প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যা: ৩৮ জনকে আসামি করে সিআইডির মামলা

সুজন কৈরী : [২] মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর পল্টন থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

[৩] পল্টন থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, রাত দশটার দিকে সিআইডির উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাশেদ ফজল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নম্বর ১। মামলার এজহারে ৩৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

[৪] এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে,  গত বছরের জানুয়ারী থেকে চলতি বছরের মে মাসের যে কোনো সময় পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে  লিবিয়ায় ভাল বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুট ব্যবহার করে বিভিন্ন অঙ্কেও টাকার বিনিময় ভুক্তভোগীদের লিবিয়ায় পাচার করে কম টাকায় কঠিন শ্রমে নিয়োজিত করে। পল্টনের স্কাই ভিউ ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলসসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ট্রাভেল এজেন্সি ও রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক, কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট দালালরা দেশ-বিদেশে অবস্থানরত আসামিরা ফোনে এবং স্ব-শরীরে এই বলে ফুসলাতে থাকে যে, তারা যদি একটু ঝুঁকি নিয়ে তাদের সহায়তায় লিবিয়া থেকে পাশের দেশ ইতালি যায় তবে অনেক টাকা বেতনে চাকরি করতে পারবে। লিবিয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করা ভুক্তভোগীরা উপায়ান্ত না দেখে মামলার আসামিদের প্ররোচনায়প্রলোভিত হয়। গত এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে আসামিরা পরস্পর যোহষাজশে ভুক্তভোগীদের লিবিয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে জড়ো করে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাকে। এরপর মে মাসের মাঝামাঝি সময় লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলী থেকে ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণের শহর মিজদায় লিবিয়ান কিছু সন্তাসী গোষ্ঠীর সহযোগীতায় মিজদা শহরে আটকে রাখে। সেখানে আসামিরা স্থানীয় মানবপাচারকারীদের সহায়তায় ভুক্তভোগীদের শারীরিক নির্যাতন চালাতে থাকে এবং নির্যাতনের ভিডিও এবং শব্দ মোবাইলের মাধ্যমে বাংলাদেশে অবস্থানরত ভুক্তভোগীদের আত্মীয়-স্বজনদের কাছে পাঠিয়ে তাদের প্রত্যেকের কাছে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। বাংলাদেশী ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কিছু সুদানী নাগরিকও আটকের পর নির্যাতিত হতে থাকে। নির্যাতনের মাত্রা বাড়ায় কোনো এক সুযোগে সুদানী ভিকটিমরা আত্মরক্ষার্থে একজন স্থানীয় মানবপাচারকারীকে হত্যা করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২৮ মে নির্বিচারে গুলি করে মাদারীপুরের রাজৈরের বিদ্যানগরের জুয়েল, মানিক, টেকেরহাটের আসাদুল, আয়নাল মোল্লা, জুয়েল-২, মনির, ইশবপুরের মনির, সজীব, মাদারীপুরের ফিরোজ, দুধখালীর শামীম, ঢাকার আরফান, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের রহিম, ভৈরবের রাজন, শাকিল, রসুলপুরের আকাশ, ভৈরবের নোহাগ, মো. আলী, গোপালগঞ্জের সুজন, কামরুল, যশোরের রাকিবুল, মাগুড়ার মোহাম্মদপুরের বিনোদুপরের নারায়ণপুরের লাল চান্দ, মাদারীপুরের জাকির হোসেনসহ ২৬ জন বাংলাদেশী এবং সুদানীদের হত্যা করে। এছাড়া বাংলাদেশী আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী গুলিবিদ্ধ হন। একজন ভুক্তভোগী প্রাণে বেচে গিয়ে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেন। তার কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে আর্মি নিহতদের লাশ উদ্ধার করে এবং আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করে।
[৫] বেচে যাওয়া ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে মামলার বাদি ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন উল্লেখ করে মামলার এজাহারে আরও বলেছেন, ওই ভুক্তভোগীর মাধ্যমে জানা যায়, আসামিরা পল্টনসহ দেশের বিবিন্ন এলাকার ট্রাভেল এজেন্সির মালিক, কর্মচারী ও দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের নিয়োজিত দালালদের সহায়তায় পলোভন দেখিয়ে লিবিয়াসহ বিভিন্ন দেশে নিয়ে আটক করে ও নির্যাতন চালায়। সেইসঙ্গে নির্যাতনের ভিডিও আত্মীয়-স্বজনদের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপণ আদায় করে।

[৬] উল্লেখ্য, গত ২৮ মে লিবিয়া সাহারা মরুভূমি অঞ্চলের মিজদা শহরে ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এতে আহত হয় আরও ১১ জন। বাংলাদেশিসহ ওই অভিবাসীদের মিজদা শহরের একটি জায়গায় টাকার জন্য জিম্মি রেখেছিল মানবপাচারকারী চক্র। এ নিয়ে এক পর্যায়ে ওই চক্রের সঙ্গে মারামারি হয় অভিবাসী শ্রমিকদের। এতে এক মানবপাচারকারী নিহত হয়। তারই প্রতিশোধ হিসেবে সেই মানবপাচারকারীর লোকজন এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত