দিক থেকে খুলুন এবং পুনরায় সাবান-পানিতে হাত ধুয়ে নিন। যদি কাপড়ের মাস্ক হয়, ধুয়ে ব্যবহার করা যাবে। বাড়ি ফিরে সাবান জলে মাস্ক ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। আর সার্জিক্যাল মাস্ক হলে ফেলে দিতে হবে। যদি সার্জিক্যাল মাস্কের স্বল্পতা থাকে, ভেতরের অংশ কোনোভাবে ভিজে না গিয়ে থাকে, একটি কাগজের ব্যাগে রেখে প্রতি ৪ দিন পরপর প্রতিটি মাস্ক ব্যবহার করা যাবে।

মাস্ক গলায় ঝুলিয়ে রাখবেন না এবং এর ভেতরের অংশে কোনোভাবে হাত দেবেন না। অফিসে বস বা সিনিয়রদের সঙ্গে মাস্ক খুলে কথা বলার দরকার নেই। এ সময় মাস্ক পরা কোনো বেয়াদবি নয়, বরং যার সঙ্গে কথা বলছেন, তার নিরাপত্তার জন্যও সেটা দরকার। কেউ মাস্ক ব্যবহার না করলে তাকে পরার অনুরোধ করতে হবে। এটা কোনো বীরত্ব দেখানোর বিষয় নয়। তবে একটি মাস্ক একবারের বেশি ব্যবহার না করাই ভালো। সাধারণ মানুষের গ্লাভস পরার দরকার নেই। নিয়ম মেনে না পরলে উল্টে বিপদের আশঙ্কা বেশি। তার চেয়ে হাত ধুয়ে নেওয়া অনেক নিরাপদ।

বাইরে বের হওয়ার সময় সঙ্গে ছোট একটা সাবান ও ৭০ শতাংশ অ্যালকোহল আছে-এমন স্যানিটাইজার নিন। হাত ধোওয়ার সুযোগ থাকলে সাবান পানিতে হাত ধুয়ে নিন। না হলে স্যানিটাইজার ব্যবহার করে বারবার হাত পরিষ্কার করুন। মাথা ও চুল, টুপি কিংবা স্কার্ফ দিয়ে ভালোভাবে ঢেকে রাখলে ভালো। বিশেষ করে বড় চুল অবশ্যই ঢেকে রাখুন। সানগ্লাস বা চোখ ঢেকে যায়Ñ এমন চশমা ব্যবহার করুন। নাক, মুখ ও চোখ হাত দিয়ে কোনোভাবেই স্পর্শ করবেন না।

আপনি যদি এমন জায়গায় হাত দেন, যেখানে জীবাণু থাকার আশঙ্কা আছে, যেমন গণপরিবহনে উঠলে, লিফটের বোতাম-দরজার হাতল বা সিঁড়ির রেলিং ধরলে, পাঁচজন ব্যবহার করে-এমন কিছুতে হাত দিলে, টাকা দেওয়া-নেওয়া করলে ইত্যাদি, সেই হাত নাকে, মুখে বা চোখে কিংবা অন্য কোথাও লাগার আগেই ভালো করে ধুয়ে নিন।

প্রতিদিন ধোওয়া যাবে-এমন স্যান্ডেল বা জুতো পরে বাইরে যাবেন। গয়নাগাটি, ঘড়ি পরার কোনো দরকার নেই। বাসায় ফিরে কোনোকিছু স্পর্শ না করে আগে জুতো বাইরে খুলে ঘরে ঢুকবেন। বাইরের জুতা বাইরেই রাখুন। সম্ভব হলে ব্লিচিং দ্রবণে ভিজিয়ে দিন। একেকদিন একেকটা ঘুরে-ফিরে পরতে পারেন। তবে ইচ্ছা হলে সাবান পানিতে জুতো ধুয়ে তবে ঘরে ঢোকাতে পারবেন। এর পর কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় যেখানে কেউ যাবে না, সেখানে ব্যাগ রেখে সরাসরি বাথরুমে গিয়ে জামা-কাপড় গরম সাবান পানিতে আধাঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে ভালোভাবে ধুয়ে নিন, চশমা সাবান-জলে ধুয়ে নিন।

স্যানিটাইজার দিয়ে মোবাইল, মানিব্যাগ এবং এ জাতীয় জিনিস পরিষ্কার করুন। সাবান, শ্যাম্পুসহকারে ভালো করে স্নান করুন। বাড়িতে অসুস্থ, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী মায়ের সঙ্গে অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবেন। বাড়িতে কাজের লোক বা অন্য কেউ এলে ঘরে ঢোকার আগে হাত-পা ভালো করে সাবান জলে ধুয়ে নিতে বলুন। মাস্ক পরতে বলুন। স্নান করে জামা-কাপড় বদলে নিতে পারলে আরও ভালো। সবচেয়ে ভালো হয় কাজের লোক না থাকলে।

জ্বর, সর্দি-কাশি ইত্যাদি উপসর্গ থাকলে অফিসে অবশ্যই জানিয়ে দিন। আইসোলেশনে থাকুন এবং লুকিয়ে না রেখে করোনার পরীক্ষা করুন। কারণ এই রোগ লুকিয়ে রাখার ভয়াবহতা অত্যন্ত বেশি। তাই নিরাপদে থাকুন, অন্যকে নিরাপদ রাখুন।

লেখক : শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এবং আবাসিক চিকিৎসক বারডেম জেনারেল হসপিটাল-২ (মহিলা ও শিশু হাসপাতাল), সেগুনবাগিচা, ঢাকা

সর্বাধিক পঠিত