প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মহামারি করোনা আতঙ্কের মধ্যেও আপন রুপে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

এম. আমান উল্লাহ : [১] রুপ বদলে নিজের মতো করে বাঁচতে শিখেছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। মানুষের পদচারণা বন্ধ হওয়ার সুযোগে প্রায় দুই দশক পর কক্সবাজার সৈকতের বিশাল এলাকাজুড়ে ফিরে এসেছে ‘সাগরলতা’। উন্মুক্ত সৈকতে দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে লাল কাঁকড়ার দল। শুধু তাই নয় কেঁচোর আলপনা দেখা যাচ্ছে প্রতি কদমে কদমে।

[৩] এছাড়াও ডিম পাড়তে আসছে নানা প্রজাতির কচ্ছপ। বাসা বেঁধেছে গাঙ কবুতরের দল। আর ডলফিনের উচ্ছল নৃত্যে আন্দোলিত সাগরের কথা তো সবারই জানা। করোনা ভাইরাসের কারণে দেশ লগ ডাউন থাকাই বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত এতটা বদলে গেল। বিষয়টা অবাক করার মতোই। অথচ দুই মাস আগেও লাখো পর্যটকের সমাগমে সৈকত ছিল ক্লান্ত। এখন পাল্টে গেছে সেই দৃশ্য। গত ১৮ মার্চ থেকে করোনাভাইরাসের প্রভাবে পর্যটকদের আসা–যাওয়া বন্ধ রয়েছে কক্সবাজারে। এ বিরল নির্জনতার সুযোগ নিয়েছে সাগরপাড়।

[৪] বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বালিয়াড়ি তৈরির মূল কারিগর সাগরলতা। সমুদ্র সৈকতে মাটির ক্ষয়রোধ এবং শুকনো উড়ন্ত বালুরাশিকে আটকে রাখে বড় বড় বালির পাহাড় বা বালিয়াড়ি তৈরী করে এই লতা। সাগরে ঝড়-তুফান বা ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাস উপকূলে ঠেকিয়ে রাখে বলে বালিয়াড়িকে সৈকতের রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

[৫] স্থানীয়রা বলছেন, এক দশক আগেও কক্সবাজার শহর থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সমুদ্র সৈকতজুড়ে গোলাপি-অতিবেগুণি রঙের ফুলে ভরা এক অন্যরকমের সৌন্দর্যময় পরিবেশ ছিল। দখল ও দূষণের শিকার হয়ে প্রায় তিন দশকে কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সমুদ্র সৈকতের বড় বড় বালিয়াড়িগুলো প্রায় হারিয়ে গেছে। ধীরে ধীরে সমুদ্র তীরভাঙনের শিকার হয়ে হাজার হাজার একর ভূমি সাগরগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। করোনা ভাইরাসের কারণে দেশ লগ ডাউন থাকায় আবার আগের মতো ‘ডেইল’ (বালিয়াড়ির কক্সবাজারের আঞ্চলিক নাম) দেখা যাচ্ছে। অনেক জায়গায় সাগরলতাও উঠেছে।

[৭] পরিবেশবীদ আমীনুল হক আমীন বলেন, সৈকতের কোথাও কেঁচোর আলপনা, কোথাও ক্ষুদে লাল কাঁকড়ার অবাধ বিচরণ এখন এমন দৃশ্যের দেখা মিলছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতেই। অথচ মানুষের পায়ের চাপে পুরো সৈকত রীতিমতো কার্পেটে পরিণত হয়েছিল! এখন জনশূণ্য সৈকতে মনোমুগ্ধকর আলপনা আঁকছে কেঁচো, তার পাশেই কাঁকড়ার দল। যেন অবচেতন মনের কোনো শিল্পীর ক্যানভাস সদৃশ এ দৃশ্য।

[৭] কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, পর্যটক নিষেধাজ্ঞার সময়ে সৈকতে মানুষের পদচারণা কমে এসেছে। সে সুযোগে সাগরলতা ফিরে এসেছে দেখে সত্যিই অভিভূত হয়েছি। তাই স্থানীয়দের সমন্বয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ কমিটি গঠন করে এসবের দেখভাল ও পরিচর্যার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে পুরো সৈকতজুড়ে পর্যটক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি ভাবা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত