প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবি হযরত সাইদ বিন যায়িদ (রাঃ)…

আহসান হাবিব : উমাইয়া যুগে হযরত সাঈদ ইবন যায়িদকে কেন্দ্র করে একটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে মদীনাবাসীদের মুখে ঘটনাটি শোনা যেত।

ঘটনাটি হল, আরওয়া বিন্তু উওয়াইস নামের এক মহিলা দুর্নাম রটাতে থাকে যে সাঈদ ইবন যায়িদ (রাঃ) তার জমির একাংশ জবরদখল করে নিজ জমির সাথে মিলিয়ে নিয়েছেন। যেখানে সেখানে সে একথা বলে বেড়াতে লাগল। এক পর্যায়ে সে মদীনার দায়িত্বশীল মারওয়ান ইবনুল হিকামের নিকট বিষয়টি উত্থাপন করল। বিষয়টি যাচাই করে দেখার জন্য মারওয়ান কয়েকজন লোককে সাঈদের (রা.) নিকট পাঠালেন। রাসূলুল্লাহর (সা.) সাহাবি হযরত সাঈদের (রাঃ) জন্য বিষয়টি ছিল বেশ কষ্টদায়ক। তিনি বললেনঃ ‘‘তারা মনে করে আমি তার ওপর যুলুম করছি। কিভাবে আমি যুলুম করতে পারি? আমি তো রাসূলুল্লাহকে (সা.) বলতে শুনেছিঃ ‘যে ব্যক্তি এক বিঘা পরিমাণ জমি যুলুম করে নেবে, কিয়ামতের দিন সাত তবকা যমীন তার গলায় ঝুলিয়ে দেয়া হবে।’ ইয়া আল্লাহ! সে ধারণা করেছে অমি তার ওপর যুলুম করেছি। যদি সে মিথ্যুক হয়, তার চোখ অন্ধ করে দাও, যে কূপ নিয়ে সে আমার সাথে ঝগড়া করেছে, তার মধ্যেই তাকে নিক্ষেপ কর এবং আমার পক্ষে এমন আলোক প্রকাশ করে দাও যাতে মুসলিমদের মাঝে স্পষ্ট হয়ে যায় যে আমি তার ওপর কোন যুলুম করিনি।’’

এ ঘটনার পর কিছু দিন যেতে না যেতেই আকীক উপত্যকা এমনভাবে প্লাবিত হল যে অতীতে আর কখনো তেমন হয়নি। ফলে দু’যমীনের মাঝখানে বিতর্কিত অদৃশ্য চিহ্নটি এমনভাবে প্রকাশ হয়ে পড়ল যে, মুসলিমরা তা দেখে বুঝতে পারল সাঈদ সত্যবাদী। তারপর একমাস না যেতেই মহিলাটি অন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় একদিন সে তার যমীনে পায়চারী করতে করতে বিতর্কিত কূপটির মধ্যে পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে।

আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় বান্দাদের সম্মান এভাবেই হেফাজত করেন।

আমাদের চেষ্টা উচিত যেন আমরা অন্যের জমি আত্মসাৎ বা অন্যের অধিকার নষ্ট করার মতো গুরুতর অপরাধ থেকে নিজেদেরকে মুক্ত রাখতে পারি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত