প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মনিটরিং করে গুজব বন্ধ করা যায় না, গুজব বন্ধে দরকার হয় তথ্য প্রবাহ অবাধ করে দেওয়া

সওগাত আলী সাগর : বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো গুজব রটাচ্ছে কিনা তা দেখভাল করতে সরকার একটি মনিটরিং সেল গঠন করেছে বলে খবর পাওয়া গেলো? যেই সময়ে সরকারের করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ব্যাপারে জনসাধারণকে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া দরকার, চিকিৎসা কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা সেটি মনিটরিংয়ের উদ্যোগ গ্রহণ দরকার, ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ পালিত হচ্ছে কিনা সেগুলো দেখা দরকার, সেগুলো না করে সরকার ছড়ি ঘোরানোর দিকে কেন মনোযোগী হয়ে পড়লো? ডাক্তারদের ব্যাপারে সরকারের কয়েকটি নির্দেশ, যদিও সেগুলো পরে প্রত্যাহার করা হয়েছে, প্রমাণ করেছে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের চেয়েও সরকারের প্রশাসন মাতব্বরির দিকে বেশি মনোযোগী। সঠিক তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা না হলেই গুজব ছড়ায়, মনিটরিং করে গুজব বন্ধ করা যায় নাÑএটা সরকারকে বুঝতে হবে। আর পত্রিকা, টেলিভিশন গুজব ছড়ায় না। ডাক্তারদের পিপিই নিয়ে কতো কথা হচ্ছেÑকই সরকারের কোনো সংস্থা, এমনকি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও তো খোলামেলো করে বলেনি তাদের আসলে কী পরিমাণ পিপিই আছে, কারা কারা পিপিই ব্যবহার করতে পারছে, কারা পারছে না, না পারলে কেন পারছে না। সরকার এই বিষয়ে তার অবস্থান পরিষ্কার করছে না কেন?
সরকারকে বলি, বাইরের পৃথিবীর দিকে তাকান। পৃথিবীর কঠিনতম সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের, তথ্য প্রবাহ সচল রাখার দায়িত্ব পালনের জন্য কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের প্রতি, মিডিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। মিডিয়ার জন্য আলাদা সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ সরকার সহায়তা তো দূরের কথা ধন্যবাদটুকু পর্যন্তও দেয়নি। বরং সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে অপবাদ দিচ্ছেন। কী লজ্জার কথা। অদক্ষ, জনবিচ্ছিন্ন আমলাতন্ত্র দিয়ে করোনা ভয়াবহ ছোবল থেকে দেশকে বাঁচানো যাবে না, নিজেরাও বাঁচবেন না। মনিটরিং করে গুজব বন্ধ করা যায় না। গুজব বন্ধে দরকার হয় তথ্য প্রবাহ অবাধ করে দেওয়া। কিন্তু সরকারের পদক্ষেপ দেখে মনে হচ্ছে তারা আসলে ধমক দিয়ে, ভয় দেখিয়ে তথ্য প্রবাহ বন্ধ করে দিতে চায়। তাহলে বেসরকারি টেলিভিশনের ‘গুজব বন্ধে’ সরকারের লাফালাফি করার দরকার হতো না। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত