প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] গোয়ালন্দের কুশাহাটা চরে এখনও পৌঁছেনি ত্রাণ, অনাহারে-অর্ধহারে হাজারো মানুষ!

কামাল হোসেন : [২] ১১০ বছরের বৃদ্ধা চেন্ত বেগম। ৩০ বছর আগে স্বামী হাড়িয়ে বিধবা হয়েছেন। অনেক কষ্টে ৩ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। একমাত্র ছেলে ভূমিহীন হতদরিদ্র ইসলাম সরদারের কাছেই থাকেন। ছেলে মাছ মেরে যা আয়-রোজগার করেন তাতে তিন বেলা ঠিকমত খাবারও জোটেনা তাদের। করোনা ভাইরাসের প্রাদূর্ভাবের কারণে কর্মহীন হয়ে ঘরে বসে আছেন প্রায় ১মাস। পুঁজি যা ছিলো তা দিয়ে এত দিন খেয়েছেন। এখন ঘরে কোন খাবার নেই। হাত পাতারও জায়গা নেই।

[৩] তাই গত কয়েক দিন ধরে ছেলে, ছেলের বউ, নাতি-নাতনিসহ খেয়ে না খেয়েই কাটছে তাদের দিন। কোথাও যাওয়ার রাস্তা নেই। দ্বীপ চরের গন্ডি পেরুতে হলে নৌকা কিংবা ট্রলারে যেতে হবে। কেউ জানলে বিপদ হতে পারে , তা ভেবে ঘরেই ছেলের পরিবারসহ অনাহারে-অর্ধহারে কাটছে তাদের দিন। ক্ষোভ আর কষ্ট ভরা কন্ঠে চেন্ত বেগম বলেন, বাজানগো করোনাও আমাগো চোহে দেহে না।

[৪] বলছিলাম গোয়ালন্দ উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ পদ্মার চর কুশাহাটা এলাকার চেন্ত বেগমের(১১০) কথা।

[৫] সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শুধু চেন্ত বেগমই নয়, এখানে রয়েছে এরকম শত শত কষ্টের গল্প। কথা হয় অসহায় বৃদ্ধ কুশাহাটা চরের বাসিন্দা আবুল শেখ, আকবর মন্ডল, খায়রুল বেপারী, মজনু বেপারীর সাথে তারা জানান, এখানে হাজার লোকের বসবাস যারা সকলেই অসহায়, হতদরিদরিদ্র, ভূমিহীন, নিম্ন আয়ের মানুষ। কৃষিকাজ ও মাছধরা তাদের প্রধান পেশা।
করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় ১মাস কর্মহীন হয়ে ঘরে বসে আছেন, পুঁজি-পাট্টা যা ছিল তাই দিয়ে এতদিন চলেছেন। কিন্তু এখন ঘরে খাবার নেই, সামনের দিনগুলো কেমনে চলবো সেই চিন্তায় আছি। শুনেছি সরকার, চেয়ারম্যান, মেম্বাররা অনেক জায়গায় ত্রাণ দিচ্ছে, কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত কিছুই পাইনি। এভাবে চলতে থাকলে ছেলে-পুলে নিয়ে আমরা না খাইয়াই মইরা যামু , করোনা লাগবো না।

[৬] জানা যায়, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নে পদ্মা বুকে জেগে ওঠা, চারদিকে পদ্মা ও যমুনা নদী দ্বারা বেস্টিত দূর্গম চরের নাম কুশাহাট। সে যেনো এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ, সেখানে হাজারের অধিক মানুষের বসবার থাকলেও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত তারা। ৭/ ৮ কিলোমিটার নদী পথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ইঞ্জিন চালিত ট্্রালার, এখন শুকনো মৌসুম হওয়ায় ১কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিয়ে প্রায় আড়াই ঘন্টা পায়ে হেটে কুশাহাট চরে পৌঁছাতে হয়।

[৭] কুশাহাট চরের বাসিন্দা মানিকগঞ্জের শিবালয় সদর উদ্দিন ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র হাসান মাহমুদ বলেন, কৃষিকাজ ও মাছ মেরে তারা দু’মুঠো ভাতের যোগার করেন। গোয়ালন্দ উপজেলায় ও মানিকগঞ্জের শিবালয়ে করোনা’র কারণে দোকান-হাট বাজার বন্ধ থাকায় এখানকার বাসিন্দারা কৃষিপণ্য ও মাছ বিক্রি করতে পারছেন না। যার ফলে একদিকে তাদের আবাদকৃত সবজি নষ্ট হয়ে লোকসানে পড়ছেন।

[৮] চরাঞ্চলের বাসিন্দারা এই মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে সরকারসহ, জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠণের সহযোগিতা কামনা করেন। তারা বলেন, রোজা চলে এসেছে, সামনে ঈদ। এভাবে চলতে থাকলে না খেয়েই মরে যাবে মানুষ, কুশাহাট চরে নেমে আসবে মানবিক বিপর্যয়।

[৯] দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মন্ডল জানান, দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার অদূরে পদ্মার চর কুশাহাট প্রায় ১০৮টি পরিবার ১৬০জন ভোটার রয়েছে। তাদের ভোটার আইডি কার্ড সংগ্রহ করে নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। অতি দ্রুতই তাদেরকে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হবে। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত