প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] টানা বৃষ্টিতে উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ ধানের জমিতে পানি উঠেছে, কপালে হাত কৃষকের!

মুসবা তিন্নি : [২] বগুড়ার ধুনট উপজেলায় কমপক্ষে সাড়ে ৪ হাজার কৃষকের পাকা ধানে মই দিয়েছে টানা বৃষ্টি। কয়েক দিনের অতিবৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় নিম্নাঞ্চলের জমিতে পাকা ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। কোথাও আবার পাকা ধান গাছ কাদামাটির সঙ্গে লেপ্টে গেছে। ঘাম ঝরানো স্বপ্নের ফসলের এমন দৃশ্যে কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

[৩] জানা গেছে, এ উপজেলার কৃষক দেরীতে বোরো ধান কাটা মাড়াই শুরু করেছন। ইতিমধ্যেই ৯০ শতাংশ জমির ধান কাটা মাড়াই শেষ হয়েছে। এরপরও প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কৃষকরে কমপক্ষে ১৮০ হেক্টর জমির ধান মাঠে পড়ে আছে। ঘূর্ণীঝড় আম্ফানের শুরু থেকে কয়েক দিনের দিনের বর্ষণে নিম্নাঞ্চল নিমজ্জিত হয়েছে। এতে তলিয়ে গেছে কৃষকের পাকা বোরো ধানের ক্ষেত। পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে বোরো ধান চাষীরা।

[৪] উপজেলার খাদুলী গ্রামের কৃষক ফজলার রহমান বলেন, কয়েকদিন পরে বোরো ধান কাটার প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে সময়মতো ধান কাটতে পারিনি। এরই মধ্যে ভারী বর্ষণে তার পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তাই পরিবার পরিজন নিয়ে ধান কেটে কলার ভেলায় বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন।

[৫] ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিদুল হক বলেন, চলতি মৌসুমে প্রায় ৪০ হাজার কৃষক ১৬ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করেন। এরমধ্যে ৯০ শাতংশ জমির ধান কাটা মাড়াই শেষ হয়েছে। এ অবস্থায় আম্ফানের প্রভাব ও অবিরাম বর্ষণে নিম্নাঞ্চলের ১৮০ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এতে প্রায় ৩৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

[৬] নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন মাঠে আগাম বন্যা পানি ঢুকে পড়ায় প্রতিটি মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এবারে আমন চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় কৃষকরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। উপজেলার প্রতিটি এলাকার কৃষকদের আমন ধানের বীজতলা পানির নিচে ডুবে যাওয়ায় তারা আমনের চারা উৎপাদন করতে পারছে না।

[৭] কৃষি অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার ৮ ইউনিয়নে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়। এর মধ্যে মনিয়ারী, ভোঁপাড়া ও শাহাগোলা ইউনিয়নে সর্বাধিক পরিমাণ জমিতে আমন চাষ করা হয়। গত বছর আমন চাষের মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে চিনি আতপ ধানের চাষ হয়েছিল। এতে করে কৃষকরা ব্যাপক লাভবানও হয়েছিল। এবারে আগাম বন্যার পানি মাঠে চলে আসায় আমনচাষ ব্যহত হতে পারে।

[৮] উপজেলার শাহাগোলা গ্রামের আজাদ সরদার বলেন, আমরা এখনো বোরো ধান কেটেই শেষ করতে পারিনি। মাঠ পানিতে ভরে গেছে, আমন ধানের আবাদ এবারে করা সম্ভব হবে না।

[৯] উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কেএম কাউছার হোসেন বলেন, হঠাৎ করে অতি বর্ষণের ফলে মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। নদীর পানি কিছুটা কমলে পাঠের পানিও কমে যাবে। আমরা আশা করছি মাঠে পানি নেমে গেলে কৃষকরা পুরোদমে আমনচাষ করতে পারবে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত