প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রণোদনা কেবল রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্যই কেন প্রযোজ্য হবে, অন্য যারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কিংবা হবেন, তাদের জন্য সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে?

আলী রীয়াজ : করোনাভাইরাস সারাবিশ্বের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের বিপদ ডেকে এনেছে। অর্থনীতিবিদরা বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কা করছেন, ফলে বিভিন্ন দেশের সরকার প্রণোদনামূলক বরাদ্দ ঘোষণা করছেন। কোনো কোনো হিসেবে তার পরিমাণ দাঁড়াবে ১০ ট্রিলিয়ন ডলার। কিন্তু তার সুবিধা কে পাবে সেটাই বিবেচ্য। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, এ তহবিলের অর্থ দিয়ে কেবল শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা যাবে। এর বাইরেও কিছু পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এই প্রণোদনা কেবল রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্যই কেন প্রযোজ্য হবে, অন্য যারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন/হবেন তাদের জন্য সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন? সাধারণভাবে এর প্রভাব পড়বে সবার উপরে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন নি¤œ আয়ের মানুষের ‘ঘরে ফেরা’ কর্মসূচির আওতায় নিজ নিজ গ্রামে সহায়তা দেওয়া হবে। গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর, ছয় মাসের খাদ্য এবং নগদ অর্থ দেওয়া হবে। কিন্তু স্বল্প আয়ের কর্মজীবীদের জন্য ব্যবস্থা কী? যারা শহরের নি¤œবিত্ত তারা কীভাবে এর থেকে সুবিধা পাবেন? তাদের জন্য ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে কী? ইতোমধ্যেই অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ঘটনা ঘটছে। এই প্যাকেজ নিয়ে এমনকি কার্যত একদলীয় পার্লামেন্টে পর্যন্ত আলোচনা হয়নি। নীতিনির্ধারকদের কোন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে সেই বিষয়ে কোনো গণমাধ্যমেই সংবাদ দেখা যায়নি। এ সব আলোচনার অনুপস্থিতির কারণ আমরা কেবল অনুমান করতে পারি। কিন্তু নিশ্চয় নাগরিকদের জানার অধিকার আছে যে কীভাবে কার জন্য অর্থ ব্যয় হচ্ছে, কারা এই ধরনের প্রণোদনা থেকে লাভবান হবেন। এই বিষয়ে বিস্তারিত সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হবে এমন আশা না করলেও গণমাধ্যমগুলো আশা করি এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেবে, আলোচনা করবে।
প্রাসঙ্গিকভাবে অন্যান্য দেশে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে সেদিকে নজর দেওয়া যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে গত প্রায় এক সপ্তাহ নিয়ে কংগ্রেসে বিতর্ক হয়েছে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে দুটো বিল পাস করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় ১৪ মার্চ এই বিষয়ে একটি বিল পাস করা হয়েছিলো যাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ১৮ মার্চে সম্মতি দেন। এই বিলের আওতায় মার্কিন নাগরিকরা বিনামূল্যে ভাইরাসের পরীক্ষা করাতে পারবেন, কর্মচারীরা দুই সপ্তাহের সবেতন সিক লিভ বা অসুস্থতাজনিত ছুটি পাবেন, তিন মাস পর্যন্ত বেতনসহ পারিবারিক ও চিকিৎসা ছুটি পাবেন। এতে বেকার ভাতার সুবিধা বাড়ানো হয়েছে, পুষ্টি কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এর প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে যারাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তাদের সাহায্য করা। আজকে তৃতীয় প্যাকেজটি পাস হবে। … ভোর একটা পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধি, রিপাবলিকান সদস্য এবং ডেমোক্রেটদের মধ্যে আলোচনার পরে তারা একমত হয় … দিনের কোনো একসময় দুই ট্রিলিয়ন ডলারের এই বিল পাস হবে। বিতর্কের অন্যতম কারণ ছিলো যে ডেমোক্রেটরা এমন কোনো বিল পাস করতে দিতে রাজি নন যা সাধারণ নাগরিকদের দিকে না তাকিয়ে কেবল ব্যবসায়ী এবং করপোরেশনের দিকে তাকাবে। শেষ পর্যন্ত এই বিলে ব্যবস্থা করা হয়েছে যে ২৫০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে সরাসরি পরিবার এবং সাধারণ মানুষকে দেওয়ার জন্য, ৩৫০ বিলিয়ন ডলার ছোট ব্যবসায়ীদের ঋণ দেওয়ার জন্য, ২৫০ বিলিয়ন ডলার যাবে বেকার ভাতার জন্য। বাকি ৫০০ বিলিয়ন যাবে যে সব কোম্পানি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের জন্য। সবার জন্য, বিশেষ করে সাধারণ নাগরিক ও বেকারদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কংগ্রেসে ডেমোক্রেটরা এক সপ্তাহ ধরে হোয়াইট হাউস এবং রিপাবলিকানদের সঙ্গে বিতর্ক করেছেন। আইনসভার দায়িত্বশীল সদস্যদের প্রচেষ্টায় সাধারণ মানুষের জন্য কার্যত ৫০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হবে। কানাডায় ২৫ মার্চ পার্লামেন্টে বিরোধীদল প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর হাতে ব্যয়ের ক্ষমতা বাড়ানোর সরকারের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। কানাডা সরকার ২৭ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের একটি প্রণোদনা প্রস্তাব করেছে। কিন্তু বিরোধীরা চাইছে প্রধানমন্ত্রীর হাতে যেন অতিরিক্ত ক্ষমতা না থাকে। জবাবদিহির এই ব্যবস্থা আমরা অন্যত্রও দেখছি। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত