শিরোনাম
◈ রংপুরের চার খুনের তদন্তে নতুন মোড়, সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের শরীরে মেলেনি মাদকের অস্তিত্ব ◈ মক্কা চুক্তি: কৌশল ও প্রতিরক্ষা কমিটির বৈঠক আজ, আলোচনায় যা থাকবে ◈ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, বেড়ে দাঁড়াল ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩: ইসি সচিব ◈ র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের রুনা খান ◈ আইপিইউ মহাসচিবের সঙ্গে স্পিকারের বৈঠক, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার নিয়ে আলোচনা ◈ খার্গ দ্বীপ কি ‘ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে’, যা জানাল রয়টার্স ◈ মালয়েশিয়াগামী ক্ষতিগ্রস্ত ১০ হাজার কর্মীকে বিনা খরচে পাঠানোর নির্দেশ ◈ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার খুলছে সুন্দরবন ◈ শিশু আছিয়া হত্যা: হাইকোর্টে হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল ◈ প্রোটোকল ভাঙা সফর: টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রতিমন্ত্রী হাবিবের নির্ভার উপস্থিতি, ভিন্ন সংস্কৃতির ইঙ্গিত

প্রকাশিত : ১৩ মার্চ, ২০২৬, ০১:০৫ রাত
আপডেট : ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শুল্ক বৈষম্যে বেনাপোল ছেড়ে ভোমরা বন্দরে ঝুঁকছেন ব্যবসায়ীরা

আজিজুল হক, বেনাপোল (যশোর): পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে দেশে বিদেশি ফলের চাহিদা বাড়ায় যশোরের বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে ফল আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে এসব ফল এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।

আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, পাশ্ববর্তী সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের তুলনায় বেনাপোল বন্দরে শুল্ক আদায়ে বৈষম্য এবং স্ল্যাব পদ্ধতির কারণে আমদানি ব্যয় অনেক বেশি পড়ছে। এতে একটি ফলবাহী ট্রাকে ভোমরা বন্দরের তুলনায় বেনাপোল বন্দরে দুই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব দিতে হচ্ছে।

ফলে অনেক ব্যবসায়ী বেনাপোল বন্দর এড়িয়ে ভোমরা বন্দরের দিকে ঝুঁকছেন। এতে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলের রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ফল আমদানিকারকদের প্রতিনিধি জাবেদ হোসেন বলেন, ভোমরা বন্দরে যেখানে একটি ট্রাকে যে পরিমাণ রাজস্ব দিতে হয়, বেনাপোলে তার চেয়ে দুই থেকে তিন লাখ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। এতে অনেক ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে ভোমরা বন্দরে পণ্য খালাস করছেন। তিনি বলেন, বেনাপোল কাস্টমসে বিদ্যমান শুল্ক বৈষম্য দূর করা হলে আবারও আমদানিকারকরা বেনাপোলমুখী হবেন এবং রাজস্ব আদায়ে গতি ফিরবে।

এদিকে ব্যবসায়ীদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, ভোমরা বন্দরে স্কেলে ওজন কারচুপি ও সেন্টিগেট জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ভোমরা বন্দর কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, ভোমরা বন্দরে প্রতি ট্রাকে দুই থেকে তিন টন ওজনের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। আর বেনাপোল বন্দরে পণ্যের নিট ওজনের ওপর অতিরিক্ত ৫০০ কেজি চাপিয়ে দেওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

তিনি জানান, গত সোমবার দেশের বৃহত্তম বেনাপোল বন্দরে ভারত থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের পরিমাণ ছিল ৩০৮ ট্রাক, আর ভোমরা বন্দরে আমদানি হয়েছে ৩২২ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য। এতে বর্তমান বাণিজ্যিক পরিস্থিতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এ পথে আমদানি বাণিজ্য বাড়াতে হলে ব্যবসায়ীদের জন্য বৈধ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বেনাপোল বন্দর ব্যবহার করতে চান। কিন্তু একটি চক্র বিভিন্নভাবে পরিস্থিতি ভোমরা বন্দরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এতে বেনাপোল বন্দরে বিশেষ করে কাঁচামালের ব্যবসা ধসের মুখে পড়েছে। বর্তমানে ডালের আমদানি অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, কাস্টমস বা বন্দর কর্তৃপক্ষ যদি ব্যবসায়ীদের জন্য প্রয়োজনীয় বৈধ সুবিধা নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে ভবিষ্যতে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সরকারও বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতির মুখে পড়বে।

  • সর্বশেষ