শিরোনাম
◈ একপাক্ষিক নির্বাচনের শঙ্কা জামায়াত- এনসিপির, কী বলছে ইসি? ◈ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি করে হত্যা: সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেল (ভিডিও) ◈ এলপিজি নিয়ে সংকট: বৃহস্পতিবার থেকে বিক্রি বন্ধের হুঁশিয়ারি ব্যবসায়ী সমিতির ◈ জকসু নির্বাচনে শীর্ষ তিন পদেই ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের জয় ◈ বি‌পিএল, সিলেট টাইটান্স‌কে হারিয়ে আবার শী‌র্ষে চট্টগ্রাম রয়‌্যালস ◈ ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার যা করেছেন, চাইলে বাংলাদেশেও করুন, কিন্তু খেলোয়াড় কেন: জম্মু–কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ◈ এবার লিটন দাসের চুক্তিও বাতিল করল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান! ◈ বড় বাজারে অর্ডার কম, নতুন বাজারেও ধাক্কা: পোশাক রফতানিতে চ্যালেঞ্জ ◈ এবারের নির্বাচন লাইনচ্যুত রেলকে লাইনে ফেরানোর চেষ্টা: নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ ◈ রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গুলি করে হত্যা

প্রকাশিত : ১৮ মে, ২০২০, ০৭:১৮ সকাল
আপডেট : ১৮ মে, ২০২০, ০৭:১৮ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ আজাদ রহমানের চরণে

আসিফ আকবর : গানের জগতে আমার নাম-ডাক যাই থাকুক, কিছু জায়গায় ঝিনুকের মতো শক্ত খোলসে নিজেকে আটকে রাখি। প্রবল পরাক্রমশালী সংগীতজ্ঞদের সান্নিধ্য পাওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। সবাই আমাকে কেন যেন খুব দ্রুত তাদের কাছে টেনে নিয়েছেন। বাংলাদেশে শেষ প্রজন্মের শিল্পীদের মধ্যে আমিই সবচেয়ে সৌভাগ্যবান। আমার ভেতরে সবসময় একটা ভয় কাজ করে, আর সেটা হচ্ছে সংগীত সম্পর্কে নিজের অজ্ঞতা। একান্তই বাধ্য না হলে আমি দেশের মহীরুহ সংগীতজ্ঞদের ত্রিসীমানায় অযথা ঘোরাঘুরি করিনি কখনো। তাদের সামনে পড়ে গেলে শ্রদ্ধায় নুয়ে পড়েছি বারবার। সবসময় চেষ্টা করেছি যথাযথ সম্মান জানানোর।

বাংলাদেশের একজন অমর কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ শ্রদ্ধেয় আজাদ রহমান স্যার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজাদ রহমান স্যার সম্বন্ধে লিখে পা-িত্য দেখানোর যোগ্যতা আমার নেই। ছোটবেলায় এক ব্যান্ডের রেডিওতে তার নাম শুনতাম উপস্থাপকের মুখে। কুমিল্লা রূপকথা সিনেমা হলে ‘দস্যু বনহুর’ সিনেমা দেখা তখন শেষ। আর রেডিওতে কান দিয়ে অপেক্ষা করতাম আজাদ রহমান স্যারের সুর করা এবং নিজ কণ্ঠে

গাওয়া ডোরাকাটা দাগ দেখে বাঘ চেনা যায় গানটি শোনার জন্য। সেই সময়ে কী দুর্দান্ত সৃষ্টি তিনি করে গেছেন, যা এখন ভাবাই যায় না।

 

জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো, এক বুক জ্বালা নিয়ে বন্ধু তুমি, মনেরও রঙ্গে রাঙ্গাবো, ভালোবাসার মূল্য কতো, ও চোখে চোখ পড়েছে যখনই এ ধরনের অনেক অমর সৃষ্টি সমৃদ্ধ করেছে বাংলা সংগীতের ভা-ার। সম্ভ্রান্ত বংশীয় শিক্ষিত একজন দানবীরের মহাপ্রয়াণে আমরা শোকাহত। গত বছর একটা ক্ল্যাসিক্যাল সংগীত সন্ধ্যায় যেতে হয়েছে বাধ্য হয়ে। সংগীতের গুরুজনদের সরব উপস্থিতি থাকায় আমি একেবারে অডিটোরিয়ামের পেছনের সারিতে গিয়ে বসেছি জন্মগত ব্যাকবেঞ্চার হিসেবে। আমাকে স্টেজে ডেকে উত্তরীয় পড়ানো হবে, নাম ঘোষণার পর কোথায় লুকাই সেই চিন্তায় অস্থির ছিলাম। স্টেজ থেকে নেমে সরাসরি গিয়ে সামনের সারিতে বসা আজাদ রহমান স্যারের পায়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে সালাম করলাম। তিনি আমাকে বললেন, আসিফ আমি সব খবর রাখি, ভালো হচ্ছে তোমার গান-বাজনা।

 

কোনো কথা না বলেই চলে এসেছি, একটা ছবি তোলার সাহসও পাইনি। যদিও আজকাল এসবের কোনো তোয়াক্কা করে না বীর সেলফিবাজরা। গায়ের উপর ঝাঁপিয়ে পাড়িয়ে মাড়িয়ে সরি বলে নিজের যোগ্যতায় ছবি তুলে ফেসবুকে অমর হয়ে যায় জীবিতাবস্থায়। আজাদ রহমান স্যারের বাসায় যাবো যাবো করে যাওয়ার সাহস পাইনি। আজ তিনি নিজেই চলে গেলেন, রেখে গেলেন সৃষ্টির আনন্দ। কয়েক বছরে আমরা হারিয়েছি সংগীত জগতের অনেক গুণী মানুষ, হয়তো সামনে আরও হারাতে হবে। এখনি সময় দেশের এই রতœদের নিয়ে আর্কাইভ বানানোর কাজ শুরু করা, এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সমৃদ্ধ হবে জ্ঞানে। মরহুম আজাদ রহমান স্যারের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি, গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়