শিরোনাম
◈ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে বহু চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশের অর্থনীতি ◈ ঈদযাত্রায় নতুন লঞ্চ সার্ভিস চালু হবে কবে, জানালো সরকার ◈ বিদেশে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশি কোম্পানি, দেশে বাড়তে পারে বেকারত্ব ◈ শুল্ক বৈষম্যে বেনাপোল ছেড়ে ভোমরা বন্দরে ঝুঁকছেন ব্যবসায়ীরা ◈ মার্চের ১১ দিনেই রেমিট্যান্স এলো ১৯২ কোটি ডলার ◈ নাহিদের আসনের ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করলেন বিএনপির কাইয়ুম ◈ ডিসেম্বরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে রূপপুরের ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ◈ মুক্তিযোদ্ধাদের দেখানো পথেই হাঁটছে সেনাবাহিনী: সেনাপ্রধান ◈ ২ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দফতর বণ্টন, গেজেট প্রকাশ ◈ ভারতের পতাকা অবমাননা করায় ‌ক্রিকেটার হার্দিক পা‌ন্ডিয়ার বিরুদ্ধে মামলা! 

প্রকাশিত : ১৩ মার্চ, ২০২৬, ০১:১১ রাত
আপডেট : ১৩ মার্চ, ২০২৬, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : মনজুর এ আজিজ

বিদেশে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশি কোম্পানি, দেশে বাড়তে পারে বেকারত্ব

মনজুর এ আজিজ: বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর বিদেশে বিনিয়োগ ক্রমেই বাড়ছে। ২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে নেট ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট (এফডিআই) আউটফ্লো আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় নয় গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দেশে বিনিয়োগ কমে গেলে কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই ত্রৈমাসিকে নেট আউটফ্লো হয়েছে ১৫.৮০ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪ সালের একই সময়ে ছিল মাত্র ১.৭০ মিলিয়ন ডলার। মোট আউটফ্লো বা গ্রস আউটফ্লো দাঁড়িয়েছে ৩১.৯৯ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের ১৭.১১ মিলিয়ন ডলার থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। একই সময়ে দেশে এফডিআই ইনফ্লো সামান্য বেড়ে ১৬.২০ মিলিয়ন ডলার হয়েছে, যা আগের বছর ছিল ১৫.৪১ মিলিয়ন ডলার। ফলে মোট হিসাবে নেট আউটফ্লো বেড়েছে।

ত্রৈমাসিক এই সময়ে কোম্পানিগুলো দেশের তুলনায় বিদেশে বেশি অর্থ বিনিয়োগ করেছে। ইক্যুইটি ক্যাপিটাল থেকে নেট আউটফ্লো হয়েছে ২.২৩ মিলিয়ন ডলার। পুনঃবিনিয়োগকৃত মুনাফা (রিইনভেস্টেড প্রফিট) থেকে গেছে ৪.১২ মিলিয়ন ডলার। আর ইন্ট্রা-কোম্পানি লোন বা মূল কোম্পানি ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অর্থ স্থানান্তর থেকে নেট আউটফ্লো হয়েছে ৯.৪৫ মিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে ২০২৪ সালের একই সময়ে ইক্যুইটির আউটফ্লো ছিল ১.১৯ মিলিয়ন ডলার, রিইনভেস্টেড প্রফিট থেকে দেশে এসেছে ৯.২৩ মিলিয়ন ডলার, এবং ইন্ট্রা-কোম্পানি লোন থেকে এসেছে ৮.৭২ মিলিয়ন ডলার।

দেশভিত্তিক বিনিয়োগে হংকং (চীন) সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ পেয়েছে, যার পরিমাণ ১০.৬৩ মিলিয়ন ডলার। এরপর রয়েছে ভারত (৪.৬২ মিলিয়ন ডলার) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (২.৬২ মিলিয়ন ডলার)। এছাড়া সিঙ্গাপুর, কেনিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, আয়ারল্যান্ড, ইতালি এবং মালদ্বীপেও কিছু বিনিয়োগ হয়েছে। অন্যান্য দেশে নেট আউটফ্লো হয়েছে ৩.৬৮ মিলিয়ন ডলার।

খাতভিত্তিক বিনিয়োগে সবচেয়ে বেশি অর্থ গেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে, যার পরিমাণ ১২.৪৭ মিলিয়ন ডলার। এরপর রয়েছে ট্রেডিং খাত (৩.৫৩ মিলিয়ন ডলার) এবং ধাতু ও যন্ত্রপাতি খাত (০.২১ মিলিয়ন ডলার)। খনন, রাসায়নিক ও ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে বিনিয়োগ হয়েছে খুবই সামান্য, প্রায় ০.০১ মিলিয়ন ডলার করে। এছাড়া টেক্সটাইল ও পোশাক খাতে ০.১১ মিলিয়ন ডলার এবং অন্যান্য উৎপাদন খাতে ০.২৭ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতা দেখায় যে বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো বিদেশি বাজারে নতুন সুযোগ খুঁজছে। ইক্যুইটি অংশীদারিত্ব ও ইন্ট্রা-কোম্পানি ঋণের মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে।

২০১৫ সালে সরকার ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন আইন সংশোধনের পর নির্দিষ্ট শর্তে বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়, মূলত রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে।

স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, ২০২২ সালে কোম্পানিটি কেনিয়ায় একটি উৎপাদন প্ল্যান্ট নির্মাণে ৭৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এই প্ল্যান্ট থেকে কেনিয়া, তানজানিয়া, রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের মতো পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোতে ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে সেখানে বছরে প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ওষুধ বিক্রি হয়, যা শিগগিরই ১০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে। বিদেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে কোম্পানিটি শুধু বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির ওপর নির্ভর না করে আন্তর্জাতিক বাজারে লাভের নতুন সুযোগ পাচ্ছে।

বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড (বিএসআরএম)ও বিদেশে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি হংকংয়ে তার সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মূলধন বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৫ লাখ ডলার বিনিয়োগের অনুমোদন পেয়েছে।

বিএসআরএম-এর কোম্পানি সচিব শেখর রঞ্জন কর জানান, হংকংয়ে তাদের অফিসটি মূলত কাঁচামাল সংগ্রহের কাজে সহায়তা করে। একটি ছোট দল চীন ও হংকং থেকে মানসম্মত স্ক্র্যাপ সংগ্রহ করে বাংলাদেশে পাঠায়।

দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক মডেলিং নেটওয়ার্কের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, আউটওয়ার্ড বিনিয়োগ বৃদ্ধির একটি কারণ হতে পারে দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ পরিবেশের দুর্বলতা। প্রাইভেট সেক্টরের ঋণ প্রবৃদ্ধির মতো সূচকগুলোও দেখায় যে দেশীয় বিনিয়োগ এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে নেই।

তবে তিনি বলেন, মোট আউটওয়ার্ড এফডিআই এখনো তুলনামূলকভাবে কম, তাই এটি অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না। অনেক ক্ষেত্রেই বিদেশে বিনিয়োগ নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক সুযোগ অনুযায়ী অনুমোদিত হয়।

সেলিম রায়হান বলেন, দেশের অর্থ বিদেশে চলে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার চেয়ে স্থানীয় বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, ব্যবসার খরচ কমানো এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা গেলে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়