প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

করোনাকালে প্রত্যেকের পক্ষেই যে কিছু করা সম্ভব, সে বোধটা জাগানো দরকার

হাসান মামুন : দেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হয়ে কাজ করে, এমন এক জুনিয়র ডাক্তারকে মাঝে মধ্যে ফোন দিয়ে করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোকিত হওয়ার চেষ্টা পাই। সেও খবরাখবর দেয়। ৯ মে রাতে ডাক্তার ফোন দিলোÑ যেখান থেকে লেখাপড়া করে বেরিয়েছে, ওখানে তার সেই জুনিয়রদের পরিবারকে কিছু আর্থিক সহায়তার কথা বলতে, যারা টিউশনি করে চলতো আর গ্রামেও মাসে মাসে পাঠাতো কিছু পয়সাকড়ি। এখন তো টিউশনি বন্ধ। ধারকর্জও কে দেবে এখন? ক’দিনই-বা দেবে? সামনেই একটা ঈদ চলে আসছে আবার। ৯ মে আমরা তাই করোনাভাইরাসের মিউটেশন বা এর প্রতিষেধককেন্দ্রিক গবেষণাসহ এ বিষয়ে বিশেষ কোনো আলাপ করি না। কথা বলি এমন কিছু জনগোষ্ঠী নিয়ে, যাদের কথা হয়তো সেভাবে আলোচিত হচ্ছে না। সান্ত¡না দিতে নয়, নিজেও একটুখানি আশ্বস্ত হতে কিছু কাহিনি শোনাই তাকে। এর একটি হলোÑ মিরপুরে লকডাউনে থাকা একদল ফ্ল্যাটবাসীর সমিতি শুধু এ সিদ্ধান্ত নেয়নি যে, সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বুয়ারা ওখানে ঢুকবে না, তারা এ সিদ্ধান্তও নিয়েছে, কর্মহীন থাকাকালে বুয়ারা মজুরিটা পাবে প্রত্যেক পরিবার থেকে। চক্ষুলজ্জায়ও কেউ এ সিদ্ধান্ত অমান্য করছে না। এদিকে একাধিক রিকশাচালক আমাকে বলেছে, অধিকাংশ যাত্রীই ৫-১০ টাকা করে বেশি দিচ্ছে গন্তব্যে পৌঁছে। না দিতে পারলে ‘সরি’ বলছে। ভ্যানে সবজি বেচা লোকটিÑ যে আগে দোকান কর্মচারী ছিলো বলছে, সচ্ছলরা অত দামদর করছে না। কিন্তু চাষি তার ফলানো সবজির দাম পাচ্ছে কিনা, এর কোনো সদুত্তর তাকে দিতে পারি না। দেখলাম, ওই খবরও সে রাখে। সংকটে মানুষ যেন বেশি বেশি খবর রাখতে পারে অন্যের, নিশ্চুপ কোনো কোণই যেন না থাকে স্পর্শের বাইরেÑ সেজন্য সম্ভব সব উপায়ে যোগাযোগ বাড়ানো চাই। ছোট্ট ইতিবাচক খবরগুলোও পৌঁছাক দুশ্চিন্তায় কাবু মানুষের কাছে। প্রত্যেকের পক্ষেই যে কিছু করা সম্ভব, সে বোধটাও জাগানো দরকার। এ দুঃসময় কাটতে যদি লেগে যায় দীর্ঘ সময়, তাহলে তো মানুষকে আরও অনেক বেশি সক্রিয়তা নিয়ে দাঁড়াতে হবে বিপদগ্রস্তের পাশে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত