প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কীভাবে করোনাভাইরাস থেকে বাঁচবেন? আমার সামান্য পরামর্শ

পার্থ ব্যানার্জী : না আমি ডাক্তার নই। করোনাভাইরাস বিশেষজ্ঞও নই। তবে যেটুকু জ্ঞানবুদ্ধি আছে, তার ভিত্তিতে কয়েকটা জরুরি পরামর্শ দিচ্ছি। নেওয়া বা না নেওয়া আপনাদের ব্যাপার এবং আমি এমন কোনো কথাও বলছি না যা আপনারা কেউ আগে শোনেননি। একজন সারাজীবনের শিক্ষক ও মানবাধিকার অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে আমার নৈতিক দায়িত্ব আমি পালন করছি। বাংলা ও ইংরিজিতে দুটো ভিডিও আলোচনা গত কয়েকদিনে করেছি। সেগুলোও দেখতে পারেন। আমার ফেসবুক পেজে রাখা আছে। এই নিউইয়র্কে আমরা মহাসঙ্কটের মধ্যে আছি এবং এ দেশের নির্দয়, সন্ত্রাসবাদী ও সভ্যতাবিরোধী শাসকশ্রেণি, তাদের কর্পোরেট জগৎ ও মিডিয়ার কল্যাণে আমরা সবাই এখন সংক্রমণের ও রোগের সম্ভাবনায় দিন কাটাচ্ছি। হয়তো বেশিদিন আর এসব কথা লিখে জানাতে পারবো না। তাই আমাদের যে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা তা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করে নিলাম আরেকবার। ১. স্বেচ্ছা বিচ্ছিন্নতা (রংড়ষধঃধঃরড়হ) জরুরি। যতোটা পারেন, যতো বেশি পারেন, বিচ্ছিন্ন থাকুন ঘরে। আমাদের দেশে যা করা হচ্ছে, তা গিমিক। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, এই সংক্রমণ যেন সেখানে বিস্ফোরক আকার ধারণ না করে। ২. পরিচছন্নতা। গরম জল ও সাবান ব্যবহার। হাত ধোয়া (পাগলের মতো করার দরকার নেই) এবং পরিষ্কার জামা কাপড় পরে থাকা। রোদ ব্যবহার করুন। আমাদের এখানে যা নেই। সূর্যের উত্তাপে জামাকাপড় শুকিয়ে নিন। বহু জায়গায় ডাক্তার ও নার্সরা তাদের মাস্ক (ডাক্তারি মুখঢাকা আবরণ) ও দস্তানা তীব্র সূর্যের আলোতে বীজাণুমুক্ত করছেন, কারণ যথেষ্ট সংখ্যক নেই।
৩. শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান। স্বাস্থ্যকর খাবার খান, এবং জাঙ্ক ফুড বর্জন করুন। ঘরে তৈরি ভাত, রুটি, ডাল, শাকসবজি খান। রান্নার উত্তাপে জীবাণু মরে যায়। প্রচুর পরিমাণে জল খান। কোক পেপসি না খেয়ে জল খান। ‘জলই জীবন’ ভুলে যাবেন না। লেবু জাতীয় জিনিস খান, যাতে ভিটামিন ‘সি’ থাকে। চিনি ও মিষ্টি বর্জন করুন যথাসম্ভব।৪. ঘুম হলো শরীরের সবচেয়ে বড় বন্ধু। যারা ঘরে থাকতে পারেন এবং বাইরে কাজে যেতে বাধ্য নন, তারা বিশ্রাম করুন। পুরুষেরা মেয়েদের ঘরের কাজে এই সময়ে একটু সাহায্য করুন, যাতে মেয়েরাও একটু বিশ্রাম পান। আমাদের দেশে এই ব্যাপারটা নেই বললেই চলে। এখন বোধহয় মেয়েদের পরিশ্রম আরও বেড়েছে পুরুষেরা ঘরে থাকার কারণে। তাদেরও বিশ্রাম দরকার, ভুলে যাবেন না যেন। অবশ্য আমার পরামর্শ কেবল শিক্ষিত মানুষদের জন্য। যারা শুনতে চান, তাদের জন্য।
৫. শেষ পরামর্শ বিজ্ঞান ও আধুনিক জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হোন। এই মহাসঙ্কট চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, হোকাসপোকাস, তাগাতাবিজ, মাদুলি, জলপড়া, সাধুর সন্দেশ, পীরের কবজ, পাদ্রীর পাউরুটি অথবা জ্যোতিষ গ্রহরতœ দিয়ে কোনো কাজ হয় না। আধুনিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। না হলে অসময়ে মৃত্যু ঠেকাতে পারবেন না। শেষে একটা কথা বলে এখনকার মতো রাখছি। কাজের দিদি, গরিব মানুষ, রিফিউজি, বস্তিবাসী, জেলবন্দি, অনাথ আশ্রমে বা রাস্তায় পড়ে থাকা মানুষগুলোর কথা, শিশুদের কথা একটু ভাবুন। তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। কাজের দিদিদের সবেতন ছুটি দিন। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত